ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

দেশে হঠাৎ করে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক খুবই উদ্বিগ্ন। পরিপত্র জারি করেছে এখন থেকে তাদের থেকে ঋণ নিতে ব্যাংকগুলোকে ১% অধিক হারে অর্থাৎ ৬% হারে সুদ দিতে হবে। কিছু ব্যাংক এটা না মানায় দ্বিতীয় পরিপত্রে জমা সংস্থিতি ১% বৃদ্ধি করেছে। এতেও দু-একটা কার্যকর সাড়া না দেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ঋণ সুবিধা স্থগিত করেছে।

  1. ক)

    নিকাশ ঘর কী?

    (1)
  2. খ)

    খোলাবাজার নীতি বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ১ম জারিকৃত পরিপত্র ঋণ নিয়ন্ত্রণের কোন পদ্ধতির মধ্যে পড়ে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ঋণ সুবিধা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়ার যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিকাশ ঘর (Clearing House) হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এমন একটি আন্তঃব্যাংক ব্যবস্থা বা প্রতিষ্ঠান, যেখানে তালিকাভুক্ত সদস্য ব্যাংকগুলো পারস্পরিক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খোলাবাজার নীতি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিমাণগত ঋণ নিয়ন্ত্রণের একটি অন্যতম কৌশল, যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত বাজারে প্রথম শ্রেণির সরকারি সিকিউরিটিজ, ট্রেজারি বিল ও ঋণপত্র ক্রয়-বিক্রয় করে। যখন বাজারে অর্থের সরবরাহ কমাতে হয় তখন সিকিউরিটিজ বিক্রয় করা হয় এবং মুদ্রা সরবরাহ বাড়াতে হলে সিকিউরিটিজ ক্রয় করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম জারিকৃত পরিপত্রটি ঋণ নিয়ন্ত্রণের সাধারণ বা পরিমাণগত পদ্ধতির অন্তর্গত 'ব্যাংক হার নীতি' (Bank Rate Policy)-র মধ্যে পড়ে।

    যে সুদের হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার সদস্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদান করে বা তাদের বিনিময় বিল বাট্টা করে, তাকে ব্যাংক হার বলে। এই হার পরিবর্তনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ঋণের পরিমাণ তথা মুদ্রার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, দেশে মন্দাভাব দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক পরিপত্র জারি করে ব্যাংকগুলোকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ১% অধিক হারে অর্থাৎ ৬% হারে সুদ পরিশোধের নির্দেশ দেয়। এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি ব্যাংক হার নীতিকেই নির্দেশ করছে। সুতরাং, এই পদক্ষেপটি ঋণ নিয়ন্ত্রণের ব্যাংক হার নীতির অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ সুবিধা স্থগিত করার বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক ও আইনসম্মত।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার অভিভাবক এবং 'সর্বশেষ ঋণের আশ্রয়স্থল'। বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ নির্দেশনা লঙ্ঘন করে দেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকিপূর্ণ না করে, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের (Direct Action) এখতিয়ার রয়েছে। কোনো ব্যাংক নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হলে তার পুনঃবাট্টাকরণ ও ঋণ গ্রহণ সুবিধা স্থগিত করা নৈতিক ও আইনত গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক হার ১% বৃদ্ধি করা সত্ত্বেও কিছু ব্যাংক তা অমান্য করে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় পরিপত্রে নগদ জমা সংস্থিতি (Cash Reserve Ratio) ১% বৃদ্ধি করা হলেও কয়েকটি ব্যাংক তাতে কর্ণপাত করেনি বা কার্যকর সাড়া দেয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একের পর এক নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা ব্যাংকিং শৃঙ্খলা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পরিপন্থী। এমন পরিস্থিতিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের ঋণ গ্রহণের সুবিধা স্থগিত বা প্রত্যাহার করে নেওয়া ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো বিকল্প ছিল না।

    অতএব, ব্যাংকিং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং অন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ পালনে বাধ্য করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন