বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভবানীপুর গ্রামের ফকির বাড়ি থেকে মিলিটারিরা দশম শ্রেণির ছাত্র মনিরকে তুলে নিয়ে যায়। শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে তারা মনিরের মুক্তিযোদ্ধা পিতার সন্ধান চায়। ক্ষত-বিক্ষত হয়েও মনির নীরব থাকে। মনে পড়ে বাবার শেষ উপদেশ, "জীবনের চেয়ে দেশ অনেক বড়"। নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মনে করায় তার বুক ফুলে উঠে।
- ক)(1)
নুরুল হুদা কোন বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন?
- খ)(2)
"এগুলো হলো পাকিস্তানের শরীরের কাঁটা।"-বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ছাত্র মনির 'রেইনকোট' গল্পের কোন চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়। আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে।"তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নুরুল হুদা কেমিস্ট্রি বা রসায়ন বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"এগুলো হলো পাকিস্তানের শরীরের কাঁটা"—কথাটি দ্বারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের দৃষ্টিতে শহীদ মিনারকে পাকিস্তানের অখণ্ডতার জন্য হুমকি বা শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করার মানসিকতা বোঝানো হয়েছে।
'রেইনকোট' গল্পে মিলিটারিরা শহীদ মিনার গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে লালসালু দিয়ে ঢেকে লিখে রেখেছিল 'মসজিদ'। অধ্যক্ষ ড. আফাজ আহমদের মতে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হলো পাকিস্তানের অস্তিত্বের জন্য এক বড় হুমকি বা কাঁটাস্বরূপ। কারণ শহীদ মিনার ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা ও স্বাধিকার আন্দোলনের প্রধান প্রতীক, যা পাকিস্তানিদের শোষণ ও শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শক্তি জোগাত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছাত্র মনির 'রেইনকোট' গল্পের মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু এবং প্রধান চরিত্র নুরুল হুদার পরিবর্তিত দেশপ্রেমিক রূপের সঙ্গে তুলনীয়, বিশেষ করে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের মুখে অবিচল থাকার দিক থেকে সে নুরুল হুদার সঙ্গে গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'রেইনকোট' গল্পে নিরীহ ও ভীতু প্রকৃতির শিক্ষক নুরুল হুদাকে মিলিটারিরা ধরে নিয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তার শ্যালক মিন্টুর তথ্য জানার জন্য। চরম শারীরিক নির্যাতন ভোগ করেও মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে নুরুল হুদার ভেতর এক অভাবনীয় সাহসের সঞ্চার হয়। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো সন্ধান না দিয়ে বরং নিজের মধ্যে দেশপ্রেম ও বীরত্ব অনুভব করেন এবং নির্যাতনেও নীরব থাকেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, দশম শ্রেণির ছাত্র মনিরকে পাকিস্তানি মিলিটারিরা ধরে নিয়ে গিয়ে বাবার সন্ধান চেয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। কিন্তু বাবার উপদেশ "জীবনের চেয়ে দেশ অনেক বড়" মনে করে মনির ক্ষত-বিক্ষত হয়েও নীরব থাকে এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে গর্ববোধ করে। অকুতোভয় দেশপ্রেম ও শত্রুর নির্যাতনের সামনে মাথানত না করার এই বৈশিষ্ট্যের কারণে মনিরের চরিত্রটি রেইনকোট গল্পের নুরুল হুদার রূপান্তরিত রূপের সাথে তুলনীয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে"—মন্তব্যটি যথার্থ।
'রেইনকোট' গল্পের মূলভাব হলো অবরুদ্ধ বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে সঞ্চারিত হওয়া দেশপ্রেম, প্রতিরোধ চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব। পাকিস্তানি হানাদারদের ভয় ও ত্রাসকে জয় করে সাধারণ মানুষ কীভাবে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে একাত্ম হয়েছিল এবং দেশপ্রেমের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে চরম আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল, তাই গল্পটিতে চমৎকারভাবে চিত্রিত হয়েছে। ভীতু শিক্ষক নুরুল হুদা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীক 'রেইনকোট' পরে প্রচণ্ড নির্যাতনের মাঝেও অটল থাকেন এবং অন্তরে স্বাধীনতা ও প্রতিবাদের উষ্ণতা অনুভব করেন।
উদ্দীপকের মনিরও একজন সাধারণ কিশোর হওয়া সত্ত্বেও বাবার দেশপ্রেমের আদর্শকে ধারণ করেছে। পাকিস্তানি মিলিটারিদের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েও সে বাবার গোপন তথ্য প্রকাশ করেনি। বরং নিজের জীবনের চেয়ে দেশকে বড় মনে করে চরম যন্ত্রণা সহ্য করেও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে গর্ব অনুভব করেছে।
সুতরাং দেখা যায়, ভয়কে জয় করে আত্মত্যাগের মহিমায় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার যে অপরাজেয় চেতনা 'রেইনকোট' গল্পের মূল প্রতিপাদ্য, উদ্দীপকের মনিরের মনোভাব ও আচরণের মধ্য দিয়ে ঠিক সেই মূলভাবটিই অত্যন্ত সার্থকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও