পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
মজলুম জননেতা নামে খ্যাত কোন নেতা?
- খ)(2)
নওয়াব আব্দুল লতিফ কে বাংলা স্যার সৈয়দ আহমেদ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নেতার মিল খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ইঙ্গিত নেতা মূলত গণমানুষের নেতা- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ‘মজলুম জননেতা’ নামে খ্যাত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্যার সৈয়দ আহমদ খান যেমন আলীগড় আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতের মুসলমানদের আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ও সচেতন করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন, তেমনি নওয়াব আবদুল লতিফ বাংলায় মুসলমানদের কুসংস্কার দূর করে আধুনিক ইংরেজি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৮৬৩ সালে তিনি 'মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করে মুসলিম সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেন। বাংলায় মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক জাগরণে তাঁর এই অনন্য অবদানের জন্য তাঁকে 'বাংলার স্যার সৈয়দ আহমদ' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের মহান নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সাদৃশ্য রয়েছে।
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক আজীবন কৃষক-প্রজা ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করেছেন। তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে ১৯৩৮ সালে 'বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন' সংশোধন এবং 'বঙ্গীয় কৃষি খাতক আইন' পাস করেন, যা বাংলার নিপীড়িত কৃষককুলকে মহাজনি ঋণের হাত থেকে রক্ষা করে তাদের জমির মালিকানা নিশ্চিত করে। এছাড়া তিনি শিক্ষা বিস্তারে অসংখ্য স্কুল, কলেজ (যেমন কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ, চাকুরের চাখার ফজলুল হক কলেজ, ঢাকার ইডেন কলেজ ইত্যাদি) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক এবং নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি ও পরবর্তীতে কৃষক প্রজা পার্টির মাধ্যমে কৃষক ও মধ্যবিত্তের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো—‘কৃষককূলের মুক্তির অগ্রদূত’, ‘শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান’ এবং ‘ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ বিকাশ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক’—সরাসরি শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মকাণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন মূলত গণমানুষের নেতা—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
বাংলার রাজনীতিতে শেরে বাংলা ছিলেন সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের অকৃত্রিম সঙ্গী। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্যই ছিল শোষিত, বঞ্চিত কৃষক ও সাধারণ প্রজা শ্রেণির ভাগ্য পরিবর্তন করা।
১. কৃষক ও ঋণী মানুষের মুক্তি: তিনি মহাজনদের শোষণ থেকে কৃষকদের বাঁচাতে 'ঋণ সালিশি বোর্ড' গঠন করেন। এর মাধ্যমে বাংলার লাখ লাখ নিরক্ষর ও ঋণগ্রস্ত কৃষক ভিটেমাটি হারানো থেকে রক্ষা পায়। প্রজাস্বত্ব আইনের সংস্কার করে তিনি কৃষকের ওপর জমিদারের অন্যায় উচ্ছেদ বন্ধ করেন।
২. গণশিক্ষা বিস্তার: সাধারণ মানুষের মুক্তির জন্য শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেন এবং বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
৩. অসাম্প্রদায়িক জননেতা: তিনি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন না; হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বাংলার সব দরিদ্র-সাধারণ মানুষ তাঁকে আপনজন মনে করত। তাঁর দল 'কৃষক প্রজা পার্টি' ছিল একটি সার্বজনীন গণসংগঠন।এভাবে জমিদারি ও মহাজনি শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম এবং আপামর মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির জন্য কাজ করার কারণেই তিনি 'শেরে বাংলা' বা 'বাংলার বাঘ' উপাধিতে ভূষিত হন। সুতরাং, তিনি নিছক কোনো ক্ষমতার রাজনীতিক ছিলেন না, বরং ছিলেন সত্যিকার অর্থেই গণমানুষের নেতা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও