অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

X' ও 'Y 8 ' দু'টি দেশ। কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে 'X' দেশটির আবহাওয়া অনুকূল হলেও 'Y' দেশটি সমুদ্র উপকূলবর্তী হওয়ায় বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়। নিচের ছকে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে উভয় দেশের জিডিপিতে কৃষির বিভিন্ন উপ- খাতের অবদান তুলে ধরা হলো-

কৃষি উপ-খাতের নাম | 'X' দেশ (%) | 'Y' দেশ (%)
১. শস্য ও শাকসবজি | ১২.০০ | ৮.৫০
২. পশু সম্পদ | ৮.০০ | ৪.০০
৩. বনজ সম্পদ | ৪.০০ | ২.৫০
৪. মৎস্য সম্পদ | ৫.০০ | ৩.০০

  1. ক)

    কৃষিজোত কী?

    (1)
  2. খ)

    একই জমিতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন কি কল্যাণকর?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে 'X' দেশের ক্ষেত্রে জিডিপিতে কৃষি উপ-খাতসমূহের অবদান লেখচিত্রের মাধ্যমে দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি 'Y' দেশের জিডিপি'তে কৃষি উপখাতগুলোতে উল্লিখিত অবদানের ক্ষেত্রে কীরূপ প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে তুমি মনে কর?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষিকাজ পরিচালনার উদ্দেশ্যে একজন কৃষকের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন মোট আবাদি জমির পরিমাণকে কৃষিজোত বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, একই জমিতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন (শস্যাবর্তন বা Crop Rotation) অত্যন্ত কল্যাণকর।

    এ পদ্ধতিতে জমিতে বারবার একই ফসল চাষ না করে ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টি চাহিদা সম্পন্ন ফসল (যেমন: ধান চাষের পর ডাল বা শিম জাতীয় ফসল) চাষ করা হয়। এর ফলে মাটির উর্বরতা ও পুষ্টি উপাদান প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত হয়, ক্ষতিকর পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের উপদ্রব কমে এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পেয়ে কৃষকের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধি পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে 'X' দেশের জিডিপিতে কৃষি উপ-খাতসমূহের অবদান নিম্নরূপ:
    ১. শস্য ও শাকসবজি: ১২.০০%
    ২. পশু সম্পদ: ৮.০০%
    ৩. বনজ সম্পদ: ৪.০০%
    ৪. মৎস্য সম্পদ: ৫.০০%

    লেখচিত্র অঙ্কন পদ্ধতি (স্তম্ভলেখ বা Bar Diagram):

    • ভূমি অক্ষে (X-অক্ষ) কৃষির চারটি উপ-খাত (শস্য ও শাকসবজি, পশু সম্পদ, বনজ সম্পদ, মৎস্য সম্পদ) স্থাপন করা হয়।
    • লম্ব অক্ষে (Y-অক্ষ) জিডিপিতে অবদানের শতকরা হার (০% থেকে শুরু করে ২%, ৪%, ৬%, ৮%, ১০%, ১২% ইত্যাদি ব্যবধানে) স্থাপন করা হয়।
    • প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপ-খাতগুলোর ওপর উল্লম্ব স্তম্ভ আঁকা হয়:
      • শস্য ও শাকসবজির স্তম্ভের উচ্চতা হবে ১২ একক।
      • পশু সম্পদের স্তম্ভের উচ্চতা হবে ৮ একক।
      • বনজ সম্পদের স্তম্ভের উচ্চতা হবে ৪ একক।
      • মৎস্য সম্পদের স্তম্ভের উচ্চতা হবে ৫ একক।

    উক্ত স্তম্ভলেখ বা বার ডায়াগ্রামের মাধ্যমে স্পষ্ট দেখা যায় যে, 'X' দেশের জিডিপিতে শস্য ও শাকসবজি উপ-খাতের অবদান সর্বোচ্চ (১২%) এবং বনজ সম্পদের অবদান সর্বনিম্ন (৪%)।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি উপকূলবর্তী 'Y' দেশের জিডিপিতে কৃষির উপ-খাতসমূহের অবদানের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে বলে আমি মনে করি।

    উদ্দীপক অনুসারে, 'Y' দেশটি উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে এবং ঘনঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা দেখা দেবে। এর ফলে কৃষির প্রতিটি উপ-খাতে নিম্নোক্ত প্রভাব পড়বে:

    ১. শস্য ও শাকসবজি: সমুদ্রের লোনাপানি স্থলভাগে প্রবেশ করায় কৃষিজমির লবণাক্ততা বেড়ে যাবে, ফলে আবাদি জমির উর্বরতা নষ্ট হবে এবং শস্য ও শাকসবজির উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
    ২. পশু সম্পদ: চারণভূমি প্লাবিত হওয়া, লবণাক্ততার কারণে ঘাস ও পশুখাদ্যের সংকট সৃষ্টি এবং বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবে গবাদি পশুর সংখ্যা ও উৎপাদনশীলতা কমে যাবে।
    ৩. বনজ সম্পদ: লবণাক্ততার আধিক্য এবং ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে উপকূলীয় বনাঞ্চলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে ও বনজ উদ্ভিদের বিনাশ ঘটবে।
    ৪. মৎস্য সম্পদ: তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পানির লবণাক্ততার পরিবর্তনে মিঠাপানির মাছের প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হবে এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    সুতরাং, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে 'Y' দেশের সার্বিক কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং জিডিপিতে উল্লিখিত প্রতিটি কৃষি উপ-খাতের অবদান ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন