যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

শুকান্ত ভট্টাচার্য সুগন্ধা নদীর পাড়ে ঝালকাঠী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খুব বুদ্ধিমান ও সৃজনশীল কবি ছিলেন।

  1. ক)

    পরফিরির মতে বিধেয়ক কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    নঞর্থক যুক্তিবাক্যে বিধেয়ক থাকে না কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথমবাক্যটিতে কোন ধরনের বিধেয়কের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিধেয়কের আলোকে উদ্দীপকের শেষ বাক্যে উল্লিখিত গুণগুলোর প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দার্শনিক পরফিরির (Porphyry) মতে বিধেয়ক পাঁচ প্রকার। যথা: জাতি, উপজাতি, লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ, উপলক্ষণ এবং অবান্তর লক্ষণ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিধেয়ক হলো কোনো সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার সম্পর্কের স্বরূপ। নঞর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যে কোনো সম্বন্ধ বা সম্পর্ক স্থাপন করা হয় না, বরং তাদের মধ্যকার সম্পর্ককে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার বা বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিধেয়ক যেহেতু উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের পারস্পরিক ইতিবাচক সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাই সম্পর্ক অস্বীকার করার কারণে নঞর্থক যুক্তিবাক্যে বিধেয়ক থাকে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম বাক্যটিতে "অবান্তর লক্ষণ" (Accident)-এর ইঙ্গিত রয়েছে।

    যে গুণ কোনো পদের জাত্যর্থ নয় এবং জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃতও হয় না, অথচ উদ্দেশ্য পদের সাথে সংযুক্ত থাকে, তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে। আবার কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষেত্রে যে অবান্তর লক্ষণটি অপরিবর্তনযোগ্যভাবে জড়িত থাকে, তাকে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলা হয়।

    উদ্দীপকের প্রথম বাক্যে বলা হয়েছে, "শুকান্ত ভট্টাচার্য সুগন্ধা নদীর পাড়ে ঝালকাঠী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।" এখানে 'ঝালকাঠী শহরে জন্মগ্রহণ করা' গুণটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জাত্যর্থ নয় এবং জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃত কোনো গুণও নয়। এটি তাঁর একটি অবান্তর লক্ষণ। যেহেতু একজন ব্যক্তির জন্মস্থান কখনোই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তাই এটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যে উল্লিখিত গুণগুলো হলো "বুদ্ধিমান" এবং "সৃজনশীল কবি"। বিধেয়কের আলোকে এ গুণগুলোর প্রকৃতি যথাক্রমে 'লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ' ও 'অবান্তর লক্ষণ'।

    যুক্তিবিদ্যায় যে গুণ কোনো শ্রেণির জাত্যর্থের অংশ এবং যা সমজাতীয় অন্যান্য উপজাতি থেকে তাকে পৃথক করে, তাকে লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ বলে। যেমন, মানুষ পদের মূল লক্ষণ হলো 'বুদ্ধিবৃত্তি'। উদ্দীপকে সুকান্ত ভট্টাচার্যের "বুদ্ধিমান" গুণটি মানুষের মৌলিক বিভেদক লক্ষণের প্রকাশ, যা মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা করে।

    অন্যদিকে, যে গুণ জাত্যর্থের অংশ নয় এবং জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃতও হয় না, তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে। উদ্দীপকে উল্লিখিত "সৃজনশীল কবি" গুণটি মানুষের জাত্যর্থের আবশ্যিক অংশ নয়; কারণ সব মানুষ কবি হন না এবং কবি না হয়েও মানুষ হওয়া যায়। এটি একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে অর্জিত এবং পরিবর্তনশীল একটি গুণ। সুতরাং এটি "ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ"-এর অন্তর্ভুক্ত।

    অতএব, বিধেয়কের দৃষ্টিকোণ থেকে শেষ বাক্যের 'বুদ্ধিমান' গুণটি হলো বিভেদক লক্ষণ এবং 'সৃজনশীল কবি' গুণটি হলো ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন