ভূগোল ১ম পত্র • সমুদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৫
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
জোয়ার-ভাটা কাকে বলে?
- খ)(2)
মুখ্য জোয়ার কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে চিত্র-১ এর স্রোতের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে চিত্র-২ এর ইঙ্গিতকৃত অঞ্চলে জোয়ার-ভাটার প্রভাব বিশ্লেষন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ এবং পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিয়মিতভাবে এক জায়গায় ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চাঁদের আকর্ষণ বলের প্রত্যক্ষ প্রভাবে চাঁদের সম্মুখে অবস্থিত সমুদ্রের জলরাশি সবচেয়ে বেশি ফুলে উঠে যে জোয়ারের সৃষ্টি করে, তাকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে।
চন্দ্র পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটে অবস্থিত হওয়ায় পৃথিবীর উপর এর মহাকর্ষ বা আকর্ষণ শক্তি সূর্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি কার্যকরী হয়। ফলে আবর্তনরত পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের ঠিক সম্মুখে আসে, চাঁদের তীব্র আকর্ষণে সেখানকার জলরাশি প্রবলভাবে স্ফীত হয়ে ওঠে। এই প্রত্যক্ষ আকর্ষণের ফলে সৃষ্ট জোয়ারকেই মুখ্য জোয়ার বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-১ এ গ্রীষ্মকালে ভারত মহাসাগরে প্রবাহিত 'দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি স্রোত'-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
ভারত মহাসাগরের উত্তর অংশে স্থলভাগের প্রভাব ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, যা স্রোতের গতিকেও নিয়ন্ত্রণ করে। গ্রীষ্মকালে সূর্যের উত্তরায়ণের সময় দক্ষিণ এশিয়ায় নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। ফলে ভারত মহাসাগরের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে শুরু করে।
এই শক্তিশালী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর তাড়নায় ভারত মহাসাগরের উত্তর অংশের পানি পশ্চিম থেকে পূর্ব অভিমুখে চালিত হয়। এই স্রোতটি সোমালি উপকূল হয়ে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের মধ্য দিয়ে ঘড়ির কাঁটার দিকে (পূর্বাভিমুখে) প্রবাহিত হয়। একে 'দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি স্রোত' বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি স্রোত বলা হয়। শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই স্রোতের দিক সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে মোড় নেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-২ এ বাংলাদেশের মানচিত্র এবং এর উপকূলীয় অঞ্চল নির্দেশ করা হয়েছে, যেখানে জোয়ার-ভাটার প্রত্যক্ষ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের উপকূলীয় ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে জোয়ার-ভাটার বহুবিধ প্রভাব রয়েছে, যা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নৌ-চলাচল ও বন্দর পরিচালনা: বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং নদী বন্দরগুলো জোয়ার-ভাটার উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। জোয়ারের সময় নদীর পানির গভীরতা বৃদ্ধি পায়, ফলে বড় বড় সমুদ্রগামী জাহাজ সহজেই অভ্যন্তরীণ পোতাশ্রয় ও নদীবন্দরে প্রবেশ করতে পারে এবং ভাটার সময় অনুকূল স্রোতে সহজেই সাগরে ফিরে যেতে পারে।
২. পলি অপসারণ ও নদী খাতের নাব্যতা রক্ষা: ভাটার সময় পানির তীব্র টানে নদী থেকে বিপুল পরিমাণ পলি, আবর্জনা ও বর্জ্য সাগরে ভেসে যায়। এর ফলে নদীগর্ভ ভরাট হতে পারে না এবং নদীপথের নাব্যতা বজায় থাকে।
৩. কৃষি ও সেচকাজ: জোয়ারের সময় নদীগুলোর মিষ্টি পানির স্তর উঁচু হয়ে খালের মাধ্যমে কৃষি জমিতে প্রবেশ করানো যায়, যা দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় কৃষি ও সেচকাজে সহায়ক হয়।
৪. লবণ উৎপাদন ও মৎস্য চাষ: দেশের দক্ষিণাঞ্চলে (যেমন কক্সবাজার ও সাতক্ষীরা) জোয়ারের লোনা পানি বাঁধের ভেতরে আটকে রোদে শুকিয়ে লবণ তৈরি করা হয়। এ ছাড়া জোয়ারের মাধ্যমে ঘেরে পানি প্রবেশ করিয়ে চিংড়ি চাষ করা হয়।
৫. জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ: জোয়ার-ভাটার তীব্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তবে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার ভরা কটালে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হলে জোয়ারের পানি উপকূলীয় বাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত করে জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
সুতরাং, চিত্র-২ এ নির্দেশিত বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল তথা সমগ্র দেশের অর্থনীতি, পরিবহন এবং পরিবেশের ওপর জোয়ার-ভাটার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও