সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
সহপাঠ প্রশ্ন
রিকশাচালক সাহেব আলির মেয়ে সালেহা। প্রাইমারির পর পড়া হয়নি তার। বয়স হয়তো ১২ কি ১৩। বড়ই চঞ্চলা। তিন বোনের মধ্যে সে-ই বড়। এক আত্মীয়ের মাধ্যমে একদিন বিয়ের প্রস্তাব আসে সালেহার। ছেলে থাকে বিদেশে, দালানবাড়ি, অনেক টাকার মালিক। তবে শর্ত একটা, “আপাতত মোবাইল ফোনে বিয়ে; ছেলে দেশে ফিরলে বউকে তুলে নেবে ঘরে। যতদিন না ফিরবে ততদিন বউয়ের খরচপত্র বাবদ টাকা পাঠিয়ে দেবে।” এমন প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার উপায় ছিল না দরিদ্র সাহেব আলির। নিয়ম মেনে বিয়ে। তারপর কয়েক বছর পর দেশে ফিরল ছেলে। ছেলের বয়স এখন পঞ্চাশ।
- ক)(1)
‘কাঁদো নদী কাঁদো’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
- খ)(2)
জমিলা কে? সংক্ষেপে তার পরিচয় দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সালেহার সঙ্গে ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলা চরিত্রের বৈসাদৃশ্য তুলে ধর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসেরই ক্ষুদ্র সংস্করণ।” মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘কাঁদো নদী কাঁদো’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি উপন্যাস (বা চেতনাপ্রবাহরীতির উপন্যাস)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জমিলা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী।
জমিলা অল্পবয়সী, চঞ্চল ও প্রাণবন্ত এক কিশোরী। সে মজিদের ধর্মের ভণ্ডামি ও শাসনের মুখে নিজের সহজাত চঞ্চলতা ও অবাধ্যতার মধ্য দিয়ে এক নীরব প্রতিবাদী সত্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সালেহার সঙ্গে ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলা চরিত্রের বৈসাদৃশ্য মূলত তাদের পরিণতি ও ঘটনাপ্রবাহে ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের সালেহা দরিদ্র পিতার মেয়ে। অর্থের প্রলোভন ও দূর প্রবাসে থাকা বিত্তবান ছেলের আশ্বাসে মোবাইলে বিয়ে হলেও শেষ পর্যন্ত বছর কয়েক পর দেখা যায় বরের বয়স পঞ্চাশ বছর। সালেহার জীবনে প্রতারণা প্রকাশ পায় বিয়ের পরিণতিতে বরের বয়সের ব্যবধানের মধ্য দিয়ে এবং এখানে তার প্রতিবাদী কোনো রূপ পরিলক্ষিত হয় না।
পক্ষান্তরে, ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলা অল্প বয়সে প্রথম থেকেই মজিদের মতো এক প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে সশরীরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। জমিলা বিয়ের বিষয়টি আগে থেকেই জানত না ঠিকই, কিন্তু মজিদের ঘরে এসে সে মজিদের ধর্মীয় ভণ্ডামি, অন্ধ অনুশাসন ও নিস্তব্ধতাকে মেনে নেয়নি। সে নামাজ পড়তে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, মজিদের মুখে থুতু দেয় এবং মাজারের খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায়ও মাজারের ওপর নিস্পৃহভাবে পা তুলে দিয়ে নিজের অবাধ্য ও প্রতিবাদী রূপ বজায় রাখে। সালেহার চরিত্রে এমন কোনো সক্রিয় আচরণ বা বিদ্রোহের প্রকাশ নেই, যা জমিলার সঙ্গে তার স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য তৈরি করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসেরই ক্ষুদ্র সংস্করণ।”—মন্তব্যটি আংশিক সত্য হলেও সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে পুরোপুরি যথার্থ নয়।
উদ্দীপকে দরিদ্র পিতার অসহায়ত্ব, অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর সঙ্গে বয়োবৃদ্ধ পুরুষের অসম বিয়ে এবং গ্রামীণ সমাজের সুবিধাবাদী মানসিকতার এক ক্ষুদ্র চিত্র ফুটে উঠেছে। ‘লালসালু’ উপন্যাসেও আমরা দেখি জমিলা নামের এক অল্পবয়সী কিশোরীর সাথে বয়স্ক ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদের অসম বিয়ে সংঘটিত হয়। জমিলাকে মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা মেয়ের স্নেহে গ্রহণ করলেও অসম বয়সের এই দাম্পত্য কখনোই স্বাভাবিক রূপ নেয়নি। এই অসম বিয়ের দিকটি বিবেচনায় নিলে উদ্দীপকের সঙ্গে উপন্যাসের আংশিক মিল পাওয়া যায়।
তবে ‘লালসালু’ উপন্যাসটি কেবল একটি অসম বিয়ের কাহিনী নয়। এটি গ্রামীণ কুসংস্কার, ধর্মভিত্তিক শোষণ, মজিদের মাজারকেন্দ্রিক শাসন, সাধারণ মানুষের অন্ধবিশ্বাস এবং শেষ পর্যন্ত মজিদের বিরুদ্ধে জমিলার মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবাদের এক মহাকাব্যিক চিত্র। উদ্দীপকে কেবল সালেহার দারিদ্র্য ও বয়োবৃদ্ধ প্রবাসীর সাথে বিয়ে হওয়ার ঘটনাই উপস্থাপিত হয়েছে; কিন্তু লালসালুর মতো ধর্মের অপব্যবহার, শোষণের গভীরতা কিংবা মাজার সংস্কৃতির কোনো রূপ উদ্দীপকে স্থান পায়নি।
অতএব, উদ্দীপকটিতে ‘লালসালু’ উপন্যাসের অসম বিয়ের একটি খণ্ডচিত্র ফুটে উঠলেও একে পুরো উপন্যাসের 'ক্ষুদ্র সংস্করণ' বলা সংগত নয়; বরং এটি উপন্যাসের একটি বিশেষ দিকের আংশিক প্রতিচ্ছবি মাত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও