যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
উদাহরণ-১: প্রকান্ড অসুরের কোপানলে চন্দ্রগ্রহণ হয়।উদাহরণ-২: অতিরিক্ত গ্যাস ফর্মের কারণে বমি হতে পারে।উদাহরণ-৩: জাহাজের গতি নির্ভর করে সাগরের স্রোত, বাতাস, সারেং ও ইঞ্জিনের ওপর।
- ক)(1)
“ Explanation " এর উৎপত্তিগত অর্থ কী?
- খ)(2)
কার্য ও দূরবর্তী কারণের মধ্যবর্তী ধাপের নাম কী?
- গ)(3)
উদাহরণ-১ এ কোন ধরনের ব্যাখ্যার প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদাহরণ-৩ কীভাবে উদাহরণ-২ এর প্রতিফলিত ব্যাখ্যার রূপ? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Explanation' শব্দের উৎপত্তিগত অর্থ হলো কোনো বিষয়কে ব্যক্ত করা, সরল করা বা প্রাঞ্জল ও বোধগম্য করে তোলা (ল্যাটিন শব্দ Explanare থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ to make plain বা সহজ-সরল করা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কার্য ও দূরবর্তী কারণের মধ্যবর্তী ধাপের নাম হলো 'অন্তর্বর্তী ঘটনা' বা মধ্যবর্তী পর্যায় (Intervening link)। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি রূপ হিসেবে একে কার্য ও দূরবর্তী কারণের মধ্যবর্তী শৃৃঙ্খল বা অন্তর্ভুক্তি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের উদাহরণ-১ এ 'লৌকিক ব্যাখ্যা'র প্রতিফলন ঘটেছে।
লৌকিক ব্যাখ্যা হলো এমন এক ধরনের ব্যাখ্যা, যেখানে কোনো প্রাকৃতিক ঘটনার পেছনে বৈজ্ঞানিক বা কার্যকারণ সম্পর্ক অনুসন্ধান না করে অলৌকিক, অতিপ্রাকৃতিক, কুসংস্কারাচ্ছন্ন বা কাল্পনিক শক্তির ওপর নির্ভর করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
উদাহরণ-১ এ বলা হয়েছে 'প্রকাণ্ড অসুরের কোপানলে চন্দ্রগ্রহণ হয়'। চন্দ্রগ্রহণ একটি প্রাকৃতিক মহাজাগতিক ঘটনা, যা পৃথিবী ও চাঁদের অবস্থানগত কারণে সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত হলে ঘটে। কিন্তু এখানে কোনো প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসন্ধান না করে অন্ধবিশ্বাস ও কাল্পনিক অসুরের কোপানলকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। অলৌকিক ও মনগড়া বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে দেওয়ার কারণে এটি লৌকিক ব্যাখ্যার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের উদাহরণ-৩ হলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপভেদ 'সহসংযোজন' বা 'মিশ্রণ' (Coligation of facts / Conjunction of causes), যা উদাহরণ-২ এর প্রতিফলিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি বিশেষ রূপ।
উদাহরণ-২ এ অতিরিক্ত গ্যাস ফর্মের কারণে বমি হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা একটি সাধারণ কার্যকারণ সম্পর্কনির্ভর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা (বিশ্লেষণ/কারণ নির্দেশ)। অন্যদিকে, উদাহরণ-৩ এ জাহাজের গতি নির্ধারিত হওয়ার পেছনে সাগরের স্রোত, বাতাস, সারেং ও ইঞ্জিন—একাধিক কারণের সম্মিলিত প্রভাব বা সহসংযোজন দেখানো হয়েছে।
যুক্তিবিদ মিলের মতে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার তিনটি মূল রূপ রয়েছে: বিশ্লেষণ (Analysis), শৃৃঙ্খলীকরণ (Chaining/Interposition), এবং সহসংযোজন (Coligation/Summation)। সহসংযোজন প্রক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক স্বতন্ত্র নিয়মের বা কারণের সম্মিলিত ফল হিসেবে একটি জটিল ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয়। উদাহরণ-৩ এ জাহাজের গতি কোনো একক নিয়মে নয়, বরং স্রোত, বায়ুপ্রবাহ এবং ইঞ্জিনের শক্তির সমন্বিত রূপ। সুতরাং, উদাহরণ-৩ মূলত উদাহরণ-২ এর নির্দেশিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যারই বহুকারণীয় সহসংযোজনমূলক রূপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও