বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
'পৃথিবীতে এমন কেউ কেউ আছেন মিথ্যার সাথে করেন না আপসকোথাও মেকি দেখলেই ঝরে তাদের রোষকেউ কেউ বলে এটা তাদের দোষ অনেকেই তাদের বাহবা দিয়ে বলেআছে বটে সাহস।'
- ক)(1)
'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের রচনা?
- খ)(2)
'ও রকম বিনয়ের চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক-অনেক ভালো।'- প্রাবন্ধিকের এ উক্তির কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'মিথ্যার সাথে করেন না আপস' উক্তিটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের কোন বিষয় ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূলভাবের আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।"- মন্তব্যটি যাচাই করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিথ্যা বিনয়ের মাধ্যমে মানুষ নিজেকে ছোট করে এবং এর আড়ালে একধরনের আত্মপ্রবঞ্চনা ও কাপুরুষতা থাকে বলেই প্রাবন্ধিক নজরুলের মতে ও রকম বিনয়ের চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক ভালো।
প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর 'আমার পথ' প্রবন্ধে ভণ্ড বা মেকি বিনয়ের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি মনে করেন, অতিরিক্ত বা কপট বিনয় মানুষের ব্যক্তিত্বকে খর্ব করে এবং আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে। কিন্তু স্পষ্ট ও সত্যনিষ্ঠ আত্মপ্রত্যয় থাকলে সাময়িকভাবে তা মানুষের চোখে অহংকার বলে মনে হলেও তাতে নিহিত থাকে পৌরুষ ও সৎ সাহস। এজন্য মিথ্যা বিনয় প্রদর্শনের চেয়ে সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে পৌরুষদৃপ্ত অহংকার প্রদর্শন করা অনেক শ্রেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'মিথ্যার সাথে করেন না আপস' উক্তিটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের সত্যের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা ও মিথ্যাকে বর্জন করে স্পষ্ট কথা বলার নির্ভীক মনোভাবকে ইঙ্গিত করে।
'আমার পথ' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সত্যের প্রকাশে তিনি কখনো কোনো ভয় বা সমঝোতার ধার ধারেন না। সত্যকে স্পষ্ট করে বলা যদি কারও কাছে অহংকার মনে হয়, তবুও তিনি পিছপা হবেন না। তাঁর মতে, কোনো মহৎ উদ্দেশ্য বা ভণ্ডামির কাছে মাথা নত না করে সত্যের পথ ধরে এগিয়ে চলাই জীবনের মূল ব্রত। সমাজে মানুষ যখন অন্যের অন্ধ অনুকরণ করে ভণ্ড বিনয় দেখায়, লেখক তখন মিথ্যা ও মেকি ভাবকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
উদ্দীপকের চরণগুলোতেও দেখা যায়, সমাজে এমন সত্যনিষ্ঠ মানুষ রয়েছেন যাঁরা মিথ্যার সাথে আপস করেন না এবং কোথাও কোনো কপটতা বা মেকি রূপ দেখলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এই আপসহীন সত্যবাদিতা ও মেকির বিরুদ্ধে নির্ভীক অবস্থান 'আমার পথ' প্রবন্ধের সত্যের পূজারি লেখকের আপসহীন মনোভাবেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূলভাবের আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে"—মন্তব্যটি যথার্থ।
'আমার পথ' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম কেবল মিথ্যার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কথাই বলেননি; বরং আত্মচেতনা জাগ্রত করা, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন, আত্মাকে চেনা এবং সকল ভেদাভেদ ভুলে সাম্যবাদী সমাজ গঠনের সুদূরপ্রসারী বার্তা দিয়েছেন। নজরুল নিজের সত্যকে নেতা বা কর্ণধার মেনে পরাবলম্বন ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গান্ধীজির মতো বড় নেতাদেরও অন্ধ অনুকরণ না করে স্বাবলম্বী হওয়া, ধর্মের চেয়ে মানবতাকে বড় করে দেখা এবং পরধর্মসহিষ্ণুতার মাধ্যমে সম্প্রীতির বন্ধন রচনার কথা বলেছেন। সত্যের স্পষ্ট প্রকাশে ভণ্ড বিনয়কে ছুড়ে ফেলে দেওয়া এই প্রবন্ধের একটি বিশেষ দিক হলেও একমাত্র দিক নয়।
অপরদিকে, উদ্দীপকে শুধুমাত্র সেইসব মানুষের কথা তুলে ধরা হয়েছে যাঁরা মিথ্যার সাথে আপস করেন না, মেকি বিষয় দেখে প্রতিবাদ করেন এবং সমাজে তাঁদের এই স্পষ্টবাদিতাকে কেউ দোষ এবং কেউ সাহস বলে বিবেচনা করে। অর্থাৎ উদ্দীপকটি কেবল সত্যবাদিতা, মেকির বিরোধিতা এবং স্পষ্টবাদিতার সাহসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
কিন্তু 'আমার পথ' প্রবন্ধের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক—যেমন নিজের আত্মাকে চেনা ('আমি'কে চেনা), অন্যের দাসত্ব থেকে মুক্তি, স্বাবলম্বন এবং হিন্দু-মুসলমান মিলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় মুক্তি অর্জন—উদ্দীপকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। অতএব, উদ্দীপকে প্রবন্ধটির কেবল একটি দিক বা সুর প্রতিফলিত হওয়ায় বলা যায় যে এতে 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূলভাবের আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও