ইতিহাস ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. সোহান একটি কোম্পানির দুর্দিনে তার কর্ণধার হিসেবে নিযুক্তি পান। কোম্পানিটির উন্নতির জন্য তিনি ব্যয় সংকোচন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার কাজের মাধ্যমে একে পতনের হাত থেকে রক্ষা করেন। কোম্পানির উন্নয়নের স্বার্থে তিনি কোনো ন্যায়-নীতির তোয়াক্কা করতেন না। ব্যক্তিগতভাবেও তিনি ছিলেন চরম দুর্নীতিপরায়ণ। শেষ পর্যন্ত তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়।
- ক)(1)
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর কত সালে সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
রেগুলেটিং অ্যাক্ট বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মি. সোহানের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন গভর্নর জেনারেলের সংস্কারমূলক কাজের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের মি. সোহানের মত দুর্নীতিই কি তার পতন ডেকে এনেছিল?- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১১৭৬ সন) সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রেগুলেটিং অ্যাক্ট (বা নিয়ামক আইন) হলো ১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রণীত একটি আইন, যার মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসন ও শাসনব্যবস্থাকে সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বাংলার গভর্নরকে 'গভর্নর জেনারেল' পদে উন্নীত করা হয় এবং তাঁর অধীনে একটি চার সদস্যের নির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. সোহানের সাথে পাঠ্যবইয়ের গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের সংস্কারমূলক কাজের মিল রয়েছে।
ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালে বাংলার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে গভীর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটে থাকা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেন। তিনি কোম্পানির ব্যয় সংকোচনের জন্য নবাবের ভাতা হ্রাস করেন, মুঘল সম্রাটকে দেওয়া বার্ষিক রাজস্ব বন্ধ করেন এবং ভূমি রাজস্ব সংস্কার করেন। একইভাবে উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. সোহান একটি কোম্পানির দুর্দিনে দায়িত্ব নিয়ে ব্যয় সংকোচন ও বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে কোম্পানিটিকে পতন থেকে রক্ষা করেন। তাই উদ্দীপকের মি. সোহানের কার্যকলাপ গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের পদক্ষেপগুলোর অনুরূপ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. সোহানের মতো দুর্নীতি ও অনৈতিক পদক্ষেপই ওয়ারেন হেস্টিংসের পতন ও বিচারের মুখোমুখি হওয়ার মূল কারণ ছিল—এ বক্তব্যটি যথার্থ।
ওয়ারেন হেস্টিংস কোম্পানির আয় বাড়ানোর স্বার্থে কোনো ন্যায়-নীতির তোয়াক্কা করেননি। তিনি নন্দকুমারের বিচারিক হত্যা, অযোধ্যার বেগমদের প্রতি অমানবিক নির্যাতন ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ এবং বেনারসের রাজা চৈত সিংহের ওপর জোরপূর্বক কর চাপিয়ে দেওয়ার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির ব্যক্তিগত অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছিল।
এসব চরম দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনৈতিক কার্যক্রমের কারণে ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার পর ১৭৮৮ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এডমন্ড বার্কের নেতৃত্বে তাঁর বিরুদ্ধে মহাভিযোগ (ইমপিচমেন্ট) আনা হয় এবং দীর্ঘ সাত বছর তাঁকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতের বিচার মোকাবিলা করতে হয়। সুতরাং, কোম্পানির উন্নতির আড়ালে নীতিহীনতা ও দুর্নীতিই ওয়ারেন হেস্টিংসের সম্মানহানি ও রাজনৈতিক পতন ডেকে এনেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও