বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

প্রীতিলতা-সূর্যসেন নেই তাঁরা আরএমনই সহস্র এসে গেছে বারবারশাজাহান আর তাঁর মহারাজ্যপাটঅশোকের সাম্রাজ্যের যত ঠাটবাটকিছুই নাহিকো মহাকালের গ্রাসেনিঃশেষ সকলেই সময়ের স্রোতেসময় পারে নি তবু নাম মুছে দিতেমানুষের মন আজও সে নাম স্মরিছে।নাম হয় মৃত্যুহীন যদি থাকে কর্মকর্ম হল বেঁচে থাকার অক্ষয় বর্ম।

  1. ক)

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বনফুল’ প্রকাশিত হয় কত সালে?

    (1)
  2. খ)

    “চারিদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।”-এখানে ‘বাঁকা জল’ দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    ‘সোনার তরী’ কবিতার কৃষকের সাথে উদ্দীপকের ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোর তুলনামূলক আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের মূল সুর ‘সোনার তরী’ কবিতারই প্রতিধ্বনি।”- উক্তিটির পক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বনফুল’ ১৮৮০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় (এটি ১৮৭৬ সালে ‘জ্ঞানাঙ্কুর’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “চারিদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।”—এখানে ‘বাঁকা জল’ দ্বারা মূলত নদীর তীব্র ও ঘূর্ণায়মান স্রোতধারাকে বোঝানো হয়েছে, যা রূপক অর্থে কালস্রোত বা মহাকালের নিষ্ঠুর ও সর্বগ্রাসী রূপকে নির্দেশ করে।

    নদীর বাঁক নেওয়া খরস্রোতা জলরাশি যেমন কৃষকের ক্ষুদ্র দ্বীপসদৃশ ধানক্ষেতকে চারপাশ থেকে গ্রাস করতে ধেয়ে আসে, তেমনি মহাকালের প্রবহমান স্রোত মানুষের ব্যক্তিগত সত্তা ও পার্থিব অস্তিত্বকে চারদিক থেকে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য ঘিরে রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘সোনার তরী’ কবিতার কৃষক এবং উদ্দীপকের ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোর মধ্যে নশ্বর মানবজীবনের অনিবার্য বিলুপ্তি এবং মহাকালের কাছে ব্যক্তির আত্মসমর্পণের ক্ষেত্রে গভীর মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকে প্রীতিলতা, সূর্যসেন, সম্রাট শাহজাহান কিংবা অশোকের মতো পরাক্রমশালী ও কীর্তিমান ব্যক্তিবর্গ আজ আর শারীরিকভাবে বেঁচে নেই; মহাকালের গ্রাসে এবং সময়ের নির্মম স্রোতে তাঁদের দৈহিক অস্তিত্ব চিরতরে নিঃশেষ হয়ে গেছে।

    একইভাবে, ‘সোনার তরী’ কবিতার কৃষকও একা, অসহায় ও ক্ষুদ্র। তিনি তাঁর সারা জীবনের সাধনায় উৎপন্ন ধান অর্থাৎ সৃষ্টিসম্ভার সোনার তরীতে তুলে দিতে পারলেও মহাকালের তরী বা সোনার তরীতে তাঁর নিজের কোনো ঠাঁই হয় না। ব্যক্তি-কৃষককে শূন্য নদীর তীরে বিলীন হয়ে যেতে হয়। উদ্দীপকের ঐতিহাসিক ব্যক্তিবর্গও কৃষকের মতোই সময়ের অবধারিত নিয়মে দৈহিকভাবে হারিয়ে গেছেন। সুতরাং, মহাকালের নির্মম নিয়মে মানুষের পার্থিব বা দৈহিক বিনাশের দিক থেকে কৃষক ও উদ্দীপকের চরিত্রগুলো একই সূত্রে গাঁথা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের মূল সুর ‘সোনার তরী’ কবিতারই প্রতিধ্বনি।”—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ‘সোনার তরী’ কবিতার মূল ভাবার্থ হলো—মহাকাল ব্যক্তির দৈহিক সত্তাকে গ্রহণ করে না, বরং ব্যক্তির আজীবনের সৃষ্টিকর্ম বা মহৎ সৃষ্টিকেই ধারণ করে রাখে। কৃষক তাঁর সোনার ধান তরীতে তুলে দিয়ে নিজে কালস্রোতের তীরে শূন্য হাতে পড়ে থাকেন। অর্থাৎ ব্যক্তি মানুষ মরণশীল হলেও তার সৃষ্টিকর্ম অবিনশ্বর ও চিরন্তন।

    উদ্দীপকেও অবিকল এই দর্শনই অনুরণিত হয়েছে। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রীতিলতা, সূর্যসেন, শাহজাহান কিংবা অশোকের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের সাম্রাজ্য ও পার্থিব রূপ মহাকালের গর্ভে নিঃশেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তাঁদের নাম ও আদর্শ মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি; কারণ তাঁদের ‘কর্ম’ ছিল মৃত্যুহীন। কবিতার ভাষায়, “কর্ম হল বেঁচে থাকার অক্ষয় বর্ম।” মহাকালের স্রোত ব্যক্তিকে মুছে দিলেও ব্যক্তির কর্ম ও স্মৃতি মানুষের চেতনায় অক্ষয় হয়ে বাঁচে।

    অতএব, ব্যক্তিসত্তার নশ্বরতা এবং সৃষ্টিকর্মের অবিনশ্বরতার যে দার্শনিক সত্য ‘সোনার তরী’ কবিতায় ব্যক্ত হয়েছে, উদ্দীপকেও ঠিক সেই একই সত্য প্রতিফলিত হওয়ায় উক্তিটি সর্বাংশে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন