বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

3.

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

১. ভূমিকা:
ছাত্রসমাজ একটি দেশের সবচেয়ে প্রাণবন্ত, উদ্যমী ও সম্ভাবনাময় অংশ। তারা অফুরন্ত শক্তির অধিকারী এবং জাতীয় উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পৃথিবীর বড় বড় পরিবর্তন ও বিপ্লবের মূলে রয়েছে তরুণ ও ছাত্রসমাজ। ব্যক্তিগঠনের পাশাপাশি জাতি ও দেশ গঠনের দায়িত্ব ছাত্রসমাজের ওপর অনেকাংশেই বর্তায়।

২. বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রসমাজের অবদান:
বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে ছাত্রসমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের ছাত্ররা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। পরবর্তীকালে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন—প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রসমাজ ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে দেশকে নতুন পথ দেখিয়েছে।

৩. দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের দায়িত্ব:
স্বাধীনতা বা অধিকার অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া আরও কঠিন কাজ। দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের নানামুখী ভূমিকা পালন করার সুযোগ রয়েছে:
(ক) জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন: ছাত্রদের মূল দায়িত্ব পড়াশোনা করা। আধুনিক বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গবেষণায় উৎকর্ষ সাধন করে নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই দেশ গড়ার প্রথম শর্ত।
(খ) নিরক্ষরতা দূরীকরণ: দেশের বড় একটি সমস্যা নিরক্ষরতা। ছুটির সময়ে বা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ছাত্ররা অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।
(গ) সমাজসেবা ও দুর্যোগ মোকাবেলা: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মহামারি বা যেকোনো জাতীয় দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজে ছাত্ররা সবসময় সামনে থাকে।
(ঘ) সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি: যৌতুক, বাল্যবিয়ে, মাদকাসক্তি, দুর্নীতি ও পরিবেশ দূষণের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে ছাত্রদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। রক্তদান, বৃক্ষরোপণ এবং ট্রাফিক সচেতনতা তৈরিতেও তারা প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে পারে।
(ঙ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিপ্লব: চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে উদ্ভাবন, স্টার্টআপ এবং আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে ছাত্রসমাজ।

৪. ছাত্রসমাজের নৈতিক চরিত্র গঠন:
কেবল পুথিগত বিদ্যা নয়, দেশপ্রেম, সততা ও নৈতিক মূল্যবোধে বলীয়ান হওয়া অত্যন্ত জরুরি। লেজুড়বৃত্তিক দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে গঠনমূলক চিন্তা ও আদর্শ নিয়ে ছাত্রদের কাজ করতে হবে, যাতে জাতি তাদের দিকনির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

৫. উপসংহার:
আজকের ছাত্ররাই আগামী দিনের কর্ণধার। তাদের মেধা, শ্রম ও দেশপ্রেমের ওপরই নির্ভর করছে একটি শোষণমুক্ত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ। রাষ্ট্র ও সমাজের উচিত তরুণ সমাজের শক্তিকে সঠিক ও ইতিবাচক ধারায় পরিচালিত করা, যাতে তারা একটি উন্নত জাতি গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন