যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
মাইনুদ্দিন সাহেব ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে তাৎক্ষণিক অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে। ডাক্তার মাইনুদ্দিনের মস্তিষ্কের একটি অংশ অপারেশন করার সময় দেখতে পান যে, এতে তার ডান হাতটি অবশ হয়ে যায়। আর যদি মস্তিষ্কের অংশ বিশেষ অপসারণ না করেন, তাহলে হাতটি অবশ হয় না। ডাক্তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, মস্তিষ্কের অংশবিশেষের সজো হাত অবশের একটি বিশেষ সম্পর্ক আছে। তাই তার অপারেশন করা চলবে না।
- ক)(1)
পরীক্ষণ পদ্ধতি কী?
- খ)(2)
যৌথ পদ্ধতি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের প্রমাণ পদ্ধতির ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে যে প্রমাণ পদ্ধতির ইঙ্গিত আছে তার সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো তুলে ধরো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃত্রিম বা সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কোনো ঘটনা বা বিষয়কে ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি বা পরিবর্তন করে পর্যবেক্ষণ করার প্রক্রিয়াকে পরীক্ষণ পদ্ধতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌথ পদ্ধতি (বা অন্বয়ী-ব্যতিরেকী পদ্ধতি) হলো মিল-এর এমন একটি পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি, যেখানে অন্বয়ী ও ব্যতিরেকী উভয় পদ্ধতির সমন্বয়ে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়। এতে একগুচ্ছ সদর্থক দৃষ্টান্ত (যেখানে কারণ ও কার্য উভয়ই উপস্থিত) এবং একগুচ্ছ নঞর্থক দৃষ্টান্তের (যেখানে কারণ অনুপস্থিত থাকায় কার্যও অনুপস্থিত) মাধ্যমে তুলনামূলক বিচার করে কোনো ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার বা প্রমাণ করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল নির্দেশিত পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতির 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি'র (Method of Difference) ইঙ্গিত রয়েছে।
ব্যতিরেকী পদ্ধতির সূত্রানুযায়ী, যদি কোনো আলোচ্য ঘটনার একটি সদর্থক দৃষ্টান্ত এবং একটি নঞর্থক দৃষ্টান্ত থাকে, এবং এদের মধ্যে কেবল একটি বিষয় ছাড়া অন্য সব বিষয়ে মিল থাকে, তবে যে একমাত্র বিষয়ে তাদের মধ্যে অমিল রয়েছে, সেই বিষয়টিই হবে আলোচ্য ঘটনার কার্য বা কারণ বা কারণের অপরিহার্য অংশ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মাইনুদ্দিন সাহেবের মস্তিষ্কের বিশেষ অংশটি অপসারণ করার সাথে সাথে তার ডান হাতটি অবশ হয়ে যায় (সদর্থক দৃষ্টান্ত)। আবার সেই অংশ অপসারণ না করলে হাত অবশ হয় না (নঞর্থক দৃষ্টান্ত)। এখানে অন্যান্য সমস্ত অবস্থা অপরিবর্তিত রেখে কেবল মস্তিষ্কের অংশবিশেষের অপসারণের উপস্থিতিতে হাত অবশ হয় এবং অনুপস্থিতিতে অবশ হয় না। সুতরাং, এখানে ব্যতিরেকী পদ্ধতির প্রয়োগ করে ডাক্তার সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে মস্তিষ্কের ওই অংশের সঙ্গে হাত অবশের কার্যকারণ সম্পর্ক রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রমাণ পদ্ধতিটি হলো 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি'। যুক্তিবিদ্যায় এই পদ্ধতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে, যা নিম্নে আলোচনা করা হলো:
সুবিধাসমূহ:
১. নিশ্চিত কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়: ব্যতিরেকী পদ্ধতি মূলত পরীক্ষণের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এই পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে কার্যকারণ সম্পর্কের নিশ্চিত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়।
২. সহজ ও প্রত্যক্ষ সিদ্ধান্ত: এতে মাত্র দুটি দৃষ্টান্তের (একটি সদর্থক ও একটি নঞর্থক) তুলনার প্রয়োজন হয়, যার ফলে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কারণ চিহ্নিত করা যায়।
৩. প্রমাণ পদ্ধতির শ্রেষ্ঠ রূপ: জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, আবিষ্কারের জন্য অন্বয়ী পদ্ধতি কার্যকর হলেও কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক চূড়ান্তভাবে প্রমাণের জন্য ব্যতিরেকী পদ্ধতি সর্বোৎকৃষ্ট।অসুবিধাসমূহ:
১. সব ক্ষেত্রে প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা: পরীক্ষণ ছাড়া শুধু নিরীক্ষণের সাহায্যে ব্যতিরেকী পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা যায় না। অনেক প্রাকৃতিক ঘটনা কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।
২. কাকতালীয় অনুপপত্তির ঝুঁকি: দুটি ঘটনার একটির পর আরেকটি ঘটতে দেখে অসাবধানতাবশত একটিকে অন্যটির কারণ ভাবলে 'কাকতালীয় অনুপপত্তি' (Post hoc ergo propter hoc) ঘটার আশঙ্কা থাকে।
৩. অন্যান্য অবস্থার অপরিবর্তনীয়তার নিশ্চয়তা না থাকা: দুটি দৃষ্টান্তের মধ্যে একমাত্র একটি অবস্থা ছাড়া বাকি সব অবস্থা হুবহু এক রাখা বাস্তব ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠিন, যা সিদ্ধান্তের নির্ভুলতাকে ব্যাহত করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও