ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
আশালতা রাজ্যের রাজা সুমন চৌধুরী সকলের নিকট রূপকথার রাজা বলে পরিচিত। তিনি অন্যায়কারীদের প্রতি যেমন কঠোর, তেমনি গরিব-দুঃখীদের প্রতি ছিলেন উদার ও মহানুভব। তিনি ধর্মের বিধি-বিধান শতভাগ আন্তরিকতার সাথে পালন করতেন। অসহায় ও দুঃস্থদের তিনি অকাতরে সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। প্রজাসাধারণের অবস্থা স্বচক্ষে দেখার জন্য তিনি রাত্রিকালে ছদ্মবেশে রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে পথে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতেন। দেশের বাইরেও তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে তিনি সহাবস্থান ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেন ।
- ক)(1)
বার্মাকি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ?
- খ)(2)
“নহরে জুবাইদা' বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসকের মানবিক গুণাবলিকে আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে তুলনা করো।
- ঘ)(4)
পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে উদ্দীপকের শাসকের চেয়ে উক্ত আব্বাসি খলিফা ছিলেন আরও বিখ্যাত।' উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বার্মাকি বংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন খালিদ বিন বার্মাক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘নহরে জুবাইদা’ হলো আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশীদের মহীয়সী পত্নী রানি জুবাইদা কর্তৃক মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তীর্থযাত্রী ও স্থানীয় জনসাধারণের সুপেয় পানির তীব্র সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে খননকৃত একটি ঐতিহাসিক খাল বা কৃত্রিম জলপ্রণালী।
হজের সময় হাজিদের পানির মারাত্মক দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে রানি জুবাইদা তৎকালীন প্রায় ১৭ লক্ষ দিনার ব্যয় করে হুনাইন উপত্যকা ও তায়েফ থেকে পানি এনে মক্কা ও আরাফাত ময়দান পর্যন্ত এ দীর্ঘ খালটি খনন করান। জনকল্যাণমূলক কাজের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এই খালটি ইতিহাসে ‘নহরে জুবাইদা’ নামে প্রসিদ্ধ। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আশালতা রাজ্যের রাজা সুমন চৌধুরীর মানবিক গুণাবলিতে ন্যায়পরায়ণতা, প্রজাবাৎসল্য, ধার্মিকতা এবং ছদ্মবেশে প্রজাদের খোঁজখবর নেওয়ার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশীদ ছিলেন অত্যন্ত প্রজাদরদি, দানশীল ও ধার্মিক শাসক। তিনি প্রজাদের প্রকৃত অবস্থা স্বচক্ষে দেখার জন্য রাতের আঁধারে সাধারণ পোশাকে ছদ্মবেশ ধারণ করে বাগদাদের অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতেন। কোনো দুঃস্থ বা অনাহারী প্রজার সন্ধান পেলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজকোষ থেকে খাদ্য ও সাহায্য প্রদান করতেন। এছাড়া তিনি অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছিলেন অত্যন্ত কঠোর এবং ধর্মীয় অনুশাসন নিষ্ঠার সাথে পালন করতেন।
উদ্দীপকের রাজা সুমন চৌধুরীও একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তিনি গরিব-দুঃখীদের প্রতি অত্যন্ত উদার, ধার্মিক এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নে অনমনীয়। প্রজাদের দুঃখ-কষ্ট স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি রাতে ছদ্মবেশে নগর পরিভ্রমণ করতেন এবং অসহায়দের অকাতরে দান করতেন। অতএব, উভয় শাসকের এই মানবিক ও প্রজাদরদি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ একে অপরের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকের রাজা সুমন চৌধুরী বহির্বিশ্বের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখলেও আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশীদের পররাষ্ট্রনীতি ছিল সমকালীন বিশ্বে অত্যন্ত বিস্তৃত, গৌরবময় এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।
খলিফা হারুন-অর-রশীদ শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং তাঁর কূটনৈতিক সুসম্পর্ক এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি সুদূর ফ্রান্সের পরাক্রমশালী সম্রাট শার্লিমেন (Charlemagne)-এর সাথে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। উভয় শাসকের মধ্যে দূত ও বহুমূল্য উপহারবিনিময় হতো (যেমন—শার্লিমেনকে প্রেরিত ঐতিহাসিক জলঘড়ি ও একটি হাতি)। এছাড়া পরাশক্তি বাইজান্টাইনদের আক্রমণ তিনি বীরদর্পে প্রতিহত করেন এবং সম্রাজ্ঞী আইরিন ও পরবর্তীতে নিসিফোরাসকে কর দিতে বাধ্য করে নিজ শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন। একই সাথে চীনের তাং সাম্রাজ্যের সাথেও আব্বাসীয় খেলাফতের চমৎকার বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
উদ্দীপকের রাজা সুমন চৌধুরী বিভিন্ন দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করলেও খলিফা হারুন-অর-রশীদের কূটনীতির বৈশ্বিক প্রভাব, ভারসাম্য রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সামরিক ও কূটনৈতিক আধিপত্য ছিল অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী ও ঐতিহাসিক। সুতরাং, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে খলিফা হারুন-অর-রশীদ উদ্দীপকের রাজার তুলনায় নিঃসন্দেহে অনেক বেশি বিখ্যাত ও সফল ছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও