অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি দেশে জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ নিম্নরূপ:

সাল | ১৯৫০ | ১৯৭৫ | ২০০০
জনসংখ্যা | ৫ কোটি | ১০ কোটি | ২০ কোটি
খাদ্য উৎপাদন | ১ লক্ষ মে. টন | ২ লক্ষ মে. টন | ৩ লক্ষ মে. টন

  1. ক)

    জনসংখ্যার ঘনত্ব কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    প্রশিক্ষণ কীভাবে মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জনসংখ্যার কোন তত্ত্বকে নির্দেশ করে? আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে উক্ত জনসংখ্যা তত্ত্বটির যথার্থতা সম্পর্কে তোমার মতামত ব্যক্ত করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটার জায়গায় গড়ে যত জন মানুষ বসবাস করে, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে। অর্থাৎ জনসংখ্যার ঘনত্ব = মোট জনসংখ্যা / মোট ভূমির আয়তন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন শ্রমিকের কারিগরি জ্ঞান, দক্ষতা এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অদক্ষ জনশক্তি প্রশিক্ষণের ফলে আধুনিক প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে দক্ষ ও উৎপাদনশীল জনশক্তিতে পরিণত হয়, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রত্যক্ষ সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটিতে ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ টমাস রবার্ট ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বকে নির্দেশ করা হয়েছে।

    ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব অনুসারে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬...) এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫...)। উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রতি ২৫ বছর অন্তর (১৯৫০, ১৯৭৫ ও ২০০০ সালে) দেশটির জনসংখ্যা ৫ কোটি থেকে দ্বিগুণ হয়ে ১০ কোটি এবং পরবর্তীতে ২০ কোটিতে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জ্যামিতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন। অন্যদিকে একই সময়ে খাদ্য উৎপাদন ১ লক্ষ মেট্রিক টন থেকে যথাক্রমে ২ লক্ষ ও ৩ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে, যা গাণিতিক প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। সুতরাং, খাদ্য উৎপাদনের তুলনায় জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার এই ধারা ম্যালথাসের তত্ত্বেরই বাস্তব প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও আধুনিক বাস্তবতায় এর সার্বিক যথার্থতা পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়।

    ম্যালথাস মনে করেছিলেন খাদ্য উৎপাদন গাণিতিক হারের চেয়ে বেশি বাড়ানো সম্ভব নয় এবং প্রতি ২৫ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হবে। কিন্তু বাস্তবে উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার, উচ্চফলনশীল বীজ, সার ও সেচ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে কৃষিক্ষেত্রে সবুজ বিপ্লব ঘটেছে। ফলে খাদ্য উৎপাদন গাণিতিক হারের চেয়ে বহুগুণ বেশি গতিতে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া আধুনিক যুগে শিক্ষার প্রসার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও ম্যালথাসের অনুমানের মতো লাগামহীন থাকে না।

    তবে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, যেখানে দারিদ্র্য ও অতিজনসংখ্যা বিদ্যমান এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সীমিত, সেখানে এই তত্ত্বের সতর্কবার্তা আজও তাৎপর্যপূর্ণ। পরিশেষে বলা যায়, তত্ত্বটিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা থাকলেও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এর সার্বিক প্রয়োগযোগ্যতা ও যথার্থতা শতভাগ বজায় থাকে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন