অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
২০২১ সালের মধ্য সময়ে "ক" দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি। মোট আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার এবং মোট জীবিত জন্ম সংখ্যা ২৫ লক্ষ। উক্ত বছরের ঐ দেশে বহিরাগমন ৮০ হাজার এবং বহির্গমন ৪ লক্ষ।
- ক)(1)
অশোধিত মৃত্যুহার কি?
- খ)(2)
জনসংখ্যা বৃদ্ধি কখন প্রত্যাশিত হতে পারে?
- গ)(3)
"ক" দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব ও অশোধিত জন্মহার নির্ণয় কর।
- ঘ)(4)
"ক" দেশের নিট অভিবাসন হারের ভিত্তিতে উক্ত দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট বছরে প্রতি হাজার মধ্যবর্তী জনসংখ্যার বিপরীতে মোট যে সংখ্যক মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তাকে অশোধিত মৃত্যুহার (CDR) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশে যখন সম্পদের প্রাচুর্য থাকে কিন্তু প্রয়োজনীয় জনসংখ্যার অভাবে সেই সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয় না (অর্থাৎ দেশটি যখন নিম্ন-জনসংখ্যার অবস্থায় থাকে), তখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রত্যাশিত হতে পারে। অনুকূল জনসংখ্যা স্তরে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় কর্মক্ষম জনশক্তির জোগান নিশ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্য অনুসারে:
মোট জনসংখ্যা () = ১৭ কোটি = ১৭,০০,০০,০০০ জন
মোট আয়তন () = ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার
মোট জীবিত জন্ম () = ২৫ লক্ষ = ২৫,০০,০০০ জন১. জনসংখ্যার ঘনত্ব (Density of Population, ):
আমরা জানি,
জন/বর্গ কিমি (প্রায়)২. অশোধিত জন্মহার (Crude Birth Rate, ):
আমরা জানি,
(প্রতি হাজারে)অতএব, 'ক' দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১,১৫২ জন এবং অশোধিত জন্মহার প্রতি হাজারে প্রায় ১৪.৭১ জন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ক' দেশের নিট অভিবাসন হার এবং এর ভিত্তিতে আর্থসামাজিক অবস্থা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
উদ্দীপক অনুসারে:
মোট জনসংখ্যা () = ১৭,০০,০০,০০০ জন
বহিরাগমন (Immigration, ) = ৮০,০০০ জন
বহির্গমন (Emigration, ) = ৪,০০,০০০ জননিট অভিবাসন () = বহিরাগমন () - বহির্গমন () = ৮০,০০০ - ৪,০০,০০০ = -৩,২০,০০০ জন।
নিট অভিবাসন হার () = (প্রতি হাজারে)মতামত ও আর্থসামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ:
১. ঋণাত্মক অভিবাসন: দেশটির নিট অভিবাসন ঋণাত্মক (-৩,২০,০০০), অর্থাৎ দেশটিতে যত লোক প্রবেশ করেছে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি লোক দেশ ত্যাগ করেছে।
২. কর্মসংস্থানের ঘাটতি: এত বিপুল সংখ্যক মানুষ বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রধান কারণ হলো অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব এবং জীবনযাত্রার নিম্নমান। মানুষ মূলত উন্নত জীবিকা ও উচ্চ আয়ের আশায় বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে।
৩. জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ: 'ক' দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১,১৫২ জন)। ফলে সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে, যা মানুষকে প্রবাসে যেতে বাধ্য করছে।
৪. ইতিবাচক দিক (রেমিট্যান্স প্রবাহ): বহির্গমনের ফলে দেশে বেকারত্বের চাপ সাময়িকভাবে কমছে এবং প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখছে।সুতরাং, ঋণাত্মক নিট অভিবাসন ইঙ্গিত দেয় যে 'ক' দেশটি একটি উচ্চ ঘনবসতিপূর্ণ এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও