বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
গেরিলা বাহিনী যুদ্ধে জয় লাভ এবং সামরিক বাহিনীকে মোকাবিলা করার জন্য অনেক রকম সামরিক কৌশল ব্যবহার করে, যেমন অতর্কিত আক্রমণ, অন্তর্ঘাত, হানা, ক্ষুদ্র যুদ্ধ, হিট এবং রণ কৌশল ইত্যাদি।
- ক)(1)
পাকিস্তানের শরীরের কাঁটা কী?
- খ)(2)
পাকিস্তানিরা সিচুয়েশন নরমাল বলে রেডিও টিভিতে প্রচার চালাত কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে গেরিলা যুদ্ধের অতর্কিত আক্রমণ ও হানা কীভাবে 'রেইনকোট' গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের অন্তর্ঘাত এবং 'রেইনকোট' গল্পে কুলিদের সঙ্গে নুরুল হুদার আঁতাত তাকে স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে।"-মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তানের শরীরের কাঁটা হলো শহীদ মিনার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশে তাদের নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং সবকিছু স্বাভাবিক আছে—বিশ্ববাসীকে এমন মিথ্যা বার্তা দেওয়ার জন্য রেডিও-টিভিতে 'সিচুয়েশন নরমাল' বলে প্রচার চালাত।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতে অতর্কিত আক্রমণ চালাত এবং তাদের ভিত কাঁপিয়ে দিত। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নিজেদের পরাজয় ও অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা আড়াল করে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন ধরে রাখার জন্য বারবার প্রচার করত যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত গেরিলা যুদ্ধের অতর্কিত আক্রমণ ও হানা দেওয়ার দিকটি 'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযোদ্ধাদের ঢাকা কলেজে ট্রান্সফরমার ধ্বংসের অপারেশনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
গেরিলা যুদ্ধের মূল বৈশিষ্ট্য হলো সুযোগ বুঝে শত্রুকে অপ্রস্তুত অবস্থায় অতর্কিতে আক্রমণ করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া। এতে কম শক্তিতেও শত্রুর বড় ধরনের ক্ষতি করা সম্ভব হয়।
'রেইনকোট' গল্পে দেখা যায়, পাকিস্তানি বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই মুক্তিযোদ্ধারা এক বর্ষণমুখর রাতে ঢাকা কলেজের প্রাঙ্গণে অতর্কিতে হানা দেয়। তারা কলেজের পেছনে অবস্থিত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারটি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয় এবং দ্রুত সটকে পড়ে। এই আকস্মিক বিস্ফোরণে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসররা চরম আতঙ্কিত ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। উদ্দীপকে বর্ণিত অতর্কিত আক্রমণ ও হানার যে রণকৌশলের কথা বলা হয়েছে, 'রেইনকোট' গল্পের মুক্তিযোদ্ধাদের এই সফল অভিযান তারই বাস্তব প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড এবং 'রেইনকোট' গল্পে কুলিদের বেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নুরুল হুদার কাল্পনিক ও মনস্তাত্ত্বিক আঁতাত গল্পটিকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে—উক্তিটি তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
উদ্দীপকে গেরিলা যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে 'অন্তর্ঘাত' (sabotage)-এর উল্লেখ রয়েছে, যার লক্ষ্য শত্রুর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বা সম্পদ ধ্বংস করে তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া। 'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযোদ্ধারা কলেজের কুলিদের সাথে যোগসাজশে অতর্কিতে ট্রান্সফরমার উড়িয়ে দিয়ে নিখুঁত অন্তর্ঘাত ঘটায়।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও প্রিন্সিপাল এই অন্তর্ঘাতের ঘটনায় কলেজের সাধারণ ও নিরীহ শিক্ষক নুরুল হুদাকে সন্দেহ করে। তাদের ধারণা হয়, কুলিদের সাথে নুরুল হুদার আঁতাত রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে নুরুল হুদা কোনো প্রত্যক্ষ গেরিলা ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন ভীতু প্রকৃতির সাধারণ মানুষ। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী সন্দেহে ধরা পড়ার পর এবং শ্যালক মিন্টুর রেখে যাওয়া রেইনকোটটি গায়ে জড়ানোর পর তাঁর মানসিকতায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটে। চাবুকের নির্মম আঘাতের মুখেও তিনি পাকিস্তানিদের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের কিংবা কলেজ কুলিদের কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। বরং তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধাদের একজন ভাবেন এবং কুলিদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগটি গর্বের সাথে আত্মস্থ করেন।
এভাবে রক্তমাংসের ভীতু নুরুল হুদা শারীরিক নির্যাতনের মধ্যেও অন্তর্ঘাতকারীদের একজন হয়ে ওঠেন এবং দেশের স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হন। এই মানসিক রূপান্তর ও গভীর দেশপ্রেমের কারণেই নুরুল হুদা চরিত্রটি স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও