ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

বরিশালের ব্যবসায়ী জনাব শিপন খুলনার সরবরাহকারী জনাব রাব্বিকে ১০ (দশ) লক্ষ টাকার একটি চেক দেন। জনাব রাব্বি চেকটি ভার ব্যাংক হিসাবে ২০২১ সালের ১৬ই জুলাই জমা দিতে যায়, কিন্তু ব্যাংক টাকা দিতে অপারগতা জানায়। কারণ চেকটির ইস্যুর তারিখ ছিল ২০২১ সালের জানুয়ারির ৫ তারিখ।

  1. ক)

    হুকুম চেক কী?

    (1)
  2. খ)

    চেকের অনুমোদন প্রয়োজন হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত চেকটির টাকা দিতে ব্যাংকের অপারগতার কারণ বিশ্লেষণ কর।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব রাব্বি তার প্রাপ্য টাকা আদায় করতে সক্ষম হবেন কিনা? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে চেকের অর্থ চেকের উল্লিখিত ব্যক্তি বা তার আদেশানুসারে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিশোধের নির্দেশ থাকে, তাকে হুকুম চেক (Order Cheque) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হুকুম চেকের মালিকানা ও অর্থ আদায়ের অধিকার আইনসম্মতভাবে অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করার জন্য চেকের অনুমোদন (Endorsement) প্রয়োজন হয়।

    হুকুম চেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ থাকে। ওই নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ ব্যাংকের কাউন্টার বা হিসাবের মাধ্যমে অর্থ তুলতে চাইলে চেকে উল্লিখিত ব্যক্তির স্বাক্ষর বা অনুমোদনের মাধ্যমে সেই অধিকার অন্য ব্যক্তিকে প্রদান করতে হয়। অনুমোদন ছাড়া ব্যাংক অননুমোদিত ব্যক্তিকে হুকুম চেকের অর্থ পরিশোধ করে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত চেকটির টাকা দিতে ব্যাংকের অপারগতার মূল কারণ হলো চেকটি ছিল একটি বাসি বা মেয়াদোত্তীর্ণ চেক (Stale Cheque)।

    সাধারণত ব্যাংকিং আইন ও প্রথা অনুযায়ী কোনো চেক ইস্যুর তারিখ হতে পরবর্তী ৬ মাস (বা ১৮০ দিন) পর্যন্ত এর মেয়াদ বা বৈধতা থাকে। চেক ইস্যুর পর নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে তা ব্যাংকে উপস্থাপিত না হলে সেই চেকটিকে বাসি বা মেয়াদোত্তীর্ণ চেক বলা হয় এবং ব্যাংক এর অর্থ পরিশোধে বাধ্য থাকে না।

    উদ্দীপকে ব্যবসায়ী জনাব শিপন খুলনার জনাব রাব্বিকে ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি তারিখে চেকটি ইস্যু করেন। কিন্তু জনাব রাব্বি চেকটি নিজের হিসাবে জমা দিতে যান ২০২১ সালের ১৬ই জুলাই। অর্থাৎ চেকটি ইস্যুর তারিখ (৫ জানুয়ারি ২০২১) থেকে উপস্থাপন তারিখের (১৬ জুলাই ২০২১) মধ্যে ৬ মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। ফলে চেকটির কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ায় ব্যাংক এর অর্থ পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, জনাব রাব্বি কিছু আইনগত ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে তার প্রাপ্য ১০ লক্ষ টাকা আদায় করতে সক্ষম হবেন।

    চেক মেয়াদোত্তীর্ণ বা বাসি হওয়ার কারণে ব্যাংক টাকা না দিলেও মূল দেনা বা পাওনা বিলুপ্ত হয়ে যায় না। ব্যাংক শুধু নির্দিষ্ট নিয়মের কারণে বাসি চেকের বিপরীতে অর্থ প্রদান করেনি।

    উদ্দীপকে জনাব রাব্বি সরবরাহকারী হিসেবে জনাব শিপনের কাছে ১০ লক্ষ টাকা পাবেন এবং এর বিপরীতে চেকটি দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু চেকটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে, তাই জনাব রাব্বি নিচের যেকোনো একটি উপায়ে তার পাওনা আদায় করতে পারেন:
    ১. জনাব শিপনের সাথে যোগাযোগ করে চেকের তারিখ পুনঃলিখন (Revalidation) ও পূর্ণ স্বাক্ষর গ্রহণ করে তা ব্যাংকে পুনরায় জমা দিতে পারেন।
    ২. জনাব শিপন থেকে পূর্বের বাসি চেকের বিপরীতে একটি নতুন ফ্রেশ চেক গ্রহণ করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে পারেন।
    ৩. যদি জনাব শিপন নতুন চেক বা তারিখ পরিবর্তন করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে জনাব রাব্বি চুক্তিনামা, পণ্য সরবরাহের চালান ও প্রমাণপত্র সাপেক্ষে আইনের আশ্রয় নিয়ে পাওনা অর্থ আদায় করতে পারবেন।

    সুতরাং, চেকটির মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও যথাযথ যোগাযোগ বা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জনাব রাব্বির পক্ষে তার প্রাপ্য টাকা আদায় করা পুরোপুরি সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন