জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মানবদেহের রক্তরসে নিউক্লিয়াসবিহীন, হিমোগ্লোবিন নামক শ্বাসরঞ্জকযুক্ত এক ধরনের রক্তকণিকা বিদ্যমান। এই শ্বাসরঞ্জকমানুষের শ্বসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ক)(1)
লসিকা কী?
- খ)(2)
ফুসফুসের কাজ লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপক সংশ্লিষ্ট রক্তকণিকার গঠন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষের উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৈশিক জালিকার প্রাচীর চুইয়ে রক্তরস থেকে বের হয়ে আসা ঈষৎ ক্ষারীয়, স্বচ্ছ, হলুদ বর্ণের আন্তঃকোষীয় তরলকে লসিকা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফুসফুসের প্রধান দুটি কাজ নিম্নরূপ:
১. গ্যাসীয় বিনিময়: ফুসফুসের অ্যালভিওলাই রক্ত ও বাতাসের মধ্যে অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগের মাধ্যমে গ্যাসীয় বিনিময় সম্পন্ন করে।
২. অ্যাসিড-ক্ষার ভারসাম্য ও আর্দ্রতা রক্ষা: শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় CO2 বের করে দিয়ে রক্তের pH এবং অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং জলীয় বাষ্প নির্গমনে সহায়তা করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত রক্তকণিকাটি হলো লোহিত রক্তকণিকা (Erythrocyte বা RBC)। এর গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. আকৃতি ও আকার: পরিণত মানব লোহিত রক্তকণিকা নিউক্লিয়াসবিহীন, দ্বি-অবতল (biconcave) এবং গোলাকার চাকতির মতো। এর গড় ব্যাস প্রায় ৭.২ মাইক্রোমিটার এবং পুরুত্ব প্রায় ২.২ মাইক্রোমিটার।
২. প্লাজমামেমব্রেন: এর বাইরে তিন স্তরবিশিষ্ট একটি স্থিতিস্থাপক প্লাজমা পর্দা থাকে, যার ফলে এটি সূক্ষ্ম কৈশিক নালির মধ্য দিয়ে সহজেই আকৃতি পরিবর্তন করে চলাচল করতে পারে।
৩. অভ্যন্তরীণ উপাদান: এতে কোনো নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বস্তু বা এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থাকে না। এর প্রায় ৬০-৭০% পানি এবং ৩০-৪০% কঠিন পদার্থ। কঠিন পদার্থের প্রায় ৯০% হলো 'হিমোগ্লোবিন' নামক লৌহঘটিত শ্বাসরঞ্জক প্রোটিন। প্রতিটি হিমোগ্লোবিনে গ্লোবিন নামক প্রোটিন এবং হিম নামক লৌহযুক্ত রঞ্জক থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ উক্তিটি হলো—"এই শ্বাসরঞ্জক (হিমোগ্লোবিন) মানুষের শ্বসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে"। উক্তিটির তাৎপর্য নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অক্সিজেন পরিবহন: হিমোগ্লোবিন প্রধানত ফুসফুস থেকে দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পরিবহনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। হিমোগ্লোবিনের আয়রন (Fe2+) ফুসফুসের অ্যালভিওলাই থেকে অক্সিজেনের সাথে শিথিলভাবে যুক্ত হয়ে অস্থায়ী যৌগ অক্সিহিমোগ্লোবিন (Hb4O8) গঠন করে। এই প্রক্রিয়ায় দেহের মোট অক্সিজেনের প্রায় ৯৮% বা তারও বেশি পরিবাহিত হয়। কৈশিক জালিকায় পৌঁছে অক্সিহিমোগ্লোবিন ভেঙে মুক্ত অক্সিজেন কোষে সরবরাহ করে।
২. কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন: কোষে বিপাকের ফলে সৃষ্ট কার্বন ডাই-অক্সাইডের একটি অংশ সরাসরি হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশের অ্যামিনো গ্রুপের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে ফুসফুসে পরিবাহিত হয় (প্রায় ১০-২৭%)।
৩. রক্তের অম্ল-ক্ষারকত্ব (pH) নিয়ন্ত্রণ: হিমোগ্লোবিন একটি চমৎকার বাফার হিসেবে কাজ করে রক্তের pH মাত্রা (৭.৩৫-৭.৪৫) নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা শ্বসনিক এনজাইমগুলোর কার্যকারিতার জন্য অত্যাবশ্যক।
সুতরাং, ফুসফুস ও কোষের মধ্যে শ্বসন গ্যাস (O2 ও CO2) বিনিময় এবং পরিবহনে হিমোগ্লোবিনের ভূমিকা অপরিহার্য। অতএব, উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও