জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

একটি কোষ বিভাজনের কয়েকটি ধারাবাহিক পর্যায় হচ্ছে, A→B→C→D→ E এর ফলে যে কোষের সৃষ্টি হয় তা মাতৃগুণ সম্পন্ন।

  1. ক)

    বাইভেলেন্ট কী?

    (1)
  2. খ)

    মায়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের C ও D পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য চিত্রসহ লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের উল্লিখিত প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে যে সমস্যা সৃষ্টি হয় তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মায়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ পর্যায়ের জাইগোটিন উপ-পর্যায়ে দুটি হোমোলোগাস (সমসংস্থ) ক্রোমোজোমের জোড় বাঁধাকে সিন্যাপসিস বলে এবং এই জোড়বদ্ধ একজোড়া ক্রোমোজোমকে বাইভেলেন্ট বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মায়োসিস কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াস দুবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজোম মাত্র একবার বিভাজিত হয়। এর ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই মায়োসিস বিভাজনকে হ্রাসমূলক বা রিডাকশনাল বিভাজন বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পর্যায়গুলো হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের পাঁচটি পর্যায়: A = প্রোফেজ, B = প্রো-মেটাফেজ, C = মেটাফেজ, D = অ্যানাফেজ এবং E = টেলোফেজ। নিম্নে C (মেটাফেজ) এবং D (অ্যানাফেজ) পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো:

    ১. C পর্যায় (মেটাফেজ)-এর বৈশিষ্ট্য:
    ক. এ পর্যায়ের শুরুতেই স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে ক্রোমোজোমগুলো অবস্থান নেয় (মেটাকাইনেসিস)।
    খ. ক্রোমোজোমগুলো সবচেয়ে খাটো, মোটা ও স্পষ্ট দেখা যায়।
    গ. প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার বিষুবীয় অঞ্চলে এবং বাহু দুটি মেরুমুখী হয়ে অবস্থান করে।
    ঘ. এ পর্যায়ের শেষ ভাগে সেন্ট্রোমিয়ারের বিভাজন শুরু হয়।
    [পরীক্ষায় মেটাফেজের একটি চিহ্নিত চিত্র আঁকতে হবে, যেখানে স্পিন্ডল তন্তু ও বিষুবীয় অঞ্চলে বিন্যস্ত ক্রোমোজোম দেখানো থাকবে]

    ২. D পর্যায় (অ্যানাফেজ বা গতিপর্যায়)-এর বৈশিষ্ট্য:
    ক. প্রতিটি সেন্ট্রোমিয়ার লম্বালম্বিভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য ক্রোমোজোম তৈরি করে।
    খ. অপত্য ক্রোমোজোমগুলোর মেরু অভিমুখী চলন ঘটে; সেন্ট্রোমিয়ার থাকে অগ্রগামী এবং বাহুদ্বয় থাকে অনুগামী।
    গ. সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ভিত্তিতে ক্রোমোজোমগুলো V (মেটাসেন্ট্রিক), L (সাব-মেটাসেন্ট্রিক), J (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক) বা I (টেলোসেন্ট্রিক) আকৃতি ধারণ করে।
    ঘ. ক্রোমোজোমগুলো মেরুর কাছাকাছি পৌঁছালে এ পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
    [পরীক্ষায় অ্যানাফেজের একটি চিহ্নিত চিত্র আঁকতে হবে, যেখানে অপত্য ক্রোমোজোমগুলোর দুই বিপরীত মেরুমুখী চলন দেখানো থাকবে]

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের উল্লিখিত কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন। মাইটোসিস বিভাজন সাধারণত সুনিয়ন্ত্রিতভাবে সম্পন্ন হয়। এ প্রক্রিয়াটি যদি সঠিকভাবে বা স্বাভাবিক নিয়মে সম্পন্ন না হয়, তবে জীবদেহে বিভিন্ন মারাত্মক সমস্যা ও জটিলতার সৃষ্টি হয়:

    ১. অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন ও টিউমার সৃষ্টি: মাইটোসিস বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিক হারে কোষ বিভাজিত হতে থাকে। এর ফলে কোষে টিউমার (Benign বা Malignant) সৃষ্টি হয়।

    ২. ক্যানসার রোগ সৃষ্টি: অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের কারণে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার থেকে ক্যানসার কোষের উৎপত্তি ঘটে। কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন (যেমন- p53) ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা সাইক্লিন-CDK ব্যবস্থার বিঘ্ন ঘটলে কোষ বিভাজন অব্যাহত থাকে এবং ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে (মেটাস্ট্যাসিস)।

    ৩. বৃদ্ধি ও বিকাশে বাধা: মাইটোসিস সঠিকভাবে না ঘটলে বহুকোষী জীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও শারীরিক গঠন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। অপত্য কোষে ক্রোমোজোম ও সাইটোপ্লাজমের অসম বণ্টন ঘটলে কোষ মারা যেতে পারে।

    ৪. ক্ষত নিরাময়ে ব্যর্থতা: দেহের ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্ষয়প্রাপ্ত কোষগুলো পুনরুৎপাদনের জন্য মাইটোসিস প্রয়োজন। এটি যথাযথভাবে না ঘটলে কোনো ক্ষতস্থান নিরাময় হয় না।

    অতএব, দেখা যায় যে মাইটোসিস কোষ বিভাজন সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে টিউমার, ক্যানসারসহ প্রাণঘাতী বিপর্যয় ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন