পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
রাতুল রায় সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি দুর্নীতির সাথে জড়িত। আমজাদ রফিক ও কাজল সাহেব রাতুল রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। রাতুল রায় তাদেরকে বাধা দিলে আমজাদ সাহেব বললেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যেকের নিজ অভিমত প্রদানের অধিকার বিদ্যমান। তাদের এ প্রতিবাদের রাতুল রায় সাবধান হন। কাজল বলেন, প্রত্যেকের ভোটাধিকার, নিজের অভিমত ব্যক্ত করার অধিকার, সুষ্ঠু বিচার ইত্যাদি বিভিন্ন পদ্ধতির মানদণ্ডে গণতন্ত্রকে পরিমাপ করা যায়। রফিক সাহেব বললেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, সমতা ও মর্যাদা লাভ করা যায়। তাই প্রতিটি গণতন্ত্রকে মূল্যায়ন করা জরুরি।
- ক)(1)
গণতন্ত্র কত প্রকার?
- খ)(2)
সমাজতন্ত্র বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
কাজলের উক্তিতে গণতন্ত্রের যে বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাসহ গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো চিহ্নিত করো।
- ঘ)(4)
অনুচ্ছেদে রফিক সাহেব কর্তৃক প্রেরিত বক্তব্যে গণতন্ত্রের যে মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করেন তা পর্যালোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শাসন পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রধানত দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র ও পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজতন্ত্র হলো এমন একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে উৎপাদনের উপাদানসমূহ (যেমন—জমি, কারখানা, মূলধন) ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে রাষ্ট্র বা সমাজের যৌথ মালিকানায় পরিচালিত হয়। এই ব্যবস্থায় সম্পদের সুষম বণ্টন, সামাজিক সমতা নিশ্চিতকরণ এবং শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাজলের উক্তিতে নাগরিকদের সর্বজনীন ভোটাধিকার, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার এবং নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করা হয়েছে।
গণতন্ত্রের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে চিহ্নিত করা হলো:
১. জনগণের সার্বভৌমত্ব: গণতন্ত্রে চূড়ান্ত ক্ষমতার উৎস জনগণ।
২. আইনের শাসন: আইনের চোখে সবাই সমান এবং ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলেই সমান আইনগত সুরক্ষা পায়।
৩. মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ: বাকস্বাধীনতা, সভা-সমাবেশের অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা থাকে।
৪. নিয়মিত ও সুষ্ঠু নির্বাচন: ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকে।
৫. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: নাগরিকদের অধিকার রক্ষা ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার উপস্থিতি।
৬. পরমতসহিষ্ণুতা ও সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন: বিরোধী মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনপূর্বক গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রফিক সাহেবের বক্তব্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, সমতা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে এর ইতিবাচক মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। নিম্নে গণতন্ত্রের এই মূল্যায়নের যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করা হলো:
১. সমতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠা: গণতন্ত্রে বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ বা শ্রেণি নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সমান মর্যাদা ও রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করে। রফিক সাহেব যে সমতা ও মর্যাদার কথা বলেছেন, তা গণতন্ত্রের মৌলিক স্তম্ভ।
২. আইনের শাসন ও শৃঙ্খলা: গণতন্ত্র সমাজে স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, যা সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপরিহার্য।
৩. নাগরিকের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিক নিজেকে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে, যা তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
৪. জবাবদিহিতামূলক পরিবেশ: উদ্দীপকে রাতুল রায়ের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমজাদ ও সঙ্গীদের প্রতিবাদ এবং তার সতর্ক হওয়া প্রমাণ করে যে, গণতন্ত্র জনগণের হাতে প্রতিরোধ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের শক্তি দেয়।অতএব, রফিক সাহেবের বক্তব্য অত্যন্ত যথার্থ; গণতন্ত্র শুধু একটি শাসন ব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি জীবনপদ্ধতি যা শৃঙ্খলা, সাম্য ও নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে কল্যাণমূলক রূপ দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও