অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জনসংখ্যা সম্পর্কিত আলোচনা অতি প্রাচীন। তবে বর্তমানে এ সম্পর্কিত দুটি তত্ত্ব বহুল প্রচলিত। এ তত্ত্বদ্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের জনসংখ্যা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হয়।

  1. ক)

    নিট অভিবাসন কী?

    (1)
  2. খ)

    আত্ম-কর্মসংস্থান দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়ক- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে দুটি তত্ত্বকে ইঙ্গিত করা হয়েছে তার মূল বক্তব্য উপস্থাপন করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তত্ত্বদ্বয়ের আলোকে তুমি কি বাংলাদেশকে জনাধিক্যের দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করবে? যুক্তিসহ মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশে বহিরাগমনকারী (Immigrants) ও সেই দেশ থেকে বহির্গমনকারী (Emigrants) জনসংখ্যার পার্থক্যের সংখ্যাকে নিট অভিবাসন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আত্ম-কর্মসংস্থান বলতে বোঝায় নিজস্ব মূলধন, শ্রম, মেধা ও উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে নিজের কর্মসংস্থান নিজে তৈরি করা। দরিদ্র মানুষ অন্যের ওপর বা চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা, হস্তশিল্প, পশুপালন বা কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে নিয়মিত আয় উপার্জন করতে পারে। এর ফলে পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য দূরীকরণে তা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনসংখ্যা সম্পর্কিত বহুল প্রচলিত দুটি তত্ত্ব—'ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব' এবং 'কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব'কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    ১. ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব: অর্থনীতিবিদ থমাস রবার্ট ম্যালথাসের মতে, কোনো প্রতিরোধক ব্যবস্থা না থাকলে জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২...) বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে জীবনধারণের প্রধান উপকরণ খাদ্য উৎপাদিত হয় গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫...)। ফলে সময়ের ব্যবধানে জনসংখ্যা ও খাদ্য জোগানের মধ্যে এক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, যা প্রাকৃতিক নিরোধ (যুদ্ধ, মহামারি, দুর্ভিক্ষ) বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে সাম্যাবস্থায় আসে।

    ২. কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব: আধুনিক অর্থনীতিবিদদের (যেমন—এডউইন ক্যানান, কার-সন্ডার্স, ডাল্টন প্রমুখ) উদ্ভাবিত এ তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো দেশের সম্পদ ও প্রযুক্তির সাথে সামঞ্জস্য রেখে যে পরিমাণ জনসংখ্যা থাকলে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। জনসংখ্যা এই স্তরের চেয়ে কম হলে তাকে অনগ্রসর বা নিম্ন জনসংখ্যা এবং বেশি হলে তাকে জনাধিক্য বলা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত তত্ত্বদ্বয়ের আলোকে বিচার করলে বাংলাদেশকে নিঃসন্দেহে একটি জনাধিক্যের দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।

    প্রথমত, ম্যালথাসের তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো দেশে খাদ্যোৎপাদনের বৃদ্ধির চেয়ে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলে খাদ্যঘাটতি ও দারিদ্র্য স্থায়ী রূপ নেয়। বাংলাদেশের সীমিত জমি ও অতিঘনবসতির কারণে খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সামান্য বিপর্যয়ে খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে, যা ম্যালথাসীয় তত্ত্বের লক্ষণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    দ্বিতীয়ত, কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব অনুসারে, দেশের প্রাকৃতিক ও অন্যান্য সম্পদের সাপেক্ষে যদি জনসংখ্যা এমন একটি স্তরে পৌঁছায় যার ফলে মাথাপিছু উৎপাদন বা আয় সর্বোচ্চ স্তরের চেয়ে নিচে নেমে যায়, তবে তাকে জনাধিক্য (Over-population) বলা হয়। ডাল্টনের সূত্রানুসারে অসামঞ্জস্যের পরিমাপ M = (A - O)/O; যেখানে A হলো প্রকৃত জনসংখ্যা এবং O হলো কাম্য জনসংখ্যা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সীমিত ভূখণ্ড ও প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় প্রকৃত জনসংখ্যা অনেক বেশি (A > O), যার ফলে M ধনাত্মক হয়। অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে বেকারত্ব, পরিবেশ দূষণ, অপুষ্টি, বাসস্থান সংকট এবং নিম্ন মাথাপিছু আয় বিরাজমান।

    অতএব, তত্ত্বদ্বয়ের মানদণ্ডে বাংলাদেশের বিদ্যমান জনসংখ্যা কাম্য মাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ায় একে জনাধিক্যের দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করা যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন