বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
অমর ও সমর অন্তরঙ্গ বন্ধু। একদা তারা এক বনের ভিতর দিয়ে যাচ্ছিল। তারা প্রতিজ্ঞা করেছে পথে কোনো বিপদে কেউ কাউকে ছেড়ে যাবে না। বনের মাঝামাঝি আসতেই তারা এক হিংস্র ভালুকের আক্রমণের শিকার হলো। অমর বন্ধুর কথা না ভেবে নিজের প্রাণ বাঁচাতে একটি বৃক্ষের উপর উঠে গেল; কিন্তু সমর গাছে উঠতে পারে না। উপায় না দেখে সে মৃত মানুষের মতো মাটিতে শুয়ে পড়ল। হিংস্র ভালুকটি দৌড়ে এসে সমরের দেহটিকে অনেকক্ষণ নিরীক্ষণ করে অবশেষে মৃতদেহ ভেবে চলে গেল। বিপদমুক্ত ভেবে অমর এবার বৃক্ষ থেকে নামল আর বন্ধু সমরের কাছে জানতে চাইল, ভালুক তার কাকে কানে কী বলে গেছে? সমর গম্ভীর স্বরে উত্তর দিল- 'ধূর্ত ও প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকারীরা চিরকালই শত্রু হয়, বন্ধু হয় না, এই কথাই বলেছে।'
- ক)(1)
নবাব সিরাজউদ্দৌলার পূর্ণ নাম কী?
- খ)(2)
"ওর কাছে সব কিছুই যেন বড় রকেরম জুয়ো খেলা'- কার কাছে, কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সমর চরিত্র কোন বিবেচনায় সিরাজউদ্দৌলা চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
- ঘ)(4)
ধূর্ত ও প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকারীরা চিরকালই শত্রু হয়, বন্ধু হয় না,' 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ও উদ্দীপকের এই বক্তব্যের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়- বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলার পূর্ণ নাম মির্জা মুহম্মদ সিরাজউদ্দৌলা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ সম্পর্কে ওয়াটস ও হলওয়েলের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাইভ চরিত্র সম্পর্কে করা হয়েছে।
ক্লাইভ ছিলেন অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী, ধূর্ত ও সুবিধাবাদী ইংরেজ সেনাপতি। তিনি যেকোনো মূল্যে ইংরেজদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইতেন এবং এ জন্য তিনি নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে চরম ঝুঁকি নিতেন। তাঁর এই অতিমাত্রায় ঝুঁকিপ্রবণ মানসিকতা এবং ভাগ্যকে পুঁজি করে চরম বাজি ধরার স্বভাবের কারণেই তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে— 'ওর কাছে সব কিছুই যেন বড় রকমের জুয়ো খেলা'।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সমর চরিত্রটি নিজের ঘনিষ্ঠ জনের দ্বারা প্রতারিত ও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হওয়ার দিক থেকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজউদ্দৌলা চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর সভাসদ, আত্মীয়স্বজন ও সেনাপতিদের আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেছিলেন। এমনকি বারবার ভুল করা সত্ত্বেও তিনি পবিত্র কুরআন স্পর্শ করিয়ে মীরজাফরদের বিশ্বাস করেছিলেন এবং জাতীয় স্বার্থে এক হয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মীরজাফর, রায়দুর্লভ ও উমিচাঁদের মতো চক্রান্তকারীরা প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে চরম সংকটের সময় তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং তাঁকে একাকী বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।
উদ্দীপকে সমরও তার অন্তরঙ্গ বন্ধু অমরকে বিশ্বাস করে বিপদের মুখে একসাথে থাকার প্রতিজ্ঞা করেছিল। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে অমর নিজের প্রাণ বাঁচাতে একা গাছে উঠে পড়ে এবং সমরকে ভালুকের সামনে চরম বিপদে একাকী ফেলে দেয়। এভাবেই বিশ্বস্ত থেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েও ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হওয়ার বিবেচনায় সমরের পরিণতি নবাব সিরাজউদ্দৌলার অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ধূর্ত ও প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকারীরা চিরকালই শত্রু হয়, বন্ধু হয় না'— উদ্দীপকের এই চরম সত্যটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঐতিহাসিক বাস্তবতায় নিখুঁতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মীরজাফর, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ প্রমুখ নবাব সিরাজউদ্দৌলার অনুগ্রহ লাভ করেও নবাবের সাথে বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিশেষ করে মীরজাফর পবিত্র কুরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ নেওয়া সত্ত্বেও পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের সাথে পূর্বচুক্তি অনুযায়ী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে নবাবের বাহিনীকে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে ঠেলে দেয়। তাদের এই প্রতিজ্ঞাভঙ্গ ও ধূর্ততা প্রমাণ করে যে স্বার্থান্বেষী চক্রান্তকারীরা কখনোই সত্যিকারের বন্ধু বা হিতৈষী হতে পারে না; বরং চরম সংকটেই তাদের শত্রু রূপটি প্রকাশ পায়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, অমর ও সমর প্রতিজ্ঞা করেছিল কেউ কাউকে বিপদে ফেলে যাবে না। কিন্তু হিংস্র ভালুকের আক্রমণের সময় ধূর্ত অমর নিজের প্রতিজ্ঞা ভুলে বন্ধু সমরকে ফেলে একা গাছে উঠে যায়। সমর মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরে এসে উপলব্ধি করে যে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকারী ব্যক্তি কখনো প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না, তারা চিরকালই শত্রু।
সুতরাং, উদ্দীপকের সমরের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে সিরাজের প্রতি মীরজাফরদের চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা— উভয় প্রেক্ষাপটেই প্রমাণিত হয় যে ধূর্ত ও প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকারীরা বন্ধুর মুখোশ পরে থাকলেও তারা প্রকৃতপক্ষে চিরকালীন চরম শত্রু। মন্তব্যটি তাই সম্পূর্ণরূপে সত্য ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও