সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সামাজিক গতিশীলতাকে কতটি ভাগে ভাগ করা যায়?

    (1)
  2. খ)

    সংঘ বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে চিত্র 'ক' ও চিত্র 'খ' এ কোন কোন মৌল প্রত্যয়ের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে? তার প্রকৃত রূপ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলোর মধ্যকার বৈসাদৃশ্যমূলক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজবিজ্ঞানী পিটিরিম সোরোকিনের মতে, সামাজিক গতিশীলতাকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা যায় (অনুভূমিক গতিশীলতা ও উল্লম্ব গতিশীলতা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সংঘ (Association) বলতে বোঝায় নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা স্বার্থ অর্জনের লক্ষ্যে বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন মেনে সংঘবদ্ধ হওয়া একদল জনসমষ্টিকে।

    ম্যাকাইভার ও পেজের মতে, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সংগঠিত জনসমষ্টিকে সংঘ বলে। যেমন— রাজনৈতিক দল, শ্রমিক ইউনিয়ন, ক্লাব ইত্যাদি। সংঘের সদস্যপদ ঐচ্ছিক এবং এটি মূলত একটি কৃত্রিম ও সচেতনভাবে সৃষ্ট সংগঠন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে চিত্র 'ক' দ্বারা সমাজবিজ্ঞানের মৌল প্রত্যয় 'সমাজ' (Society) এবং চিত্র 'খ' দ্বারা 'সম্প্রদায়' (Community)-এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।

    চিত্র 'ক' (সমাজ): সমাজ হলো পারস্পরিক সম্পর্কের একটি জটিল জাল। উদ্দীপকে উল্লিখিত 'সর্বদা পরিবর্তনশীল' ও 'সহযোগিতার ভিত্তিতে গঠিত'—এ দুটি সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য। পারস্পরিক সহযোগিতা, সচেতনতা ও নির্ভরশীলতার মাধ্যমে মানুষের সম্পর্কের যে জাল গড়ে ওঠে, তাকেই সমাজ বলা হয়। সমাজ নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে আবদ্ধ থাকে না এবং এটি বিরামহীনভাবে পরিবর্তনশীল ও সার্বজনীন।

    চিত্র 'খ' (সম্প্রদায়): নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসকারী এবং অভিন্ন অনুভূতি বা স্বার্থ দ্বারা আবদ্ধ জনসমষ্টিকে সম্প্রদায় বলে। উদ্দীপকের চিত্র 'খ'-এ 'নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাস' এবং 'অভিন্ন স্বার্থ ও অনুভূতি' সম্প্রদায়ের এই মৌলিক বৈশিষ্ট্য দুটিকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করেছে। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘকাল একসঙ্গে বসবাসের ফলে সদস্যদের মধ্যে 'আমরা অনুভূতি' (We-feeling) বা সম্প্রদায়গত মানসিকতা গড়ে ওঠে। যেমন— গ্রাম বা শহরের জনগোষ্ঠী।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় দুটি হলো যথাক্রমে 'সমাজ' ও 'সম্প্রদায়'। এদের মধ্যকার বৈসাদৃশ্যমূলক সম্পর্ক নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা: সমাজের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার প্রয়োজন নেই, সমাজ বিশ্বব্যাপী বা সর্বত্র বিস্তৃত হতে পারে। পক্ষান্তরে, সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক ভূখণ্ড থাকা অপরিহার্য।

    ২. 'আমরা' অনুভূতি (We-feeling): সমাজের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সচেতনতা থাকলেও প্রত্যক্ষ সম্প্রদায়গত বা 'আমরা অনুভূতি' অপরিহার্য নয়। কিন্তু সম্প্রদায়ের প্রধান ভিত্তিই হলো সদস্যদের মধ্যকার গাঢ় 'আমরা অনুভূতি' ও অভিন্ন জীবনধারা।

    ৩. পরিসর ও বিস্তৃতি: সমাজের পরিধি অনেক ব্যাপক ও সার্বজনীন; এর ভেতরে বহু সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। অপরদিকে সম্প্রদায়ের পরিধি তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ।

    ৪. স্থায়িত্ব ও পরিবর্তনশীলতা: উদ্দীপকে উল্লেখিত হয়েছে সমাজ সর্বদা পরিবর্তনশীল এবং বিমূর্ত সামাজিক সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিপরীতে, সম্প্রদায় একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বাস্তব জনসমষ্টির উপস্থিতির কারণে তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান ও স্থায়ী রূপ ধারণ করে।

    ৫. উদ্দেশ্য ও স্বার্থ: সমাজে বৈচিত্র্য, বহুবিধ স্বার্থ ও প্রতিযোগিতাও বিদ্যমান থাকে। কিন্তু সম্প্রদায়ে সদস্যদের উদ্দেশ্য ও সাধারণ স্বার্থ প্রায় অভিন্ন হয়।

    অতএব, সমাজ হলো একটি ব্যাপক ও বিমূর্ত ধারণা, যা সম্পর্কভিত্তিক; আর সম্প্রদায় হলো একটি নির্দিষ্ট সীমারেখায় আবদ্ধ বাস্তব জনসমষ্টিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন