অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

রোকেয়ার স্বামী রিক্সা চালিয়ে জীবিকানির্বাহ করে। সড়ক দুর্ঘটনায় তার দুটি পা নষ্ট হয়ে যায়। রোকেয়া স্বামী সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় একটি NGO থেকে ৩ (তিন) হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মুড়ি ভাজার কাজ শুরু করে এবং স্থানীয় বাজারে মুড়ি বিক্রি করে সংসার চালাতে থাকে।

  1. ক)

    শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    শিল্পায়নের মাধ্যমে একটি দেশ কীভাবে স্বনির্ভরতা অর্জন করে?

    (2)
  3. গ)

    রোকেয়ার মুড়ি ভাজার কাজটি কোন ধরনের শিল্পের আওতাধীন? উত্ত শিল্পের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্প বিকশিত হলে এদেশের বেকারত্ব দূরীকরণে কতটুকু ভূমিকা রাখবে বলে তুমি মনে করো?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনীতিতে শিল্প বলতে সমজাতীয় পণ্য বা সেবা উৎপাদনকারী একাধিক ফার্মের সমষ্টিকে বোঝায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিল্পায়নের ফলে দেশীয় কাঁচামালের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং আমদানিকৃত পণ্যের বিকল্প পণ্য দেশেই তৈরি করা সম্ভব হয়। এতে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটে এবং উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়। এভাবে শিল্পায়ন দেশের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন করতে সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রোকেয়ার মুড়ি ভাজার কাজটি কুটির শিল্পের আওতাধীন।

    কুটির শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. স্বল্প পুঁজি: কুটির শিল্পে খুবই সামান্য মূলধনের প্রয়োজন হয়। যেমন রোকেয়া মাত্র ৩ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কাজটি শুরু করেছে।
    ২. পারিবারিক শ্রম: এ ধরনের শিল্পে সাধারণত পরিবারের সদস্যদের শ্রমই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং বহিরাগত বেতনভুক্ত শ্রমিক থাকে না বললেই চলে।
    ৩. স্থানীয় কাঁচামাল ও সরল প্রযুক্তি: স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য কাঁচামাল ও সনাতন বা সহজ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উৎপাদন পরিচালিত হয়।
    ৪. স্থানীয় বাজারভিত্তিক: উৎপাদিত পণ্য সাধারণত স্থানীয় হাট-বাজারে বা নিজ এলাকায় সরাসরি বিক্রি হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কুটির শিল্প বিকশিত হলে তা বাংলাদেশের ব্যাপক বেকারত্ব দূরীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

    বাংলাদেশের মতো শ্রমঘন এবং পুঁজি-স্বল্পতার দেশে কুটির শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম:
    ১. আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি: কুটির শিল্প স্থাপনে বিপুল পুঁজি বা উন্নত কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষ, বিশেষ করে উদ্দীপকের রোকেয়ার মতো প্রান্তিক ব্যক্তিরা সহজেই আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারে।
    ২. নারী কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়ন: গ্রামীণ নারীরা গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি ঘরে বসেই কুটির শিল্পের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, যা গ্রামীণ নারী বেকারত্ব দূর করে।
    ৩. মৌসুমি ও প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব হ্রাস: কৃষিক্ষেত্রে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে যে মৌসুমি বা প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব থাকে, কুটির শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে সেই বাড়তি শ্রমশক্তিকে উৎপাদনশীল কাজে রূপান্তর করা সম্ভব।
    ৪. সহজ ঋণ ও প্রশিক্ষণ: এনজিও এবং ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ পেলে দেশের লাখ লাখ বেকার যুবক-যুবতী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তুলতে পারবে।

    সুতরাং, কুটির শিল্পের সঠিক বিকাশ ঘটলে তা তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশের সামগ্রিক বেকারত্ব নিরসনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন