কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
শমসের মিয়া একজন আখ চাষি। তিনি এ বছর তার পূর্বের চাষকৃত আখের জমিতে আখ গাছের গোড়া থেকে পুনরায় আখ চাষ করেন। কিছুদিন পর তিনি লক্ষ করলেন, কিছু গাছের পাতার শিরা বরাবর লম্বা দাগ। তিনি আক্রান্ত আখের কাণ্ড চিড়ে দেখলেন কাণ্ডের মধ্যে লম্বা লাল দাগের মাঝে সাদা দাগ
- ক)(1)
মশলা ফসল কী?
- খ)(2)
"ফল চাষ লাভজনক" ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শমসের মিয়ার বর্তমান বছরের আখ চাষ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রোগটি দমনে শমসের মিয়া কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ। করবেন? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব ফসল রান্নায় খাবারের স্বাদ, সুবাস, বর্ণ ও তৃপ্তি বাড়াতে অল্প পরিমাণে ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে মশলা ফসল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফল চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক কৃষিকাজ। ফল গাছ একবার রোপণ করলে তা বহু বছর ধরে একটানা ফলন প্রদান করে, ফলে প্রতি বছর নতুন করে চারা রোপণের প্রয়োজন হয় না এবং উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম হয়। এছাড়া দেশ-বিদেশে ফলের ব্যাপক চাহিদা এবং বাজারমূল্য বেশি থাকায় মাঠ ফসলের তুলনায় ফল চাষে অনেক বেশি আর্থিক মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শমসের মিয়ার বর্তমান বছরের আখ চাষ পদ্ধতিটি হলো 'মুড়ি আখ' (Ratoon Cane) চাষ পদ্ধতি।
পূর্ববর্তী বছরের কাটার পর আখের গোড়া বা শিকড়যুক্ত অবশিষ্ট অংশ থেকে কুঁড়ি গজিয়ে যে নতুন আখ উৎপাদন করা হয়, তাকে মুড়ি আখ বলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, শমসের মিয়া নতুন করে আখের জমি তৈরি না করে এবং নতুন বীজ বা চারা রোপণ না করে তার পূর্বের চাষকৃত জমিতে আখের গোড়া থেকে পুনরায় আখ চাষ করেছেন।
মুড়ি আখ চাষের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ফসল কাটার পরপরই গোড়াগুলোকে মাটির কাছাকাছি সমানভাবে কেটে দেওয়া হয় এবং জমিতে নিড়ানি, সুষম সার প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় সেচ দেওয়া হয়। এতে খুব অল্প খরচ ও সময়ে আখের নতুন চারা বের হয়ে বেড়ে ওঠে। এটি মূলত খরচ ও শ্রম সাশ্রয়ী একটি পদ্ধতি হলেও এতে আগের ফসলের রোগবালাই নতুন গাছে সহজে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আখের পাতার শিরা বরাবর লম্বা দাগ এবং কাণ্ড চিড়লে লম্বা লাল দাগের মাঝে সাদা দাগ পরিলক্ষিত হওয়া হলো আখের মারাত্মক 'লাল পচা' (Red Rot) রোগের লক্ষণ। এটি মূলত Colletotrichum falcatum নামক ছত্রাকের আক্রমণে ঘটে। এই রোগ দমনে শমসের মিয়ার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আক্রান্ত গাছ অপসারণ ও ধ্বংস: জমিতে লাল পচা রোগে আক্রান্ত গাছ দেখামাত্র শিকড়সহ উপড়ে ফেলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে বা মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে, যাতে ছত্রাকের জীবাণু অন্য গাছে না ছড়ায়।
২. মুড়ি আখ চাষ পরিহার করা: যেহেতু লাল পচা রোগের জীবাণু আখের গোড়া ও মাটিতে সুপ্তাবস্থায় বেঁচে থাকে, তাই আক্রান্ত জমিতে মুড়ি আখ চাষ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
৩. শস্য পর্যায় অবলম্বন: একই জমিতে বারবার আখের চাষ না করে ২-৩ বছর ধান, ডাল বা তৈলবীজ জাতীয় ফসল চাষের মাধ্যমে ফসলের পর্যায়ক্রম বজায় রাখতে হবে। এতে মাটির জীবাণু প্রাকৃতিকভাবে নষ্ট হয়।
৪. রোগমুক্ত ও প্রতিরোধী জাতের বীজ ব্যবহার: পরবর্তী মৌসুমে অবশ্যই প্রত্যায়িত সুস্থ ও রোগমুক্ত বীজ আখ ব্যবহার করতে হবে এবং লাল পচা রোগ প্রতিরোধী জাত (যেমন- ঈশ্বরদী ১৬, ঈশ্বরদী ২০ ইত্যাদি) চাষ করতে হবে।
৫. বীজ শোধন: রোপণের পূর্বে আখের টুকরো বা সেটের রোগ জীবাণু ধ্বংস করতে গরম পানিতে (৫০° সে. তাপমাত্রায় ২ ঘণ্টা) বা অনুমোদিত ছত্রাকনাশক (যেমন- কার্বেনডাজিম দ্রবণ) দিয়ে শোধন করে নিতে হবে।
৬. পানি নিষ্কাশন: আখের জমিতে যাতে অতিরিক্ত পানি জমে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি না হয়, সে জন্য উন্নত নিকাশ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
অতএব, উল্লিখিত সমন্বিত প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই শমসের মিয়া আখের লাল পচা রোগ সফলভাবে দমন করতে পারবেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও