পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব নুরুল হক ভূঁইয়া একজন নামাজি, সৎ, ধর্মপ্রাণ ও সমাজ সংস্কারক। তিনি নিজে ধর্মচর্চার পাশাপাশি সমাজের মানুষকে কুসংস্কার মুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশাসনের বাস্তবায়ন আন্দোলনের ডাক দেন। তিনি মনে করেন, প্রত্যেক মুসলমানকে ধর্ম সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে। সমাজের মুসলমানদের কুসংস্কার মুক্ত করতে এই আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ক)(1)
তিতুমীর এর পূর্ণ নাম কী?
- খ)(2)
বঙ্গভঙ্গ রদ কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব নুরুল হক ভূঁইয়ার সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন ব্যক্তিত্বের মিল পাওয়া যায়? -ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত আন্দোলনটি কেবলমাত্র ধর্মীয় আন্দোলন ছিল না -বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তিতুমীরের পূর্ণ নাম মীর নিসার আলী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক কার্যকর করা বাংলা প্রদেশের বিভাজনকে ১৯১১ সালে বাতিল বা প্রত্যাহার করে নেওয়াকে 'বঙ্গভঙ্গ রদ' বলা হয়।
১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাতে বাংলাকে বিভক্ত করেন। কিন্তু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং হিন্দু উচ্চবর্ণের তীব্র প্রতিবাদ, স্বদেশী আন্দোলন এবং সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের মুখে ব্রিটিশ সরকার নতি স্বীকার করে। অবশেষে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর দিল্লির দরবারে সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদ বা বাতিলের ঘোষণা দেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব নুরুল হক ভূঁইয়ার সাথে পাঠ্যবইয়ের ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবর্তক 'হাজী শরীয়তুল্লাহর' মিল পাওয়া যায়।
হাজী শরীয়তুল্লাহ ছিলেন অবিভক্ত বাংলার একজন মহান সমাজ ও ধর্ম সংস্কারক। উনিশ শতকের শুরুতে তিনি উপলব্ধি করেন যে, বাংলার মুসলমানরা ধর্মীয় মৌলিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে নানাবিধ অনৈসলামিক কুসংস্কার ও শিরক-বিদআতে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। তাই তিনি মুসলমানদের ইসলামের অবশ্য পালনীয় কর্তব্যসমূহ বা 'ফরজ' পালনের প্রতি জোর দিয়ে 'ফরায়েজী আন্দোলন' শুরু করেন।
উদ্দীপকের জনাব নুরুল হক ভূঁইয়া নিজেও একজন ধর্মপ্রাণ সংস্কারক হিসেবে সমাজে ধর্মচর্চা প্রসারে উদ্যোগ নেন এবং মুসলমানদের প্রকৃত ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন ও অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান জানান। তাঁর লক্ষ্য ছিল মুসলমানদের কুসংস্কারমুক্ত করা। হাজী শরীয়তুল্লাহর সংস্কার কর্মকাণ্ডের মূল সুরও ছিল মুসলমানদের কুসংস্কার ও অনৈসলামিক রীতিনীতি ত্যাগ করে নির্ভেজাল ধর্মীয় অনুশাসন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ করা। তাই নুরুল হক ভূঁইয়ার কার্যক্রম হাজী শরীয়তুল্লাহর আদর্শ ও ভূমিকারই প্রতিফলন ঘটায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ফরায়েজী আন্দোলনটি কেবলমাত্র একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন ছিল না, বরং এটি একটি ব্যাপক আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কৃষক আন্দোলন রূপ পরিগ্রহ করেছিল— উক্তিটি যথার্থ।
হাজী শরীয়তুল্লাহ কর্তৃক সূচিত ফরায়েজী আন্দোলনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ইসলামের অবশ্য পালনীয় কর্তব্যগুলো (ফরজ) পালনের মাধ্যমে মুসলিম সমাজকে অনৈসলামিক কুসংস্কারমুক্ত করা। কিন্তু তৎকালীন বাংলায় সাধারণ মুসলিম রায়ত ও কৃষকরা হিন্দু জমিদার এবং ইউরোপীয় নীলকরদের দ্বারা নির্মম শোষণ, অবিচার ও অন্যায় করের শিকার হচ্ছিলেন। জমিদাররা ফরায়েজী অনুসারীদের দাড়ি রাখা বা মসজিদ নির্মাণের ওপরও অপমানজনক কর আরোপ করত। ফলে হাজী শরীয়তুল্লাহ কৃষকদের অধিকার রক্ষায় এবং এসব অন্যায় করের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করেন।
পরবর্তীতে তাঁর সুযোগ্য পুত্র দুদু মিয়া (মুহসীন উদ্দিন আহমদ)-এর নেতৃত্বে ফরায়েজী আন্দোলন একটি শক্তিশালী সুসংগঠিত কৃষক ও প্রজাস্বত্ব আন্দোলনে রূপ নেয়। তিনি লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন, নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন এবং জমিদার-নীলকরদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, 'লাঙ্গল যার জমি তার' এবং 'জমি আল্লাহর দান, সুতরাং জমিতে কারও খাজনা আদায়ের অধিকার নেই'।
অতএব, দেখা যায় যে ফরায়েজী আন্দোলন ধর্মীয় অনুশাসন ও কুসংস্কারমুক্তির লক্ষ্য নিয়ে শুরু হলেও কালক্রমে তা বাংলার নিপীড়িত কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের মুক্তি, আর্থ-সামাজিক শোষণ এবং জমিদার ও ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদী রাজনৈতিক রূপ লাভ করে। সুতরাং আন্দোলনটি কেবলমাত্র ধর্মীয় আন্দোলন ছিল না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও