‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

শমসের আলী লক্ষ্য করলেন যে, কিছু মুসলমান মনের আশা পূরণ করার জন্য মৃত মানুষের মাজারে যায়। উক্ত ভুল থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি চেষ্টা চালান। অন্যদিকে, মোতাহের আলী অত্যাচারী ভূমি মালিক, বণিক ও বিদেশী শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্য একটি বাহিনী গড়ে তোলেন। তিনি যুদ্ধ চালনার জন্য একটি সুরক্ষিত ঘাঁটিও গড়ে তোলেন।

  1. ক)

    ঋণ-সালিশী বোর্ড গঠন করেন কে?

    (1)
  2. খ)

    আওয়ামী মুসলিম লীগের নাম পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ করা হয়েছিল কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ভুল কাজ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনতে শমসের আলীর ভূমিকা তোমার পাঠ্য বইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    মোতাহের আলীর কাজের সাথে বাংলাদেশের মুক্তি -সংগ্রামের সাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ঋণ-সালিশী বোর্ড গঠন করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা এবং দলটির গণমুখী চরিত্র ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যে নাম থেকে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দিয়ে 'আওয়ামী লীগ' নামকরণ করা হয়। এর ফলে সকল ধর্মের মানুষের জন্য এই রাজনৈতিক দলের দ্বার উন্মুক্ত হয় এবং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলে রূপ লাভ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ভুল কাজ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনতে শমসের আলীর ভূমিকা আমাদের পাঠ্যবইয়ে আলোচিত হাজী শরীয়তুল্লাহর 'ফরায়েজী আন্দোলন'-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    ঊনবিংশ শতাব্দীতে হাজী শরীয়তুল্লাহ তৎকালীন বাংলার মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত শিরক, বিদআত এবং অনৈসলামিক কুসংস্কার দূর করার জন্য ফরায়েজী আন্দোলন শুরু করেন। তিনি মুসলমানদের ইসলামের মূল ফরজ বা আবশ্যিক কর্তব্যসমূহ পালনে উদ্বুদ্ধ করেন এবং পীরপূজা, মাজারপূজা ও অনৈসলামিক রীতিনীতি পরিহারের আহ্বান জানান। উদ্দীপকের শমসের আলীও একইভাবে মাজারমুখী ও বিভ্রান্ত মুসলমানদের কুসংস্কার থেকে রক্ষা করে ধর্মের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মোতাহের আলীর কর্মকাণ্ডে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা নির্মাণ ও ইংরেজ-জমিদার বিরোধী সংগ্রামের প্রতিফলন দেখা যায়, যার মূল চেতনা বাংলাদেশের মুক্তি-সংগ্রামের সাথে গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    মোতাহের আলী অত্যাচারী ভূমি মালিক ও বিদেশি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিজস্ব বাহিনী এবং সুরক্ষিত ঘাঁটি তৈরি করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। একইভাবে ব্রিটিশ আমলে তিতুমীর অত্যাচারী জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে বাঁশের কেল্লা তৈরি করে প্রতিরোধ যুদ্ধ করেছিলেন। এই গণপ্রতিরোধের চেতনা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মানসিকতাই ধারাবাহিকভাবে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তি-সংগ্রামে মূর্ত হয়ে ওঠে।

    ১৯৭১ সালে বাঙালিরা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে নিজেদের ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলে এবং গেরিলা ও নিয়মিত বাহিনী (মুক্তিবাহিনী) গঠনের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। সুতরাং, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বাহিনী ও ঘাঁটি গড়ে তুলে স্বাধীনতা অর্জনের চেতনায় মোতাহের আলীর উদ্যোগের সাথে বাংলাদেশের মুক্তি-সংগ্রামের গভীর আদর্শিক সাদৃশ্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন