পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
'Kratia' কী ধরনের শব্দ?
- খ)(2)
কোন ধরনের সরকারব্যবস্থায় সরকারের জবাবদিহিতা বেশি? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
ক' চিহ্নিত স্থানের বিভাগটির কাজ বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার উপায়গুলো বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Kratia' একটি গ্রিক শব্দ (যার অর্থ শাসন বা ক্ষমতা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংসদীয় বা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থায় সরকারের জবাবদিহিতা সবচেয়ে বেশি।
সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তার যাবতীয় নীতি ও কাজের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আইনসভার (সংসদের) কাছে দায়বদ্ধ থাকে। আইনসভার সদস্যরা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, নিন্দাপ্রস্তাব, মূলতবি প্রস্তাব এবং অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে শাসন বিভাগ তথা মন্ত্রীপরিষদকে নিয়ন্ত্রণ করেন। আইনসভার আস্থা হারালে সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়। ফলে এ ব্যবস্থায় সরকারের প্রতিটি কাজের কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকে সরকারের তিনটি মৌলিক অঙ্গের মধ্যে দুটি হলো আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ। অতএব, 'ক' চিহ্নিত স্থানের বিভাগটি হলো বিচার বিভাগ।
বিচার বিভাগের প্রধান কাজগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে দেওয়ানি, ফৌজদারি ইত্যাদি যাবতীয় বিরোধ নিষ্পত্তি করা এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বিচার বিভাগের মূল কাজ।
২. আইনের ব্যাখ্যা প্রদান: আইনের অস্পষ্টতা দূর করা এবং বাস্তব ক্ষেত্রে তার সঠিক অর্থ ও প্রয়োগ নির্ধারণ করে বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করে।
৩. সংবিধান রক্ষা: বিচার বিভাগ সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন বা শাসন বিভাগের কোনো আদেশ সংবিধানবিরোধী হলে বিচার বিভাগ বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার (Judicial Review) মাধ্যমে তা বাতিল ঘোষণা করতে পারে।
৪. মৌলিক অধিকার রক্ষা: বিচার বিভাগ নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের অতন্দ্র প্রহরী। নাগরিকদের অধিকারে হস্তক্ষেপ ঘটলে বিচার বিভাগ রিট জারি করে তা রক্ষা করে।
৫. পরামর্শমূলক ও প্রশাসনিক কাজ: অনেক দেশে সংবিধান বা আইনগত কোনো জটিল বিষয়ে রাষ্ট্রপ্রধানকে আইনি পরামর্শ প্রদান এবং নিজ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের কাজ বিচার বিভাগ করে থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত বিভাগটি হলো বিচার বিভাগ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র রক্ষা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করা অপরিহার্য।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার প্রধান উপায়গুলো নিম্নরূপ:
১. বিচারক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি: বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে হবে। উচ্চতর যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন বা সাংবিধানিক নীতিমালার অধীনে বিচারক নিয়োগ দিতে হবে।
২. চাকুরির উপযুক্ত স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা: বিচারকদের কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ কোনো গুরুতর অসদাচরণ বা অক্ষমতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সহজে পদচ্যুত করা যাবে না। অভিশংসন বা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মতো নিরপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারণের বিধান থাকতে হবে।
৩. পর্যাপ্ত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা: বিচারকদের উপযুক্ত ও সম্মানজনক বেতন, ভাতা এবং পেনশন প্রদান করতে হবে, যাতে তারা আর্থিক প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কার্যকালে তাঁদের স্বার্থহানিকরভাবে বেতন-ভাতা কমানো যাবে না।
৪. শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ: বিচার বিভাগকে নির্বাহী বা শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করতে হবে। অধস্তন আদালতসমূহের পদোন্নতি, বদলি এবং শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পরিচালিত হওয়া উচিত।
৫. বিচারকার্যে হস্তক্ষেপ না করা: বিচারকদের রায় প্রদান বা আইনি কার্যকলাপে সরকার বা অন্য কোনো মহলের অযাচিত হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকতে হবে। আদালত অবমাননার জন্য শাস্তির পর্যাপ্ত বিধান বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সুদৃঢ় করে।পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বিচার বিভাগ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও