বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

7.

(ক) একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে শহিদ মিনারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করো।অথবা, (খ) 'শিশুশ্রম বন্ধের আবশ্যকতা' বিষয়ে প্রধান অতিথির একটি ভাষণ তৈরি করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

(ক) একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে শহিদ মিনারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা:

একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবোজ্জ্বল ও শোকাবহ দিন। প্রতিবছরের মতো এ বছরও ২১শে ফেব্রুয়ারি ভোরবেলায় আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গে শহিদ মিনারের প্রভাতফেরিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।

ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঘুম থেকে উঠে সাদা-কালো পোশাক পরিধান করে আমরা এলাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের উদ্দেশ্যে রওনা হই। শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর তখনও পুরোপুরি কাটেনি। পথিমধ্যে শত শত নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-শিশু সবার খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নেওয়ার দৃশ্য আমাকে দারুণভাবে আবেগাপ্লুত করে তোলে। সকলের কণ্ঠে তখন বেজে উঠছিল একুশের কালজয়ী গান— "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি..."। গানটির সুর চারপাশের নিস্তব্ধ পরিবেশকে এক ভাবগম্ভীর ও শোকাতুর আবহ দান করেছিল।

শহিদ মিনারের কাছে পৌঁছাতেই মানুষের বিশাল লাইন দেখতে পাই। সবাই হাতে লাল গোলাপ, গাঁদা ও রজনীগন্ধার স্তবক নিয়ে ধীরপায়ে শৃঙ্খলা বজায় রেখে এগিয়ে চলেছেন। শহিদ বেদির কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় আমার হৃদয় এক অজানা শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছি, সেই সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারদের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে। বেদিতে ফুল অর্পণ করার মুহূর্তটিতে আমার চোখের কোণে অজান্তেই অশ্রু জমে ওঠে। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ সেখানে নীরবে দাঁড়িয়ে বীর শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

প্রভাতফেরির এই অভিজ্ঞতা আমার অন্তরে দেশপ্রেম, স্বাধিকার চেতনা এবং মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধকে নতুন করে জাগ্রত করে। এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং নিজের শেকড়কে গভীরভাবে অনুভব করার এক পবিত্র মুহূর্ত ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন