পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
আলীপুর উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নটি আয়তনে অনেক বড়। বিশাল আয়তন ও জনসংখ্যার কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। সে কারণে ইউনিয়নটির এক বিশাল জনগোষ্ঠীর পৃথক ইউনিয়ন গঠনের দাবি জানায়। কর্তৃপক্ষ এতে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন কারণে উক্ত ইউনিয়নটিকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- ক)(1)
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
- খ)(2)
অপারেশন সার্চলাইট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তির সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন ঘটনার সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তিকরনের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঢাকাসহ সারা পূর্ব পাকিস্তানে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাঙালিদের ওপর যে বর্বরোচিত ও সুপরিকল্পিত গণহত্যা শুরু করে, তার সামরিক নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং স্বাধীনতার দাবি চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই নৃশংস অভিযান চালানো হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ১৯০৫ সালের 'বঙ্গভঙ্গ' (বাংলা প্রেসিডেন্সি বিভাজন)-এর সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আলীপুর উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নটি অত্যন্ত বড় হওয়ায় এবং জনসংখ্যা বেশি থাকায় সুষ্ঠু উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়। ফলে জনগোষ্ঠীর একটি অংশের দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক সুবিধার্থে ইউনিয়নটিকে বিভক্ত করা হয়।
একইভাবে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অবিভক্ত বাংলা প্রেসিডেন্সি ছিল বিশাল আয়তনের একটি প্রদেশ (বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা ও আসাম নিয়ে গঠিত)। বিপুল জনসংখ্যা ও আয়তনের কারণে তৎকালীন ছোটলাটের পক্ষে এর প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম তদারকি করা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পূর্ব বাংলা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত ছিল। তাই তৎকালীন বড়লাট লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার যুক্তিতে ১৯০৫ সালে বাংলাকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামে নতুন প্রদেশ গঠন করেন। উদ্দীপকের ইউনিয়ন বিভক্তির মূল প্রেরণা ও প্রেক্ষাপট তাই ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তিকরণটি ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গকে ইঙ্গিত করে, যার প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত তীব্র, বহুমুখী এবং সুদূরপ্রসারী। নিচে এর প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পূর্ব বাংলার মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া: বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান সম্প্রদায় অত্যন্ত আনন্দিত ও আশাবাদী হয়। ঢাকা নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় এই অঞ্চলের শিক্ষা, অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়। নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুসলমান নেতৃবৃন্দ এটিকে স্বাগত জানান।
২. হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও বিরোধিতা: উচ্চবর্ণের বাঙালি হিন্দু সমাজ, বিশেষ করে কলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী ও আইনজীবীরা বঙ্গভঙ্গকে মেনে নিতে পারেননি। তারা এটিকে ব্রিটিশদের 'ভাগ কর এবং শাসন কর' (Divide and Rule) নীতি এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করার চক্রান্ত হিসেবে বিবেচনা করেন। ফলে তারা এর বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
৩. স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন: বঙ্গভঙ্গ বাতিলের দাবিতে উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ সারা বাংলায় তীব্র গণআন্দোলন শুরু করেন। তারা ব্রিটিশ পণ্য বর্জন (বয়কট) এবং স্বদেশী পণ্য ব্যবহারের ডাক দেন। যা পরবর্তীতে সন্ত্রাসবাদী ও চরমপন্থী কার্যকলাপে রূপ নেয়।
৪. সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও মুসলিম লীগের জন্ম: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের রূপ সাম্প্রদায়িকতায় রূপ নিলে হিন্দু ও মুসলিম সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়ায় ১৯০৬ সালে মুসলমানদের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে ঢাকায় 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরিশেষে, তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়, যা মুসলমানদের মধ্যে ব্রিটিশদের প্রতি চরম হতাশা সৃষ্টি করে এবং ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ স্থায়ীভাবে বদলে দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও