যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

শ্রেণিকক্ষে সুমন স্যার বললেন, মানুষ জন্মায়, বেঁচে থাকে আবার মারাও যায়। আসাদ বলে, এটিই প্রকৃতির নিয়ম। নাবিলা বলে, আমি এ যাবৎ যত মানুষ দেখেছি তারা সবাই প্রকৃতির নিয়মের অনুসারী। মিথিলা বলে, মানুষের মত উদ্ভিদ জন্ম নেয়। মানুষ টেলিভিশন আবিষ্কার করেছে। সুতরাং উদ্ভিদও টেলিভিশন আবিষ্কার করে।

  1. ক)

    আরোহ কী?

    (1)
  2. খ)

    কোন ধরনের আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়?

    (2)
  3. গ)

    সুমন স্যার ও আসাদের বক্তব্যে কোন ধরনের আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নাবিলা আর মিথিলার বক্তব্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত বা বাক্য প্রতিষ্ঠা করার যৌক্তিক প্রক্রিয়াকে আরোহ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং পূর্ণাঙ্গ আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয় (বৈজ্ঞানিক আরোহে কার্যকারণ সম্পর্ক এবং প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে সার্বিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা যায়)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুমন স্যার ও আসাদের বক্তব্যে 'বৈজ্ঞানিক আরোহ' (Scientific Induction)-এর মূল ভিত্তির প্রতিফলন ঘটেছে।

    প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি বাস্তব দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতা থেকে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য প্রতিষ্ঠা করার পদ্ধতিকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।

    উদ্দীপকে সুমন স্যার বলেছেন, 'মানুষ জন্মায়, বেঁচে থাকে আবার মারাও যায়।' এটি মানুষের জন্ম-মৃত্যুর একটি বাস্তব নিয়ম। এরপর আসাদ বলেছে, 'এটিই প্রকৃতির নিয়ম।' অর্থাৎ মানুষের মৃত্যু আকস্মিক কোনো বিষয় নয়, এটি প্রকৃতির সুনির্দিষ্ট নিয়ম এবং জীবনের সাথে মৃত্যুর একটি কার্যকারণ সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা ও কার্যকারণ নিয়মের সমন্বয়ে একটি অমোঘ সত্য প্রকাশ পাওয়ায় তাদের যৌথ বক্তব্যের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক আরোহের ভিত্তি ও প্রতিফলন সুস্পষ্ট হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নাবিলার বক্তব্যটি 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ' এবং মিথিলার বক্তব্যটি একটি 'মন্দ সাদৃশ্যানুমান' (Bad Analogy)-কে নির্দেশ করে। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ধারণাগত পার্থক্য: নাবিলা এ যাবৎ যত মানুষ দেখেছে তাদের সবার অভিজ্ঞতার আলোকে সার্বিক সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছে। এখানে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক না খুঁজে কেবল অনুকূল ও অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করা হয়েছে, যা অবৈজ্ঞানিক আরোহের বৈশিষ্ট্য। পক্ষান্তরে, মিথিলা মানুষ ও উদ্ভিদের জন্মের সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে উদ্ভিদের টেলিভিশন আবিষ্কারের অনুমান করেছে, যা একটি সাদৃশ্যানুমান।

    ২. সাদৃশ্যের যথার্থতা ও অনুপপত্তি: নাবিলার বক্তব্যে প্রকৃতির সাধারণ নিয়মের একটি অবাধ পর্যবেক্ষণ রয়েছে, যাতে কোনো প্রত্যক্ষ বিরোধী দৃষ্টান্ত নেই। কিন্তু মিথিলার বক্তব্যে মানুষ ও উদ্ভিদের মধ্যে শুধু প্রাণ বা জন্মের সাদৃশ্য রয়েছে; কিন্তু টেলিভিশন আবিষ্কারের মতো বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের সাথে উদ্ভিদের কোনো মৌলিক বা প্রাসঙ্গিক সম্পর্ক নেই। ফলে মিথিলার বক্তব্যটি ত্রুটিপূর্ণ বা 'মন্দ সাদৃশ্যানুমান'-এর রূপ নিয়েছে।

    ৩. সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা: নাবিলার বক্তব্যের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হলেও বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কিন্তু মিথিলার সিদ্ধান্তটি অবান্তর, অযৌক্তিক এবং বাস্তবতাবিরোধী।

    সুতরাং, তুলনামূলকভাবে নাবিলার বক্তব্যটি প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নির্ভর অবৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত এবং মিথিলার বক্তব্যটি একটি হাস্যকর ও অনুপপন্ন মন্দ সাদৃশ্যানুমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন