জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে কিছু উন্নত জাতের ধানের কথা জানতে পারল। যা বিশেষ এক ধরনের প্রজননের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। তারা আরও জানতে পারল বাংলাদেশে এরকম অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে। বিভিন্ন উদ্ভিদের উচ্চফলনশীল জাত তৈরিতে কাজ করছে।

  1. ক)

    বাডিং কী?

    (1)
  2. খ)

    গ্রাফটিং বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আলোচিত বিশেষ প্রজননের কৌশল বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উক্ত পদ্ধতিটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাডিং বা চোখ কলম হলো এমন একটি কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজনন পদ্ধতি, যাতে একটি উদ্ভিদের সুস্থ ও পরিপক্ব মুকুল বা চোখকে বাকলসহ কেটে নিয়ে একই প্রজাতির অন্য একটি উদ্ভিদের কান্ডের বাকল কেটে সেই স্থানে স্থাপন করে নতুন কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদ তৈরি করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রাফটিং বা জোড় কলম হলো একটি কৃত্রিম অঙ্গজ জনন পদ্ধতি, যেখানে দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের শাখা বা কান্ডকে একত্রিত করে এমনভাবে জোড়া লাগানো হয় যাতে তারা একটি একক উদ্ভিদ হিসেবে বৃদ্ধি পায়।

    এ পদ্ধতিতে যে উদ্ভিদের মূলতন্ত্র মাটিতে প্রোথিত থাকে তাকে স্টক (Stock) বলে এবং যে উন্নত উদ্ভিদের শাখা বা কান্ডটি স্টকের সাথে জোড়া লাগানো হয় তাকে সায়ন (Scion) বলে। স্টকের কান্ড কেটে সায়নকে ক্যাম্বিয়াম বরাবর নিপুণভাবে বসিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়, ফলে ক্যাম্বিয়ামের সংযোগের মাধ্যমে নতুন সংকর গুণের উন্নত উদ্ভিদ তৈরি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আলোচিত বিশেষ ধরনের প্রজনন পদ্ধতিটি হলো 'কৃত্রিম সংকরায়ণ' (Hybridization)। কৃত্রিম সংকরায়ণের মূল কৌশল বা ধাপসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. জনক নির্বাচন (Selection of parents): কাঙ্ক্ষিত ও উন্নত বৈশিষ্ট্যধারী দুটি সুস্থ ও সবল পুরুষ ও স্ত্রী উদ্ভিদ নির্বাচন করা হয়।
    ২. স্ব-পরাগায়ন ও বিশুদ্ধ লাইন তৈরি: নির্বাচিত জনকদের মধ্যে কয়েক প্রজন্ম ধরে স্ব-পরাগায়ন ঘটিয়ে বিশুদ্ধ বা হোমোজাইগাস লাইন প্রস্তুত করা হয়।
    ৩. ইমাস্কুলেশন (Emasculation): স্ত্রী উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহৃত উভলিঙ্গ ফুল ফোটার পূর্বে চিমটা বা কাঁচি দিয়ে পরাগধানী কেটে ফেলে ফুলকে পুরুষত্বহীন করা হয়।
    ৪. ব্যাগিং (Bagging): ইমাস্কুলেশন করা ফুলটিকে অবাঞ্ছিত পরাগরেণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে বাটার পেপার বা পলিথিন ব্যাগ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
    ৫. কৃত্রিম পরাগায়ন (Artificial pollination): নির্বাচিত পুরুষ উদ্ভিদ থেকে সংগৃহীত পরিপক্ব পরাগরেণু তুলির সাহায্যে স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থাপন করা হয়।
    ৬. পুনরায় ব্যাগিং ও ট্যাগিং (Tagging): পরাগায়নের পর ফুলটিকে পুনরায় ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় এবং এতে পরাগায়নের তারিখ, জনকের নাম প্রভৃতি তথ্যসংবলিত লেবেল বা ট্যাগ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
    ৭. সংকর বীজ ও উদ্ভিদ সংগ্রহ: নিষেক সম্পন্ন হওয়ার পর উৎপন্ন বীজ সংগ্রহ করে পরবর্তী মৌসুমে বপন করে কাঙ্ক্ষিত প্রথম বংশধর (F1) সংকর উদ্ভিদ পাওয়া যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত পদ্ধতিটি হলো কৃত্রিম সংকরায়ণ বা উদ্ভিদ প্রজনন পদ্ধতি। বাংলাদেশের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও কৃষিপ্রধান দেশের প্রেক্ষাপটে খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ পদ্ধতিটির গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    ১. খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা: বাংলাদেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, অথচ জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। কৃত্রিম সংকরায়ণের মাধ্যমে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) বিভিন্ন উচ্চফলনশীল (HYV) ধানের জাত (যেমন- ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান২৯) উদ্ভাবন করেছে, যা দেশের বর্ধিত জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণে প্রধান ভূমিকা রাখছে।
    ২. প্রতিকূলতা সহনশীল জাত উদ্ভাবন: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা এবং উত্তরাঞ্চলে খরা ও বন্যা দেখা দেয়। সংকরায়ণ পদ্ধতির মাধ্যমে লবণাক্ততাসহিষ্ণু (ব্রি ধান৪৭), খরাসহিষ্ণু (ব্রি ধান৫৬) এবং জলমগ্নতাসহিষ্ণু (ব্রি ধান৫১, ৫২) ধানের জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে।
    ৩. পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: সংকরায়ণ ও আধুনিক জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান (যেমন- ব্রি ধান৬২, ৭৪) এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ ফসলের জাত তৈরি করে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অপুষ্টি দূর করা সম্ভব হচ্ছে।
    ৪. রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধী জাত তৈরি: প্রচলিত ফসলের জাতগুলো বিভিন্ন কীটপতঙ্গ ও রোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংকরায়ণের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন করায় কীটনাশকের ব্যবহার কমেছে এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচ হ্রাস পেয়েছে।
    ৫. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: স্বল্প জীবনকালের ও উচ্চফলনশীল ফসল চাষ করে কৃষকরা একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল আবাদ করতে পারছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।

    অতএব, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক টেকসই উন্নয়নে উদ্ভিদ প্রজনন বা কৃত্রিম সংকরায়ণ পদ্ধতির ভূমিকা অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন