পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট ভারত উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। যে বিখ্যাত আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষের ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়, সেই আইনের নেপথ্যে ভারতের সর্বশেষ গর্ভনর জেনারেল প্রদত্ত একটি পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্য ভূমিকার দাবি রাখে।
- ক)(1)
ফরায়েজী আন্দোলন কী?
- খ)(2)
মুসলিম লীগ কেন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত কোন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে? উক্ত আইনের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে গভর্নর জেনারেল প্রদত্ত পরিকল্পনাটির সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাজী শরীয়তুল্লাহ কর্তৃক ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে তৎকালীন বাংলার মুসলমানদের মধ্যে ইসলামের মৌলিক ফরজ বিধান পালনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ধর্মীয় সংস্কার ও সামাজিক আন্দোলনই হলো ফরায়েজী আন্দোলন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সংরক্ষণ এবং কংগ্রেসের আধিপত্য থেকে মুসলিম স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ১৯০৬ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ব্রিটিশদের কাছে মুসলমানদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দাবি-দাওয়া সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য একটি পৃথক মুসলিম রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন তীব্র হয়ে ওঠায় এই দলটির জন্ম হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন' (Indian Independence Act, 1947)-এর মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে।
উক্ত আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. দুটি স্বাধীন ডোমিনিয়নের সৃষ্টি: ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
২. ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের অবসান: এই আইনের মাধ্যমে ভারতীয় ভূখণ্ডের ওপর থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও রাজপরিবারের সকল সার্বভৌমত্ব এবং নিয়ন্ত্রণ বিলুপ্ত হয়।
৩. গভর্নর জেনারেলের পদ: প্রতিটি ডোমিনিয়নের জন্য একজন করে গভর্নর জেনারেল নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়, যিনি মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।
৪. গণপরিষদের সার্বভৌম ক্ষমতা: উভয় দেশের গণপরিষদকে নিজ নিজ দেশের সংবিধান প্রণয়ন ও আইন প্রণয়নের পূর্ণ সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
৫. দেশীয় রাজ্যসমূহের স্বাধীনতা: দেশীয় রাজ্যগুলোর ওপর ব্রিটিশ আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে সেগুলোকে ভারত বা পাকিস্তানের যেকোনো একটিতে যোগদানের অথবা স্বাধীন থাকার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেন প্রদত্ত '৩রা জুন পরিকল্পনা' বা 'মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা'-র প্রত্যক্ষ ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ৩রা জুন ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ উভয় দলই এই পরিকল্পনা মেনে নেয়। মাউন্টব্যাটেনের এই রূপরেখা ও সুপারিশের আলোকেই ব্রিটিশ সরকার অতি দ্রুত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় এবং ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে 'ভারত স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭' পাস করা হয়। এই আইনের মূল ভিত্তি, কাঠামো ও ধারাগুলো মূলত মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনারই আইনি রূপায়ন ছিল। অতএব, মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা ছিল ভিত্তি এবং এর সাংবিধানিক ও ব্যবহারিক বাস্তবায়ন ছিল ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও