কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বাংলাদেশের কৃষি • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
মাঠ ফসল কী?
- খ)(2)
পরিবেশ সংরক্ষণে সামাজিক বনায়ন গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
চিত্র-১ এ কৃষকরা কীভাবে কৃষির তথ্য ও সেবা পায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিত্র-১ ও চিত্র-২ এর মধ্যে কোনটি অধিক ফলপ্রসূ হবে? তোমার মতামতের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব ফসল সাধারণত খোলা ও বিস্তীর্ণ মাঠে বৃহদাকারে চাষাবাদ করা হয় এবং যাদের প্রতিটি গাছের আলাদা আলাদাভাবে পরিচর্যা করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে (যেমন: ধান, গম, পাট ইত্যাদি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সামাজিক বনায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক বনায়নের ফলে রাস্তার ধার, বাঁধ, পতিত জমি প্রভৃতি স্থানে বৃক্ষরোপণ করা হয়, যা বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ায়। এছাড়া এটি মাটির ক্ষয় রোধ করে, মরুকরণ প্রতিরোধ করে এবং ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা কমিয়ে সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় প্রত্যক্ষ অবদান রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্র-১ এ কৃষকদের 'কৃষক মাঠ স্কুল' বা দলগত পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষি তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা) এবং বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্ট এলাকার ২৫-৩০ জন কৃষককে নিয়ে একটি দল বা স্কুল গঠন করেন। এই মাঠ স্কুলে কোনো শ্রেণিকক্ষের কৃত্রিম পরিবেশ ছাড়াই সরাসরি ফসলের মাঠে কৃষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়। এখানে কৃষকরা নিজেদের মধ্যে এবং অভিজ্ঞ কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সুষম সার প্রয়োগ, সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা (IPM) এবং নতুন জাত সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক তথ্য ও পরামর্শ লাভ করেন। ফলে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমে কৃষকরা নির্ভুল তথ্য ও বাস্তবমুখী সেবা পেয়ে থাকেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিত্র-১ (কৃষক মাঠ স্কুল/দলগত যোগাযোগ) এবং চিত্র-২ (আইসিটি/ডিজিটাল কৃষি তথ্য সেবা)-এর মধ্যে আধুনিক কৃষির দ্রুত উন্নয়ন ও সার্বিক দিক বিবেচনায় চিত্র-২ এর আইসিটি ভিত্তিক তথ্যসেবা অধিক ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি।
নিম্নে এর স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. দ্রুত ও তাৎক্ষণিক তথ্য প্রাপ্তি: চিত্র-২ অনুযায়ী ইন্টারনেট, মোবাইল ও ল্যাপটপের মাধ্যমে কৃষক ঘরে বসেই যেকোনো রোগবালাই, আবহাওয়ার পূর্বাভাস বা বাজারদর সংক্রান্ত সঠিক তথ্য মুহূর্তেই পেতে পারেন। পক্ষান্তরে চিত্র-১ এ মাঠ স্কুল আয়োজন সময়সাপেক্ষ এবং নিয়মিত পরিচালনা করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন।
২. ব্যাপক বিস্তার: বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ কৃষকের কাছে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তার সশরীরে পৌঁছানো অসম্ভব। কিন্তু ডিজিটাল কৃষি সেবার (যেমন- কৃষি কল সেন্টার, বিভিন্ন কৃষি অ্যাপ) মাধ্যমে স্বল্প সময়ে সারা দেশের বিপুল সংখ্যক কৃষকের নিকট একই সাথে তথ্য পৌঁছে দেওয়া যায়।
৩. ব্যয় ও সময় সাশ্রয়ী: সরাসরি বিশেষজ্ঞদের কাছে না গিয়েও কৃষক ছবি পাঠিয়ে বা ভিডিও কলের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সমাধান পেতে পারেন, যা সময় ও খরচ দুটোই কমায়।যদিও চিত্র-১ এর মাধ্যমে কৃষকরা হাতে-কলমে বাস্তব প্রশিক্ষণ পান যা খুবই কার্যকর, তবে বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যা, দ্রুত তথ্য রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে চিত্র-২ এর আইসিটি ভিত্তিক তথ্যসেবাই সামগ্রিকভাবে অধিক ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও