পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ,বিরোধী দলের স্রষ্টা, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী বিশিষ্ট আইনজ্ঞ সারা জীবন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে শেষ বয়সে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাল।
- ক)(1)
মজলুম জননেতা কে?
- খ)(2)
লাহোর প্রস্তাব বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে বর্ণিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভূমিকা আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী হলেন 'মজলুম জননেতা'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে এ. কে. ফজলুল হক কর্তৃক উত্থাপিত ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত। এই প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহকে নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের দাবি জানানো হয়। এটি ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক আবাসভূমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন একজন প্রথিতযশা আইনজ্ঞ এবং গণতন্ত্রের মানসপুত্র। তিনি আজীবন নিয়মতান্ত্রিক ও সংসদীয় রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে এবং দেশে কার্যকর বিরোধী দলীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় তিনি নেতৃত্ব দেন। উদ্দীপকে 'বিরোধী দলের স্রষ্টা', 'নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী বিশিষ্ট আইনজ্ঞ' এবং 'সারা জীবন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে শেষ বয়সে নিঃসঙ্গ জীবন কাটানোর' যে উল্লেখ রয়েছে, তা নিখুঁতভাবে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জীবনের সাথে মিলে যায়। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের সময় তিনি কারারুদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে বৈরুতের এক হোটেলে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা অপরিসীম। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:
১. বিরোধী দলের প্রতিষ্ঠা: গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী দল অপরিহার্য। সোহরাওয়ার্দী বুঝতে পেরেছিলেন যে, মুসলিম লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগ এবং পরবর্তীতে যুক্তফ্রন্ট গঠনে নেতৃত্ব দেন।
২. ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন: যুক্তফ্রন্ট গঠনে সোহরাওয়ার্দী মুখ্য ভূমিকা পালন করেন, যা বাংলার মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের পথ দেখায়।
৩. ১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রণয়ন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি দেশকে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান উপহার দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
৪. এনডিএফ গঠন: সামরিক শাসক আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তিনি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (NDF) গঠন করে সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করেন।
সারাজীবন নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি ছিলেন অবিচল। এজন্য তাকে যথার্থই 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও