অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
অর্থনীতি ক্লাসের এক ছাত্র শিক্ষককে জিজ্ঞেস করল, স্যার সরকার অনেক টাকা আয় করে। এত টাকা সরকার কি করে? শিক্ষক উত্তরে বললেন, সরকার তার প্রশাসনিক কাজ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করে। তাছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাবলম্বী দেশে পরিণত হওয়ার জন্য দুর্যোগ পরবর্তী জরুরি উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকারের ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছাত্র আবার প্রশ্ন করে যদি সরকারের টাকা না থাকে তাহলে কাজ কিভাবে করে? শিক্ষক বললেন, সরকারের আয় দ্বারা উন্নয়নমূলক কাজের ব্যয় নির্বাহ সম্ভব না হলে সরকার বিভিন্ন উৎস হতে ঋণ নিয়ে থাকে।
- ক)(1)
কর কাকে বলে?
- খ)(2)
অর্থনৈতিক উন্নয়নর জন্য কেন শিক্ষার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া উচিত?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ভিত্তিতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, বৈদেশিক উৎস অপেক্ষা অভ্যন্তরীণ উৎস হতে গৃহীত সরকারি ঋণ বেশি কার্যকর ও যৌক্তিক? যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনগণের প্রত্যক্ষ কল্যাণ বা সুবিধার কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যতিরেকে সরকারের আরোপিত বাধ্যতামূলক আর্থিক প্রদেয়কে কর বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিক্ষা মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। শিক্ষার প্রসারের ফলে নাগরিকদের দক্ষতা, কারিগরি জ্ঞান, উৎপাদনশীলতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। দক্ষ জনশক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটায়। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামগ্রিক জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায় বলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষার উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পরিচালনার ব্যয়। আধুনিক কল্যাণকামী রাষ্ট্র হিসেবে সরকারকে প্রশাসন পরিচালনা, প্রতিরক্ষা এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দেশকে স্বাবলম্বী করার প্রচেষ্টা। অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশকে স্বনির্ভর করতে কৃষি, শিল্প, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করতে হয়। তৃতীয়ত, দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন ও জরুরি উন্নয়নমূলক কার্যক্রম। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশে দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জরুরি ত্রাণ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসনে সরকারের ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। মূলত এসব অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক দায়িত্বের প্রসারের কারণেই সরকারের ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি বৈদেশিক উৎস অপেক্ষা অভ্যন্তরীণ উৎস হতে গৃহীত সরকারি ঋণ সাধারণত বেশি কার্যকর ও যৌক্তিক।
এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিম্নরূপ:
১. সার্বভৌমত্ব রক্ষা: বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী বা দেশ প্রায়শই কঠোর ও অনুচিত শর্ত আরোপ করে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়নে সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। অভ্যন্তরীণ ঋণে এ ধরনের কোনো বহিরাগত রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকে না।
২. বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও ঝুঁকি হ্রাস: বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হয় বৈদেশিক মুদ্রায়। যদি দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটে, তবে ঋণ পরিশোধের প্রকৃত বোঝা অনেক বেড়ে যায়। বিপরীতে, অভ্যন্তরীণ ঋণ নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালিত হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না।
৩. জাতীয় আয়ের অভ্যন্তরে সঞ্চালন: অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ও আসল দেশের নাগরিকদের মধ্যেই আবর্তিত হয়, ফলে জাতীয় আয় দেশের বাইরে চলে যায় না বরং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল থাকে।অতএব, যদিও বৃহৎ অবকাঠামোগত প্রকল্পে প্রাথমিক মূলধনের জন্য বৈদেশিক ঋণ অনেক সময় প্রয়োজন হয়, তবুও শর্তহীনতা, রাজনৈতিক চাপমুক্ত থাকা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক বিবেচনায় অভ্যন্তরীণ উৎস হতে ঋণ গ্রহণ অধিক কার্যকর, নিরাপদ ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও