জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

- ক)(1)
ফ্যাসিকুলাস কী?
- খ)(2)
হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'A' অস্থিটির গঠন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'A' ও 'B' এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কঙ্কাল পেশিতে পেরিমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণী দ্বারা বেষ্টিত পেশিতন্তুর গুচ্ছকে ফ্যাসিকুলাস (Fasciculus) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র (বা অস্টিওন) হলো স্তন্যপায়ী প্রাণীর নিরেট অস্থির গঠনগত ও কার্যকরী একক।
এটি একটি কেন্দ্রীয় হ্যাভারসিয়ান নালি এবং একে ঘিরে বৃত্তাকারে বিন্যস্ত কতগুলো স্তর বা ল্যামেলি (Lamellae) নিয়ে গঠিত। ল্যামেলির মাঝে অবস্থিত ল্যাকুনা নামক গহ্বরে অস্থিকোষ (অস্টিওসাইট) অবস্থান করে এবং ক্যানালিকুলি নামক সূক্ষ্ম নালিকার মাধ্যমে এরা পরস্পর ও হ্যাভারসিয়ান নালির সাথে সংযুক্ত থাকে। একাধিক হ্যাভারসিয়ান নালি আড়াআড়ি ফকম্যানস নালি দ্বারা যুক্ত থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অস্থিটি হলো মানুষের উর্ধ্ববাহুর অস্থি—হিউমেরাস (Humerus)।
হিউমেরাসের গঠন মূলত তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত:
১. মস্তক বা উর্ধ্বপ্রান্ত: এতে একটি মসৃণ, গোলার্ধাকার মস্তক (Head) থাকে যা স্ক্যাপুলার গ্লেনয়েড গহ্বরের সাথে যুক্ত হয়ে কাঁধের সন্ধি গঠন করে। মস্তকের নিচে অ্যানাটমিক্যাল গ্রীবা এবং কিছুটা দূরে সার্জিক্যাল গ্রীবা বিদ্যমান। এছাড়া বৃহত্তর ও ক্ষুদ্রতর টিউবারকল এবং এদের মাঝখানে আন্তঃটিউবারকুলার খাঁজ বা বাইসিপিটাল খাঁজ থাকে।
২. দেহ বা শ্যাফ্ট: এটি একটি দীর্ঘ ও নলাকার অংশ। দেহের প্রায় মাঝখানের বহিঃপার্শ্বে ত্রিকোণাকার খসখসে ডেল্টয়েড রিজ বা ডেল্টয়েড টিউবারোসিটি অবস্থিত, যেখানে ডেল্টয়েড পেশি যুক্ত থাকে।
৩. নিম্নপ্রান্ত: এটি পার্শ্বীয়ভাবে বিস্তৃত। এর বহিঃপার্শ্বে ক্যাপিচুলাম এবং ভেতরের দিকে পুলির মতো ট্রকলিয়া নামক সন্ধি-পৃষ্ঠ থাকে যা যথাক্রমে রেডিয়াস ও আলনার সাথে যুক্ত হয়ে কনুই সন্ধি গঠন করে। নিম্নপ্রান্তে করোনয়েড ও ওলেক্রেনন নামক দুটি গর্ত বা ফোসা এবং মিডিয়াল ও ল্যাটারাল এপিকন্ডাইল উপস্থিত থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অস্থিটি হলো হিউমেরাস এবং 'B' চিহ্নিত অস্থিটি হলো ফিমার। নিচে এদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
'A' (হিউমেরাস)-এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য:
১. এর উর্ধ্বপ্রান্তে একটি মসৃণ, অবতল গোলার্ধাকার মস্তক রয়েছে যা তুলনামূলকভাবে খাটো গ্রীবা দ্বারা দেহের সাথে যুক্ত।
২. উর্ধ্বপ্রান্তে গ্রেটার ও লেসার টিউবারকল এবং এদের মধ্যবর্তী বাইসিপিটাল খাঁজ বিদ্যমান।
৩. দেহের মধ্যভাগের পার্শ্বীয় তলে ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো একটি অমসৃণ উঁচু অংশ বা ডেল্টয়েড রিজ/টিউবারোসিটি থাকে।
৪. নিম্নপ্রান্তটি স্ফীত ও চ্যাপ্টা, যাতে ট্রকলিয়া ও ক্যাপিচুলাম নামক সন্ধিতল এবং ওলেক্রেনন ফোসা বিদ্যমান।'B' (ফিমার)-এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য:
১. এটি মানবদেহের সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ, ভারী ও শক্তিশালী অস্থি।
২. এর উর্ধ্বপ্রান্তে অবস্থিত মসৃণ ও সুস্পষ্ট গোলাকার মস্তকটি একটি সুস্পষ্ট ও দীর্ঘ গ্রীবার সাহায্যে দেহের সাথে কোণাকুণিভাবে যুক্ত থাকে।
৩. মস্তকের সংযোগস্থলের নিচে গ্রেটার ট্রক্যান্টার ও লেসার ট্রক্যান্টার নামক সুস্পষ্ট উপবৃদ্ধি থাকে।
৪. নিম্নপ্রান্তটি দুটি বৃহৎ মসৃণ অংশ অর্থাৎ মিডিয়াল ও ল্যাটারাল কন্ডাইলে বিভক্ত থাকে এবং এদের মাঝখানে ইন্টারকন্ডাইলার খাঁজ থাকে।সুতরাং, উল্লিখিত অনন্য কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে হিউমেরাস ও ফিমারকে সহজেই শনাক্ত ও পৃথক করা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও