জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ঘাসফড়িং-এর দর্শন ইন্দ্রিয় হলো পুঞ্জাক্ষী। এই অঙ্গের মাধ্যমে উক্ত প্রাণীটি উজ্জ্বল ও মৃদু আলোতে বস্তুর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবিম্ব গঠন করে। আবার জন্ম-বৃত্তান্তের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায় যে, উহা বার বার খোলস মোচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গে পরিণত হয়।
- ক)(1)
হিমোলিম্ফ কী?
- খ)(2)
ওভিপজিটর বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ইন্দ্রিয়ের ক্ষুদ্রতর এককের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষ বাক্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘাসফড়িং বা সন্ধিপদী প্রাণীদের দেহগহ্বরে (হিমোসিলে) প্রবাহিত বর্ণহীন ও হিমোসাইটযুক্ত তরলকে হিমোলিম্ফ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ওভিপজিটর হলো স্ত্রী ঘাসফড়িংয়ের উদরের নবম ও দশম খণ্ডকের অঙ্কীয় দেশে অবস্থিত ভাল্বসদৃশ বিশেষ অঙ্গ।
ডিম পাড়ার সময়ে স্ত্রী ঘাসফড়িং ওভিপজিটরের সাহায্যে মাটিতে গর্ত খুঁড়ে সুবিধাজনক স্থানে গুচ্ছাকারে ডিম জমা করে। অর্থাৎ এটি প্রজননকালে ডিম পাড়ার সহায়ক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত দর্শনেন্দ্রিয় হলো ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষী এবং এর গাঠনিক ও কার্যকরী ক্ষুদ্রতর একক হলো 'ওমাটিডিয়াম' (Ommatidium)।
নিচে একটি ওমাটিডিয়ামের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কনের প্রয়োজনীয় অংশসমূহ উল্লেখ করা হলো:
[একটি ওমাটিডিয়ামের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র]
চিত্রের আবশ্যক অংশসমূহ:
১. কর্নিয়া (Cornea)
২. কর্নিয়াজেন কোষ (Corneagen cells)
৩. ক্রিস্টালাইন কোণ (Crystalline cone)
৪. ক্রিস্টালাইন কোণ কোষ (Crystalline cone cells)
৫. আইরিস পিগমেন্ট আবরণী (Iris pigment sheath)
৬. র্যাবডোম (Rhabdome)
৭. রেটিনুলার কোষ (Retinular cells)
৮. রেটিনাল পিগমেন্ট আবরণী (Retinal pigment sheath)
৯. ভিত্তি পর্দা (Basement membrane)
১০. স্নায়ুতন্তু (Nerve fibres)।
(পরীক্ষার্থীকে উপরোক্ত অংশগুলো ক্রমানুসারে নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে চিত্রটি অঙ্কন করতে হবে)। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি হলো: "আবার জন্ম-বৃত্তান্তের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায় যে, উহা বার বার খোলস মোচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গে পরিণত হয়।" বাক্যটিতে ঘাসফড়িংয়ের রূপান্তর (অসম্পূর্ণ রূপান্তর বা হেমিমেটাবোলাস রূপান্তর) নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. অসম্পূর্ণ রূপান্তর: ঘাসফড়িংয়ের ডিম ফুটে যে বাচ্চা বের হয়, তা দেখতে ক্ষুদ্রাকার পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িংয়ের মতোই হয়, তবে এতে ডানা ও জননাঙ্গ অনুপস্থিত থাকে। এই অপূর্ণাঙ্গ দশাকে 'নিম্ফ' (Nymph) বলে। নিম্ফ ধাপে ধাপে রূপান্তরিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গে পরিণত হয়।
২. খোলস মোচন বা একডাইসিস: নিম্ফের কিউটিকল শক্ত ও অস্থিতিস্থাপক হওয়ায় এটি বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রসারিত হতে পারে না। ফলে স্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রয়োজনে নিম্ফ নির্দিষ্ট সময় পর পর পুরনো কিউটিকল বর্জন করে নতুন কিউটিকল গঠন করে। এই খোলস ত্যাগের প্রক্রিয়াকে মোল্টিং (Moulting) বা একডাইসিস বলে।
৩. ধাপসমূহ: ঘাসফড়িং সাধারণত পাঁচবার খোলস মোচন সম্পন্ন করে। প্রতিটি খোলস মোচনের অন্তর্বর্তীকালীন দশাকে 'ইনস্টার' (Instar) বলে। প্রথম ইনস্টার থেকে ক্রমান্বয়ে পঞ্চম ইনস্টার অতিক্রম করে ঘাসফড়িং পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গে রূপ লাভ করে।
৪. দৈহিক পরিবর্তন: প্রতিবার খোলস মোচনের সাথে সাথে এদের দেহের আকার বৃদ্ধি পায়, ডানার কুঁড়ি বা প্যাড বড় হতে থাকে এবং সবশেষে জননাঙ্গ ও কার্যকর ডানা বিকশিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করে।
সুতরাং, বারবার খোলস মোচন বা মোল্টিংয়ের মাধ্যমেই ঘাসফড়িং নিম্ফ দশা থেকে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়, যা উদ্দীপকের বক্তব্যকে যথাযথভাবে সমর্থন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও