ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

মিডল্যান্ড ব্যাংক বাংলাদেশের বড় বৃড় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম। গত মাসে তাদের তারল্য অবস্থা ভালো থাকায় অন্যান্য কোম্পানি অনেক সংখ্যক বিনিময় বিল ও প্রাপ্য বিল ৫% হারে বাট্টাকরণ করে। কিন্তু বর্তমান মাসে তারা তারল্য সংকটের সম্মুখীন হয়। সমাধান সরূপ তারা তাদের পূর্বে বাট্টাকৃত বিলগুলো পুনরায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকট বাট্টাকরণ করতে সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার কথা চিন্তা করে ৫% হারেই বিলগুলো পুনরায় বাট্টাকরণের প্রস্তাব দেয়। মিডল্যান্ড ব্যাংক তাদের লাভ-ক্ষতির কথা বিবেচনা করে বিল পুনঃবাট্টাকরণ থেকে বিরত থাকে।

  1. ক)

    ব্যাংক হার কী?

    (1)
  2. খ)

    কোন ব্যাংককে সরকারের ব্যাংক বলা হয় এবং কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কার্যক্রমটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের কোন পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত তা আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে উল্লিখিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রমটি দেশের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করবে।"- উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে সুদের হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদান করে অথবা প্রথম শ্রেণির বিল পুনঃবাট্টাকরণ করে, তাকে ব্যাংক হার (Bank Rate) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সরকারের ব্যাংক বলা হয়।

    কারণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের আর্থিক প্রতিনিধি, ব্যাংকার ও প্রধান আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে। সরকারের যাবতীয় আয় বা রাজস্ব বিনা খরচে জমা রাখা, সরকারের পক্ষে দেনা বা ব্যয় পরিশোধ করা, সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা এবং প্রয়োজনে সরকারকে ঋণ প্রদান করার মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কার্যাবলি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্পাদন করে থাকে। সরকারের সাথে ব্যাংকের এ ধরনের প্রত্যক্ষ ও সেবামূলক সম্পর্কের কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সরকারের ব্যাংক বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের কার্যক্রমটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের সাধারণ বা সংখ্যাত্মক পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত ‘ব্যাংক হার নীতি’ (Bank Rate Policy)।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রাবাজারে ঋণের মোট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে যে হার অনুযায়ী তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের প্রথম শ্রেণির বিল পুনঃবাট্টা করে কিংবা সরাসরি ঋণ দেয়, তাকে ব্যাংক হার বলে। ব্যাংক হারের পরিবর্তন ঘটিয়ে সামগ্রিক ঋণের পরিমাণ হ্রাস-বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়াটিই হলো ব্যাংক হার নীতি।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মিডল্যান্ড ব্যাংক তারল্য সংকট মেটানোর জন্য তাদের পূর্বে বাট্টাকৃত বিলগুলো পুনরায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকট বাট্টাকরণের সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ৫% হারে বিলগুলো পুনরায় বাট্টাকরণ করার প্রস্তাব দেয়। এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথম শ্রেণির বিনিময় বিল পুনঃবাট্টাকরণের শর্ত ও হার নির্ধারণ করছে, যা সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের ‘ব্যাংক হার নীতি’র অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকে উল্লিখিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রমটি দেশের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করবে।”— এই বক্তব্যটি যথার্থ নয়।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন বাজারে ঋণের পরিমাণ বা তারল্য বৃদ্ধি করতে চায়, তখন তারা ব্যাংক হার বা পুনঃবাট্টার হার হ্রাস করে। ব্যাংক হার কমলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কম খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল বা পুনঃবাট্টা সুবিধা নিতে উৎসাহিত হয়, ফলে তাদের ঋণ প্রদানের সক্ষমতা বাড়ে। অপরদিকে, ব্যাংক হার অপরিবর্তিত থাকলে বা গ্রাহকদের কাছ থেকে বাট্টাকরণের হারের সমান হলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য পুনঃবাট্টাকরণ লাভজনক হয় না এবং তারা ঋণ দেওয়ার অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহ করতে নিরুৎসাহিত হয়।

    উদ্দীপকে মিডল্যান্ড ব্যাংক ৫% হারে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল বাট্টাকরণ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও একই হারে (৫%) বিলগুলো পুনঃবাট্টাকরণের প্রস্তাব দেয়। মিডল্যান্ড ব্যাংকের লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৫% হারে বাট্টাকৃত বিল পুনরায় ৫% হারেই বাট্টা করলে তাদের কোনো প্রকার আর্থিক লাভ থাকে না, বরং পরিচালনার খরচ বিবেচনায় ক্ষতির মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে মিডল্যান্ড ব্যাংক পুনঃবাট্টাকরণ থেকে বিরত থাকে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন কোনো তারল্য বা তহবিল পেল না। তারল্য সংকটে থাকায় তারা নতুন করে বিনিয়োগ বা ঋণ বিতরণে অক্ষম হয়ে পড়বে।

    অতএব, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাট্টার হার নমনীয় বা হ্রাস না করায় বাণিজ্যিক ব্যাংক তহবিল সংগ্রহ করতে পারেনি, যার ফলে বাজারে নতুন ঋণের জোগান বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কার্যক্রম দেশের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করবে না, বরং তা সীমিত বা সংকুচিত রাখবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন