পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষার দাবি উত্থাপন করেন কে?
- খ)(2)
যুক্তফ্রন্ট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ছকটি তোমার পঠিত ব্রিটিশ ভারতের কোন সাংবিধানিক ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ছকে নির্দেশিত সংবিধানিক ঘটনাটির কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তান গণপরিষদে প্রথম বাংলা ভাষার দাবি উত্থাপন করেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্ট বলতে ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত জোটকে বোঝায়। ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রজা পার্টি (কৃষক শ্রমিক পার্টি), নেজামে ইসলাম এবং পরে গণতন্ত্রী দলসহ প্রধান প্রধান বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে এই নির্বাচনী মোর্চা গড়ে তোলা হয়। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা এবং এর মূল ভিত্তি ছিল ঐতিহাসিক ২১ দফা কর্মসূচি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকটি ব্রিটিশ ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসে ১৯৪৬ সালের 'মন্ত্রিমmission পরিকল্পনা' বা 'ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা'কে (Cabinet Mission Plan) নির্দেশ করে।
১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে ব্রিটিশ সরকার ভারতের রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূরীকরণ এবং ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ খুঁজতে লর্ড পেথিক লরেন্সের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি ব্রিটিশ ক্যাবিনেট মিশন ভারতে পাঠায়। এই কমিশন ১৬ মে, ১৯৪৬ সালে তাদের সুপারিশমালা প্রকাশ করে। উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত বিষয়গুলোর সাথে ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার হুবহু মিল রয়েছে।
ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল—দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাব এবং স্বল্পমেয়াদি প্রস্তাব। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবে ব্রিটিশ ভারত ও দেশীয় রাজ্যগুলোর সমন্বয়ে একটি 'ভারত ইউনিয়ন গঠন', প্রদেশ ও দেশীয় রাজ্যগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও ক্ষমতা, ভারতীয় প্রদেশসমূহকে তিনটি গ্রুপে (ক, খ ও গ) বিভক্তিকরণ এবং একটি সংবিধান প্রণয়নকারী গণপরিষদ গঠনের সুপারিশ করা হয়। অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদি প্রস্তাবে সকল দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্রুত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের অবসান ঘটানোর কথা বলা হয়েছিল। অতএব, উদ্দীপকের ছকটি ক্যাবিনেট মিশন বা মন্ত্রিমmission পরিকল্পনাকেই স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকে নির্দেশিত সাংবিধানিক ঘটনাটি হলো ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমmission বা ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা। ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে এটি ঘোষিত হলেও এর সামগ্রিক কার্যকারিতা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
প্রথমত, পরিকল্পনাটির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ উভয় দলই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে পরিকল্পনাটি গ্রহণে সম্মত হয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে গণপরিষদ নির্বাচনের আয়োজন করা হয় এবং স্বল্পমেয়াদি প্রস্তাব অনুযায়ী জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও গঠিত হয়, যেখানে পরবর্তীতে মুসলিম লীগও যোগ দেয়।
তবে প্রদেশগুলোর বাধ্যতামূলক গ্রুপভুক্তির বিষয়ে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য তৈরি হয়। জওহরলাল নেহরুর এক বক্তব্যে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ গণপরিষদে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত মিললে মুসলিম লীগ ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের সম্মতি প্রত্যাহার করে নেয় এবং পাকিস্তানের দাবিতে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস (Direct Action Day) আহ্বান করে, যা ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রূপ নেয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলেও কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের পারস্পরিক অসহযোগিতা ও তীব্র বিরোধের কারণে সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ভেঙে পড়ে।
ফলে ক্যাবিনেট মিশনের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ অখণ্ড ভারতের অধীনে একটি টেকসই সংবিধান ও যৌথ সরকার প্রতিষ্ঠা কার্যকর হতে পারেনি। মিশনটির ব্যর্থতাই মূলত ব্রিটিশ সরকারকে বাধ্য করে অখণ্ড ভারতের আশা ত্যাগ করে ১৯৪৭ সালের ৩ জুনের পরিকল্পনা ও ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে দেশভাগের পথে অগ্রসর হতে। সুতরাং, তাৎক্ষণিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকার ও গণপরিষদ গঠনের মতো কিছু ক্ষেত্র আংশিক কার্যকর হলেও চূড়ান্ত বিচারে পরিকল্পনাটি অকার্যকর ও ব্যর্থ হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও