‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বেজাল প্যাক্ট কত সালে সম্পাদিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    খিলাফত আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে/ছকে প্রশ্ন চিহ্নিত (?) স্থানের বিষয়টির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত বিষয়টি স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে কীভাবে ভূমিকা পালন। করে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বেঙ্গল প্যাক্ট (Bengal Pact) ১৯২৩ সালে সম্পাদিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের খলিফার মর্যাদা ও অটোমান সাম্রাজ্যের অখণ্ডতা রক্ষার উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমদের পরিচালিত আন্দোলনকে খিলাফত আন্দোলন বলা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক জার্মানির পক্ষ নিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। যুদ্ধে তুরস্ক পরাজিত হলে খলিফার পদ ও তার সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়ে। ভারতীয় মুসলমানরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় নেতা বা 'খলিফা' মনে করতেন। তাই তাঁর মর্যাদা রক্ষা এবং মুসলিম তীর্থস্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯১৯ সালে মাওলানা শওকত আলী ও মাওলানা মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে এ আন্দোলন গড়ে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রশ্নচিহ্নিত (?) স্থানে নির্দেশিত বিষয়টি হলো ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব'। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

    লাহোর প্রস্তাবের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা নির্ধারণ: ভৌগোলিক দিক থেকে সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে পৃথক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।
    ২. 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' গঠনের প্রস্তাব: উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে সমন্বিত করে একাধিক 'স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
    ৩. অঙ্গরাজ্যগুলোর স্বায়ত্তশাসন: এসব স্বাধীন রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।
    ৪. সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ: মুসলিম এবং অমুসলিম উভয় অঞ্চলে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানে সুস্পষ্ট রক্ষা কবচ রাখা হবে।
    ৫. দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রতিফলন: এটি ছিল মূলত মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর 'দ্বি-জাতি তত্ত্বের' একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও বাস্তব রূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত লাহোর প্রস্তাবটি স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করেছিল।

    ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে একাধিক 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল। এর দ্বারা অবিভক্ত বাংলা এবং আসাম নিয়ে একটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের সম্ভাবনার ভিত্তি রচিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে দিল্লির আইন প্রণেতাদের সম্মেলনে জিন্নাহ চক্রান্ত করে 'States' শব্দের বহুবচন রূপ পরিবর্তন করে একবচনে 'State' অর্থাৎ একটি একক পাকিস্তান রাষ্ট্র ঘোষণার ব্যবস্থা করেন। এর ফলে পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের অংশে পরিণত করা হয়।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালিরা লক্ষ্য করে যে তারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শোষণের শিকার হচ্ছে। এ পটভূমিতে বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব ও বুদ্ধিজীবীরা লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনায় ফিরে যাওয়ার দাবি তোলেন। তারা তুলে ধরেন যে, পাকিস্তানের মূল ভিত্তি ছিল স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্র গঠন, যা পাকিস্তান সরকার চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে।

    বাঙালিরা তাদের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে—১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা, এবং বিশেষভাবে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচিতে লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনাকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে। ছয় দফার প্রথম দফাতেই লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানানো হয়। লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে যে পৃথক জাতীয় সত্তার চেতনা অঙ্কুরিত হয়েছিল, তা ধারাবাহিকভাবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ নেয় এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

    সুতরাং বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবের 'States' শব্দের মধ্যেই বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রথম বীজ নিহিত ছিল, যা পরবর্তীতে বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন