বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের মানুষেরা নিত্যই অভাব-অনটন নিয়ে বসবাস করে। দিনের পর দিন আসে কিন্তু হতভাগ্য এ অঞ্চলের মানুষদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন আসে না। বৎসরান্তে তিস্তার অপ্রতিরোধ্য ভাঙন মানুষকে আরও বেশি অসহায়, নিঃস্ব করে ফেলে। শস্যহীন মানুষগুলো ক্ষুধা-তৃষ্ণা, রোগ-শোক, শিশুর আর্তচিৎকার, সব মিলে আনন্দহীন এক মানবেতর জীবন অতিবাহিত করে। এদের মধ্যে সলেমান ব্যতিক্রম। সে সাহসী, সংগ্রামী ও কূটবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। সলেমান উত্তরবঙ্গে কৃষিসমৃদ্ধ একটি গ্রামে কবিরাজি ব্যবসায় শুরু করে। গাছ-পালার শিকড়-বাকর ও তাবিজ-কবজ বিক্রি করে সে বিপুল অর্থ ও সম্মান অর্জন করে। সরল গ্রামবাসী তাকে 'জ্বিনের বাদশা' মনে করে।
- ক)(1)
'তোয়াক্কল' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
“খোলোয়াড় চলে গেছে, খেলবে কার সাথে?"-কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সলেমান 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষ 'লালসালু' উপন্যাসের 'শস্যহীন জনবহুল' অঞ্চলের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়"-উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'তোয়াক্কল' শব্দের অর্থ হলো নির্ভরতা বা আল্লাহর ওপর ভরসা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি আওয়ালপুরের পীরের প্রভাব ও ভণ্ডামি প্রকাশ প্রসঙ্গে এবং মজিদের প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুপস্থিতি বোঝাতে করা হয়েছে।
আওয়ালপুরের পীরের আগমনে মহব্বতনগর গ্রামেও এক সময় আলোড়ন তৈরি হয় এবং মজিদের কর্তৃত্ব কিছুটা হুমকির মুখে পড়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে যখন সেই পীর গ্রাম ছেড়ে চলে যায়, তখন মজিদের প্রভাব বিস্তার করার আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে না। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন অনুকূল পরিস্থিতিকে বোঝাতেই উপন্যাসে বলা হয়েছে— "খেলোয়াড় চলে গেছে, খেলবে কার সাথে?"
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সলেমান চরিত্রটি 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, মজিদ একটি দরিদ্র, অনাহারক্লিষ্ট অঞ্চল থেকে মহব্বতনগর গ্রামে আসে। সে ধর্মের অন্ধবিশ্বাস, ভয় ও মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে একটি অজ্ঞাত কবরকে 'মোদাচ্ছের পীরের মাজার' বানিয়ে নিজের আসন পাকাপোক্ত করে। মাজারের খাদেম সেজে সে ধর্মব্যবসায় লিপ্ত হয় এবং সমাজে প্রভাব-প্রতিপত্তি ও সম্পদ গড়ে তোলে। নিজের কূটবুদ্ধি ও শঠতার জোরে সে পুরো গ্রামের নিয়ন্ত্রকে পরিণত হয়।
উদ্দীপকের সলেমানও তিস্তার দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত চরাঞ্চলের মানুষ হলেও অত্যন্ত কূটবুদ্ধিসম্পন্ন। সে কৃষিসমৃদ্ধ গ্রামে গিয়ে গাছ-পালার শিকড়-বাকড় ও তাবিজ-কবজ বিক্রি করে কবিরাজি শুরু করে এবং সহজ-সরল গ্রামবাসীকে বোকা বানিয়ে বিপুল অর্থ ও সম্মান অর্জন করে। মজিদের মতোই সলেমানও মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে 'জ্বিনের বাদশা' বনে গেছে। তাই ধর্মীয় বা লোকবিশ্বাসের অপব্যবহার ও কূটবুদ্ধির দ্বারা প্রতিষ্ঠা লাভের দিক থেকে সলেমান চরিত্রটি মজিদের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের মানবেতর জীবনচিত্র 'লালসালু' উপন্যাসের সূচনায় বর্ণিত 'শস্যহীন জনবহুল' অঞ্চলের মানুষের জীবনবাস্তবতার কথাই সুস্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়— মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
'লালসালু' উপন্যাসের পটভূমি উন্মোচনে ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ যে অঞ্চলের বর্ণনা দিয়েছেন, তা ছিল তীব্র অভাব, দারিদ্র্য ও অনাহারে জর্জরিত এক জনবহুল এলাকা। সেখানে জমির চেয়ে মানুষ বেশি, কিন্তু জমিতে ফসল কম। অনাহার ও পেটের তাগিদে সেখানকার মানুষ জীবিকার সন্ধানে বাইরে বেরিয়ে পড়তে বাধ্য হতো। ক্ষুধার জ্বালায় তারা আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মের আশ্রয় খুঁজত এবং শস্যহীন জীবনে কেবল ভাগ্যকে সম্বল করে বেঁচে থাকত।
উদ্দীপকে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের মানুষদের জীবনও একই রকম করুণ। নদীভাঙন, ক্ষুধা-তৃষ্ণা, রোগ-শোক ও শিশুর আর্তচিৎকারে সেখানে নিত্য অভাব-অনটন বিরাজ করে। প্রতিবছর তিস্তার অপ্রতিরোধ্য ভাঙন তাদের আরও নিঃস্ব করে দেয়, কিন্তু তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটে না।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে, উদ্দীপকের তিস্তাপাড়ের মানুষের তীব্র হাহাকার ও দারিদ্র্যক্লিষ্ট জীবন ঠিক যেন 'লালসালু' উপন্যাসের সেই সূচনালগ্নে চিত্রিত শস্যহীন অঞ্চলের মানুষের প্রতিকৃতি। উভয় ক্ষেত্রেই প্রকৃতির নির্মম পরিহাস এবং তীব্র বেঁচে থাকার লড়াই প্রধান হয়ে উঠেছে। অতএব, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও