জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দ্বিস্তরী প্রাণীদের দেহে বিশেষ এক ধরনের কোষ থাকে যার অভ্যন্তরে প্যাঁচানো সুতাযুক্ত থলের ন্যায় একটি অঙ্গাণু থাকে এবং প্রাণীদের অভ্যন্তরে ভিন্ন প্রজাতিভুক্ত এক ধরনের সবুজ জীব ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থান করে।
- ক)(1)
মেসোগ্লিয়া কী?
- খ)(2)
ভেনাস হার্ট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গাণুর প্রকারভেদ বর্ণনা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের জীব দুটির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের দ্বিস্তরী দেহপ্রাচীরের এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মধ্যবর্তী জেলির মতো অকোষীয় ও স্থিতিস্থাপক স্তরকে মেসোগ্লিও (Mesoglea) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে হৃদপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কেবল ডিঅক্সিজেনেটেড বা কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত (CO₂) রক্ত প্রবাহিত হয়, তাকে ভেনাস হার্ট (Venous heart) বা শিরা হৃদপিণ্ড বলে। মাছের হৃদপিণ্ড হলো ভেনাস হার্ট। মাছের দ্বিপ্রকোষ্ঠী হৃদপিণ্ডে অক্সিজেনবিহীন রক্ত সারা শরীর থেকে এসে হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে এবং হৃৎপিণ্ড থেকে ফুলকায় পরিশোধনের জন্য প্রেরিত হয়, এতে কখনোই অক্সিজেনযুক্ত রক্ত প্রবাহিত হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্যাঁচানো সুতাযুক্ত থলের ন্যায় অঙ্গাণুটি হলো নিডোসাইট কোষে অবস্থিত নিমাটোসিস্ট (Nematocyst)। বিজ্ঞানী ভার্নার (Werner, ১৯৬৫)-এর মতে নিডারিয়া পর্বে প্রায় ৩০ ধরনের নিমাটোসিস্ট পাওয়া যায়। হাইড্রা (Hydra)-র দেহে চার ধরনের নিমাটোসিস্ট দেখা যায়:
১. স্টেনোটিল বা পেনিট্র্যান্ট (Stenotele or Penetrant): এটি সবচেয়ে বড় আকারের নিমাটোসিস্ট। এর সূত্রকটি লম্বা, ফাঁপা এবং অগ্রভাগে উন্মুক্ত। সূত্রকের গোড়ায় তিনটি বড় ধারালো বার্ব এবং তিন সারি ক্ষুদ্র বার্বিউল থাকে। এর ভেতরের বিষাক্ত তরলকে হিপনোটক্সিন বলে, যা শিকারকে অবশ করে।
২. ভলভেন্ট বা ডেসমোনিম (Volvent or Desmoneme): এটি ছোট ও নাশপাতি আকৃতির। এর সূত্রকটি খাটো, পুরু, স্থিতিস্থাপক, কাঁটাবিহীন এবং বন্ধ। এটি কর্ক-স্ক্রুর মতো প্যাঁচানো অবস্থায় থেকে শিকার বা বস্তুকে পেঁচিয়ে আঁকড়ে ধরতে সাহায্য করে।
৩. স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট বা হলোট্রাইকাস আইসোরহাইজা (Streptoline glutinant or Holotrichous isorhiza): এর সূত্রকটি লম্বা, সর্পিলাকার এবং এর সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য জুড়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাঁটা বা স্পাইন থাকে। এটি আঠালো রস ক্ষরণ করে শিকার ও বস্তুকে আটকে রাখতে সাহায্য করে।
৪. স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট বা অ্যাট্রাইকাস আইসোরহাইজা (Stereoline glutinant or Atrichous isorhiza): এটি সবচেয়ে ক্ষুদ্র নিমাটোসিস্ট। এর সূত্রকটি লম্বা, সরু এবং সম্পূর্ণ কাঁটাবিহীন। এটিও আঠালো ক্ষরণ তৈরি করে চলন ও শিকার আটকে রাখতে সাহায্য করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিস্তরী প্রাণীটি হলো সবুজ হাইড্রা (Chlorohydra viridissima) এবং এর অভ্যন্তরে সহাবস্থানকারী সবুজ রঙের জীবটি হলো জুওক্লোরেলা (Zoochlorella) নামক এককোষী সবুজ শৈবাল। এদের মধ্যে পারস্পরিক মিথোজীবিতা (Mutualism) বিদ্যমান। শৈবাল ও হাইড্রা পরস্পরের ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নির্ভরশীল এবং উভয়েই এই সহাবস্থান থেকে উপকৃত হয়।
শৈবাল কর্তৃক প্রাপ্ত উপকারিতা:
১. আশ্রয় লাভ: শৈবাল হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মিসের পেশি-আবরণী কোষের ভেতরে নিরাপদে বসবাস ও বংশবৃদ্ধি করে।
২. সালোকসংশ্লেষণের কাঁচামাল প্রাপ্তি: হাইড্রার শ্বসনে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) শৈবাল সালোকসংশ্লেষণের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে।
৩. নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য ব্যবহার: হাইড্রার বিপাকীয় কার্যাবলীর ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ শৈবাল আমিষ তৈরির কাজে ব্যবহার করে।হাইড্রা কর্তৃক প্রাপ্ত উপকারিতা:
১. খাদ্য প্রাপ্তি: শৈবাল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় যে অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে, হাইড্রা তা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
২. অক্সিজেন সরবরাহ: শৈবালের সালোকসংশ্লেষণে উপজাত হিসেবে নির্গত অক্সিজেন হাইড্রার শ্বসনকাজে ব্যবহৃত হয়।
৩. বর্জ্য অপসারণ: হাইড্রার দেহের বিপাকীয় বর্জ্য (CO₂ ও নাইট্রোজেনঘটিত পদার্থ) শৈবাল গ্রহণ করায় হাইড্রার দেহ সহজেই বর্জ্যমুক্ত ও বিষমুক্ত থাকে।সুতরাং, দেখা যায় যে শৈবাল ও হাইড্রা কেউ কারও ক্ষতি না করে একে অপরকে সাহায্য করে পারস্পরিক জৈবিক সুবিধার মাধ্যমে জীবনধারণ করে। অতএব, এদের মধ্যকার সম্পর্কটি হলো একটি আদর্শ মিথোজীবিতা (Mutualism)।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও