বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

সুন্দর সকাল। কুজনে মুখরিত চারপাশ। আকাশটা যেন আজ ধূপছায়া শাড়িতে নিজেকে জড়িয়েছে। এমনি মনোরম নৈসর্গিক নান্দনিকতা ভেদ করে চিৎকার করে উঠল ভিনদেশি যন্ত্রদানব। ছুটল গুলি! ঝরল রক্ত! বিনিময়ে বায়ান্নতে আমরা পেলাম কথা বলবার অধিকার। চুয়ান্ন, ছেষট্টি, ঊনসত্তর পেরিয়ে একাত্তরে আমরা পেলাম লাল-সবুজের পতাকা, পবিত্র মানচিত্র আর প্রিয় স্বদেশ।

  1. ক)

    শহরের পথে কী ফুটেছে?

    (1)
  2. খ)

    'অবিনাশী বর্ণমালা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটি ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সঙ্গে কোন কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ—তুলে ধর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার পূর্ণ অনুরণন ঘটেনি।”— মন্তব্যটি যাথার্থ্য নির্ণয় কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শহরের পথে থরে থরে ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'অবিনাশী বর্ণমালা' বলতে বাঙালির রক্তে কেনা এবং চিরকাল বেঁচে থাকার শক্তি ধারণকারী বাংলা ভাষার অক্ষরমালার শাশ্বত ও অবিনশ্বর রূপকে বোঝানো হয়েছে।

    ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার প্রমুখের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা অমরত্ব লাভ করেছে। কোনো স্বৈরাচার বা অপশক্তিই এই ভাষাকে স্তব্ধ করতে পারেনি। ভাষা আন্দোলনের এই রক্তস্নাত ঐতিহাসিক গৌরব অক্ষয় ও চিরন্তন বলেই কবি একে 'অবিনাশী বর্ণমালা' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ভাষার মর্যাদা লাভ এবং সেই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা ও জাতীয় চেতনার উন্মেষের দিক থেকে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি শামসুর রাহমান দেখিয়েছেন কীভাবে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের রক্তধারা ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নবচেতনায় আত্মপ্রকাশ করেছে। সেখানে সালাম, বরকতের রক্তের প্রতীক কৃষ্ণচূড়ার স্মৃতি জাতিকে শোষণ-পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা যোগায়।

    উদ্দীপকেও একইভাবে দেখানো হয়েছে ভিনদেশি শাসক-শোষকের গুলির মুখে রক্ত দিয়ে বায়ান্নতে ভাষার অধিকার অর্জন এবং তারই ধারাবাহিকতায় ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন পেরিয়ে একাত্তরে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা ও জাতীয় পতাকা অর্জন। উভয় ক্ষেত্রেই রক্তদানের মাধ্যমে ভাষার অধিকার ও স্বাধিকার অর্জনের ঐতিহাসিক যোগসূত্র ফুটে উঠেছে, যা গভীর সাদৃশ্য নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার পূর্ণ অনুরণন ঘটেনি।”— মন্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে বায়ান্ন থেকে একাত্তর পর্যন্ত দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিক ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে, যা মূলত একটি ঐতিহাসিক পরিক্রমা।

    পক্ষান্তরে, 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি রচিত হয়েছে মূলত ১৯৬৯ সালের আইয়ুববিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে। কবিতায় তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক জান্তার শোষণ, নিপীড়ন, মানবিক বিপর্যয় এবং তারই বিপরীতে সালাম, বরকত ও সাধারণ জনতার মৃত্যুভয়হীন যৌথ প্রতিরোধচেতনার গভীর রূপক ও নান্দনিক চিত্রায়ন ঘটেছে। শহরের কৃষ্ণচূড়া কেবল ফুল নয়, তা হয়ে উঠেছে শহীদের রক্তের প্রতীক। জনতার চোখে-মুখে প্রস্ফুটিত আত্মাহুতির দীপ্তি, একতার প্রত্যয় এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আবহ কবিতার প্রধান সুর।

    উদ্দীপকে আন্দোলনের সেই প্রতিবাদী মনস্তত্ত্ব, সংগ্রামী জনতার আবেগ, আত্মত্যাগের শৈল্পিক মহিমা এবং ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের বিশেষ অভিঘাতের রূপায়ণ অনুপস্থিত; সেখানে কেবল একটি কালিক ধারাবাহিকতার বিবরণ রয়েছে। অতএব, উদ্দীপকে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সংগ্রামী মর্মবাণী ও কাব্যিক গভীরতার পূর্ণ অনুরণন ঘটেনি—উক্তিটি পুরোপুরি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন