ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সুলতানা তারুবা তার সৌন্দর্য ও বুদ্ধিমত্তার কারণে আমির দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। হেরেম থেকে শুরু করে বিচারকার্য প্রায় সকল ক্ষেত্রেই তিনি স্ত্রীর প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্ত্রীর সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে গণ্য করতেন। সুলতানার নির্দেশেই আমির-উমরাদের পদায়ন, পদচ্যুতি এবং নিকট আত্মীয়দের উচ্চপদে অধিষ্ঠিত করা হতো। তবে শাসন ক্ষমতা স্বহস্তে গ্রহণের ইচ্ছা তার ছিল না।
- ক)(1)
'আকবরনামা' কে রচনা করেন?
- খ)(2)
'কবুলিয়ত ও পাট্টা' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সুল্তানার কর্মকাণ্ডের সাথে কোন মুঘল সম্রাজ্ঞীর সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মুঘল সম্রাটের ওপর উক্ত সম্রাজ্ঞীর প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সম্রাট আকবরের সভাসদ আবুল ফজল 'আকবরনামা' রচনা করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'কবুলিয়ত ও পাট্টা' হলো শেরশাহ প্রবর্তিত ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান দলিল।
'পাট্টা' হলো সরকারের পক্ষ থেকে প্রজার জমির স্বত্ব, সীমানা ও প্রদেয় খাজনার পরিমাণ উল্লেখ করে প্রজাকে প্রদত্ত একটি সরকারি দলিল বা সনদ। পক্ষান্তরে, পাট্টায় উল্লিখিত শর্ত ও খাজনা প্রদানে সম্মত হয়ে প্রজা সরকারকে যে অঙ্গীকারপত্র দিত, তাকে 'কবুলিয়ত' বলা হতো। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষক ও সরকারের মধ্যে সরাসরি সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সুলতানা তারুবার কর্মকাণ্ডের সাথে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের মহিষী নূরজাহানের কর্মকাণ্ডের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুলতানা তারুবা তাঁর সৌন্দর্য ও বুদ্ধিমত্তার জোরে স্বামীর ওপর পূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেন এবং প্রশাসন, বিচার ও পদায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসেও নূরজাহান ছিলেন অসাধারণ সুন্দরী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমতী ও রাজনীতি-সচেতন এক নারী। সম্রাট জাহাঙ্গীর নূরজাহানের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার কারণে সাম্রাজ্যের প্রকৃত শাসনভার কার্যত নূরজাহানের হাতে ন্যস্ত হয়েছিল। উচ্চপদে নিয়োগ, আমিরদের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে নূরজাহান চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করতেন, যা উদ্দীপকের সুলতানা তারুবার কর্মকাণ্ডের অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ব্যক্তিগত জীবন ও শাসনব্যবস্থায় সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং প্রভাবশালী।
১৬১১ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাথে নূরজাহানের বিবাহের পর থেকেই নূরজাহান মুঘল দরবারে অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাব বিস্তার করেন। জাহাঙ্গীর নূরজাহানের সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা ও প্রশাসনিক দক্ষতায় এতই মুগ্ধ ও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি বলতেন, "আমি নূরজাহানের হাতে রাজকার্য সমর্পণ করেছি, আমার কেবল এক সের মাংস ও এক পেয়ালা সুরা প্রয়োজন।" সম্রাটের এই আস্থার সুযোগে নূরজাহান তার পিতা ইতিমাদ-উদ-দৌলা, ভাই আসফ খান এবং যুবরাজ খুররমকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র (নূরজাহান জান্তা) গড়ে তোলেন।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নূরজাহানের অনুমোদন ছাড়া কোনো রাজকীয় আদেশ কার্যকর হতো না। এমনকি জাহাঙ্গীরের সাথে যৌথভাবে নূরজাহানের নামে মুদ্রা চালু করা হয়েছিল এবং তিনি ঝরোকা দর্শনে এসে প্রজাদের দর্শন দিতেন, যা ছিল সার্বভৌম সম্রাটের বিশেষ অধিকার। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বরখাস্তেও তার সিদ্ধান্ত কার্যকর হতো। ফলে জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালের একটি বড় অংশে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত চালিকাশক্তি ছিলেন নূরজাহান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও