বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আজকাল সমাজের দিকে তাকালে পরনির্ভরশীলতার বিভিন্ন চিত্র চোখে পড়ে। নিজেকে জানা প্রতিটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ধর্ম, দর্শন থেকে শুরু করে প্রতিটি জ্ঞানের শাখায় নিজেকে জানার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে "মান আরাফা নাফসাহু, ফা-কাদ আরাফা রাব্বাহু" অর্থাৎ যে নিজেকে জেনেছে, সে তার রবকে জেনেছে। সনাতন ধর্মে বলা হয়েছে 'আত্মানং বিদ্ধি' অর্থাৎ আত্মজ্ঞানই প্রকৃত জ্ঞান। দার্শনিক সক্রেটিসও বলেছেন 'নিজেকে জানো'। আত্মনির্ভরশীল মানুষ ছাড়া সমাজ বা জাতির উন্নতি অসম্ভব। একে অপরের প্রতি নির্ভরতার কারণে মানসিক দাসত্ব হয় এবং তা ক্রমান্বয়ে সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়।
- ক)(1)
দেশের যারা শত্রু, দেশের যা কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি, মেকি তা সব দূর করতে কীসের প্রয়োজন হবে?
- খ)(2)
পরাবলম্বনই আমাদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলেছে কীভাবে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
'আমার পথ' প্রবন্ধের কোন দিকটি উদ্দীপকে নির্দেশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ব্যক্তির চিন্তাধারা পরিবর্তনে উদ্দীপকে প্রকাশিত ভাব কীভাবে সহায়ক হতে পারে? 'আমার পথ' প্রবন্ধের আলোকে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের যারা শত্রু, দেশের যা কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি ও মেকি তা সব দূর করতে আগুনের বা সত্যের শিখার (ধূমকেতুর মতো অগ্নি-ঝাণ্ডার) প্রয়োজন হবে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অন্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে গিয়ে আমরা নিজেদের আত্মবিশ্বাস ও শক্তি হারিয়ে ফেলি বলেই পরাবলম্বন আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেলেছে।
কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধে বলা হয়েছে, পরনির্ভরশীলতা মানুষকে দাসত্বের দিকে ঠেলে দেয়। আমরা ভাবি অন্য কেউ এসে আমাদের উদ্ধার করবে বা পথ দেখাবে। এর ফলে নিজের ভেতরের সুপ্ত শক্তি ও সত্যকে চেনার চেষ্টা অবলুপ্ত হয়। আত্মবিশ্বাস হারিয়ে পরমুখাপেক্ষী হয়ে থাকার কারণে মানুষের কর্মস্পৃহা নষ্ট হয় এবং সে ক্রমশ নিষ্ক্রিয় ও পরাধীন হয়ে পড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধের 'আত্মজ্ঞান' বা 'নিজেকে জানা' এবং 'আত্মনির্ভরশীলতার গুরুত্ব' সম্পর্কিত দিকটি নির্দেশিত হয়েছে।
'আমার পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নিজেকে চেনা বা আত্মসত্যের উপলব্ধিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। নজরুল বলেছেন, মানুষ যদি নিজেকে চেনে, তবে তার ভেতরে এক অপরাজেয় আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয়, যা তাকে কোনো ভুল পথে বা অসত্যের চরণে মাথা নত করতে দেয় না। নিজেকে জানাই হলো আত্মনির্ভরশীলতার মূল ভিত্তি।
উদ্দীপকেও ধর্মীয় ও দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'নিজেকে জানা'র অপরিহার্যতা তুলে ধরা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের বাণী, সনাতন ধর্মের 'আত্মানং বিদ্ধি' এবং সক্রেটিসের 'নিজেকে জানো' উদ্ধৃত করে আত্মনির্ভরশীলতার প্রয়োজনীয়তা ও পরনির্ভরশীলতার ক্ষতিকর প্রভাব আলোচনা করা হয়েছে। এই আত্মোপলব্ধি ও পরনির্ভরতা ত্যাগের দিকটিই 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূল সুরের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যক্তির চিন্তাধারার ইতিবাচক পরিবর্তনে উদ্দীপকে প্রকাশিত 'আত্মজ্ঞান' ও 'স্বাবলম্বন'-এর ভাব অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—যা 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূল চেতনার সাথে সংগতিপূর্ণ।
'আমার পথ' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম দেখিয়েছেন যে, সমাজ ও ব্যক্তির প্রধান শত্রু হলো অন্ধ পরনির্ভরতা ও হীনমন্যতা। মানুষ যখন নিজেকে না চিনে অন্য কোনো নেতার ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করে, তখন সে মানসিকভাবে ক্রীতদাসে পরিণত হয়। নজরুল এই মানসিক দাসত্ব ভেঙে নিজের ভেতরের সত্যকে জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আত্মনির্ভরতা মানুষকে ভণ্ডামি ও অসত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়।
উদ্দীপকেও স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, আত্মনির্ভরশীল মানুষ ছাড়া সমাজ বা জাতির সার্বিক অগ্রগতি অসম্ভব। অপরের ওপর অন্ধ নির্ভরতা মানুষের মাঝে মানসিক দাসত্ব সৃষ্টি করে এবং তা সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নেয়। একজন ব্যক্তি যদি নিজেকে জানার তাগিদ অনুভব করে এবং আত্মনির্ভরশীল হয়, তবে তার চিন্তা থেকে পরমুখাপেক্ষিতা ও ভীরুতা দূর হয়। সে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখে এবং নিজের দায়িত্ব নিজে গ্রহণে প্রস্তুত হয়।
সুতরাং, উদ্দীপকের ভাব আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে মানুষের মনোজগতে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। ব্যক্তি যখন নিজেকে জেনে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে, তখনই সমাজ কুসংস্কার ও মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে পারে। তাই বলা যায়, ব্যক্তির চিন্তাধারা পরিবর্তনে উদ্দীপকের বক্তব্য প্রত্যক্ষ ও ফলপ্রসূ সহায়ক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও