কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মোরব্বা কী?

    (1)
  2. খ)

    আমাদের নিয়মিত শাকসবজি খাওয়া উচিত কেন?

    (2)
  3. গ)

    'A' চিহ্নিত পদ্ধতিতে ফল সংরক্ষণ কীভাবে করা যায়? ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    আমাদের চাহিদা পূরণে উক্ত পদ্ধতিগুলোর প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিনির গাঢ় দ্রবণে ফল ফুটিয়ে যে মিষ্টি খাদ্য তৈরি করা হয়, তাকে মোরব্বা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং খাদ্যআঁশ (রাফেজ) থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শারীরিক বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপে সহায়তা করে। নিয়মিত শাকসবজি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে এবং নানা প্রকার জটিল রোগবালাই থেকে শরীর রক্ষা পায়। তাই স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আমাদের নিয়মিত শাকসবজি খাওয়া উচিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে ফল সংরক্ষণের পদ্ধতির মধ্যে 'A' চিহ্নিত পদ্ধতিটি হলো 'তাজা অবস্থায় সংরক্ষণ'।

    তাজা অবস্থায় ফল সংরক্ষণের প্রধান উপায়গুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. কম তাপমাত্রায় বা রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ: রেফ্রিজারেটর বা হিমাগারে নিম্ন তাপমাত্রায় ফল রাখলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের আক্রমণ এবং এনজাইমের কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে ফল দীর্ঘ সময় ভালো ও তাজা থাকে।
    ২. নিয়ন্ত্রিত বায়ুমণ্ডলে সংরক্ষণ: হিমাগারের বায়ুতে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করে ফলের শ্বসনক্রিয়া ধীর করার মাধ্যমে ফল দীর্ঘদিন তাজা রাখা যায়।
    ৩. বায়ু চলাচলযুক্ত ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ: ফলের ওপর মোমের পাতলা প্রলেপ দিয়ে বা পলিথিন ব্যাগে ছিদ্র করে ফল ঝুলিয়ে রাখলে আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং ফল নষ্ট হওয়া বিলম্বিত হয়।
    ৪. মোড়কজাতকরণ: পরিষ্কার ও অক্ষত ফল যথাযথভাবে ঝুড়ি বা বাক্সে সাজিয়ে শীতল জায়গায় সংরক্ষণ করা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ফল সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলো হলো—তাজা অবস্থায় সংরক্ষণ, শুকিয়ে সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাত করে সংরক্ষণ। আমাদের দৈনন্দিন পুষ্টি ও খাদ্যের সার্বিক চাহিদা পূরণে এই পদ্ধতিগুলোর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

    ১. ঋতুভিত্তিক ফলের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ: বাংলাদেশে ফল সাধারণত নির্দিষ্ট ঋতুতে প্রচুর ফলে। ফল সংরক্ষণ না করলে মৌসুম শেষে ফলের অভাব দেখা দেয়। উক্ত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে অসময়েও ফল পাওয়া সম্ভব হয়।
    ২. পুষ্টিচাহিদা পূরণ: ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ লবণ। প্রক্রিয়াজাতকরণ (যেমন- জ্যাম, জেলি, আচার, মোরব্বা তৈরি) বা শুকিয়ে সংরক্ষণের মাধ্যমে সারা বছর শরীরের অত্যাবশ্যক পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়।
    ৩. অপচয় রোধ ও অর্থনৈতিক লাভ: ভরা মৌসুমে উৎপাদিত ফলের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। বিভিন্ন পদ্ধতিতে ফল সংরক্ষণ করলে ফলের অপচয় রোধ হয় এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য পান।
    ৪. কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য: ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে ওঠে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখে।

    সুতরাং বলা যায়, সারা বছর পুষ্টির অভাব পূরণ, ফলের অপচয় রোধ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উক্ত সংরক্ষণ পদ্ধতিগুলোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন