অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ শাসকেরা ২০০ বছর এ উপমহাদেশ শাসন ও শোষণ করেছে। এরপর পাকিস্তান সরকার আজকের বাংলাদেশকে শাসন ও শোষণ করেছে ২৪ বছর। তাদের উভয়ের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজির ব্যবহার হয়েছে এ অঞ্চলের লুন্ঠিত সম্পদ। কিন্তু এ অঞ্চলের জনগণের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল খুব সামান্য। পরবর্তীতে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফলে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ নামের ভূখণ্ডটি। সাম্প্রতিক বাংলাদেশে কিছু পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। যেমন, কৃষির কাঠামোগত পরিবর্তন, শিল্প ও সেবা খাতের ভূমিকা, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, সমুদ্র জয়, তথ্য ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস প্রভৃতি।
- ক)(1)
অর্থনৈতিক অবকাঠামো কী?
- খ)(2)
কোন যুগকে বাংলার ইতিহাসে 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়? কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পদার্পণের সম্ভাবনা তুমি কীভাবে মূল্যায়ন করবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও উৎপাদন প্রক্রিয়াকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করার জন্য গড়ে ওঠা পরিবহন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সেচ ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা ও সেবাগুলোর সমষ্টিকে অর্থনৈতিক অবকাঠামো বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খানের শাসনকালকে (১৬৬৪–১৬৭৮ এবং ১৬৮০–১৬৮৮ খ্রি.) বাংলার ইতিহাসে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সাশ্রয়ী মান ও সমৃদ্ধির কারণে 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়। এ সময় বাংলায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কৃষি ও বাণিজ্যের অভূতপূর্ব প্রসার ঘটেছিল। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অত্যন্ত সস্তা ছিল, যার উজ্জ্বল প্রমাণ হলো টাকায় আট মণ চাল বিক্রি হতো; ফলে জনজীবনে অর্থনৈতিক প্রাচুর্য ও স্বস্তি নিশ্চিত হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের প্রকৃতি ছিল মূলত একমুখী সম্পদ লুণ্ঠন ও পরনির্ভরশীলতা সৃষ্টির ইতিহাস।
প্রথমত, প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে এ অঞ্চলের সমৃদ্ধ কৃষি ও হস্তশিল্প (বিশেষত তাঁতশিল্প) ধ্বংস করে কাঁচামাল ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লবের জন্য সস্তায় সংগ্রহ করা হতো এবং বিনিময়ে ইংল্যান্ডের কলকারখানায় তৈরি পণ্য চড়া দামে চাপিয়ে দেওয়া হতো। অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় ও অবাধ লুণ্ঠনের মাধ্যমে দেশের সঞ্চিত উদ্বৃত্ত বিদেশে পাচার করা হয়।
দ্বিতীয়ত, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ২৪ বছরের পাকিস্তানি শাসনামলে বৈষম্যমূলক নীতির মাধ্যমে পূর্ব বাংলা থেকে অর্জিত সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা (যেমন— পাট রপ্তানির আয়) পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পায়ন ও উন্নয়নে ব্যয় করা হতো। বিপরীতে, এ ভূখণ্ডের অর্থনৈতিক বরাদ্দ ছিল নামমাত্র।
অতএব, ঔপনিবেশিক শক্তির মূল চরিত্রই ছিল স্থানীয় সম্পদ আত্মসাৎ করে নিজ ভূখণ্ডের উন্নয়ন ঘটানো এবং শোষিত অঞ্চলকে অনগ্রসর ও অনুন্নত রাখা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের যে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তার আলোকে মধ্যম আয়ের দেশে পদার্পণের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং বাস্তবসম্মত।
১. অর্থনৈতিক কাঠামোর রূপান্তর: কৃষির আধুনিকায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন এবং শিল্প ও সেবা খাতের দ্রুত বিকাশ দেশের জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।
২. রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক আয়: প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে।
৩. মানব উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতি: শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসের মতো সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় প্রশংসনীয়, যা বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন মানদণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
৪. প্রযুক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের বিকাশ: তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং সমুদ্র বিজয়ের ফলে সমুদ্র অর্থনীতির (Blue Economy) নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
তবে এ সম্ভাবনাকে টেকসই করতে দুর্নীতি দমন, আয়বৈষম্য হ্রাস, মানবসম্পদের গুণগত মানোন্নয়ন এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ জরুরি। সার্বিক বিবেচনায়, ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে অত্যন্ত সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও