বাংলা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
10.
(ক) সারাংশ লেখ:দুঃখ যত প্রবলভাবে মানুষের মনে আঘাত করে, সুখ ততটা করে না। সুখকে কোনো কোনো লোকে যত নিস্পৃহভাবে গ্রহণ করতে পারে, চেষ্টা করলেও দুঃখকে তত সহজে মনের গোপনে লুকিয়ে রাখতে পারে না। এ জন্য জীবনে দুঃখের মূল্য বড় বেশি। আগে দুঃখ পেতে হবে, তবেই সমস্ত অনুভূতি সজাগ ও তীক্ষ্ণ হবে। ভুল করে যে দুঃখ পায়, তাহার ভুল করা সার্থক। আর ভুল করলেও যে নির্বিকার, আত্ম-বিচার যার নাই-তার কাছে সত্য-মিথ্যা, পাপ-পুণ্য, অর্থশূন্য শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়। ব্যক্তিগত জীবনে ভুলের সবচেয়ে বড় সার্থকতা এখানে যে, ভুল মানুষকে দুঃখ ও অনুশোচনার আগুনে পুড়িয়ে তাকে বিশুদ্ধ করে তোলে এবং মনুষ্যত্ব সাধনের দিকে অনেক দূর অগ্রসর করে দেয়।অথবা,(খ) ভাব-সম্প্রসারণ কর:"প্রয়োজনে যে মরিতে প্রস্তুত, বাঁচিবার অধিকার তাহারই।"
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) এর উত্তর:
সারাংশ:
মানবজীবনে দুঃখের আঘাত গভীর ও স্থায়ী; তাই তা গোপন রাখা সম্ভব হয় না। দুঃখ মানুষের চেতনা ও অনুভূতিকে শাণিত করে এবং ভুলের আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে মানুষকে পাপ-পুণ্যের প্রকৃত অর্থ বোঝায়। অনুশোচনা ও দুঃখের আগুনে পুড়ে মানুষ খাঁটি হয়ে ওঠে এবং তার মধ্য দিয়েই মনুষ্যত্ববোধ পূর্ণতা লাভ করে।
অথবা,
(খ) এর উত্তর:
ভাব-সম্প্রসারণ:
"প্রয়োজনে যে মরিতে প্রস্তুত, বাঁচিবার অধিকার তাহারই।"
মূলভাব: জীবন কোনো নিষ্ক্রিয় বা ভীরু অস্তিত্বের নাম নয়; বরং অন্যায়, অবিচার ও সংকটের মুখে আত্মত্যাগের প্রস্তুতিই জীবনের যথার্থ অর্থ ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে।
সম্প্রসারিত ভাব: মানবজীবন কেবল দিনাতিপাত বা জৈবিক অস্তিত্ব রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি অর্থপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য প্রয়োজন আত্মমর্যাদা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস। কাপুরুষরা বাঁচার মোহে নতজানু হয়ে বেঁচে থাকে, যা প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুরই নামান্তর। সংকটে, দেশের প্রয়োজনে বা সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় যিনি হাসিমুখে নিজের জীবন বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকেন, তিনিই প্রকৃতপক্ষে বেঁচে থাকার অধিকার অর্জন করেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আত্মোৎসর্গকারী বীরদের রক্তের বিনিময়েই পৃথিবীতে স্বাধীনতা, সাম্য ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদ প্রাণের মায়া ত্যাগ করেছিলেন বলেই বাঙালি জাতি আজ স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার গৌরব ও অধিকার লাভ করেছে। যে ব্যক্তি আত্মবিসর্জনে ভীত, সে পরাধীনতা ও অপমানের গ্লানি বহন করে বেঁচে থাকে। পক্ষান্তরে, যে চরম ত্যাগের জন্য প্রস্তুত, সে-ই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা উপলব্ধি করতে পারে।
মন্তব্য: জীবনের সত্য ও সম্মান রক্ষা করতে হলে আত্মত্যাগের মানসিকতা থাকতে হয়। সুতরাং, মৃত্যুর ভয় জয় করে ন্যায়ের পথে জীবন উৎসর্গ করার সংকল্পই মানুষকে পৃথিবীতে অমর ও প্রকৃত বেঁচে থাকার অধিকারী করে তোলে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও